। (ক) “ডিমান্ড নোটিশ’ বলতে কি বুঝায়? এটা কিভাবে ৭ ধারার নোটিশ থেকে পৃথক? (খ) কিভাবে এবং কখন সার্টিফিকেট দেনাদার আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন? কিভাবে আপত্তি নিষ্পত্তি হবে? সার্টিফিকেট দাবী মেটানোর পূর্বে সার্টিফিকেট দেনাদার মারা গেলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি কি? (গ) Public Demand Recovery Act, 1913 এর ধারা ৪ ও ৬ অনুযায়ী কোনো সরকারি দাবী মোকদ্দমা দ্বারা রুদ্ধ নয় নিশ্চিত করতে সার্টিফিকেট অফিসারের কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি?
৩। (ক) “ডিমান্ড নোটিশ’ বলতে কি বুঝায়? এটা কিভাবে ৭ ধারার নোটিশ থেকে পৃথক?
(খ) কিভাবে এবং কখন সার্টিফিকেট দেনাদার আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন? কিভাবে আপত্তি
নিষ্পত্তি হবে? সার্টিফিকেট দাবী মেটানোর পূর্বে সার্টিফিকেট দেনাদার মারা গেলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি কি?
(গ) Public Demand Recovery
Act, 1913 এর ধারা ৪ ও ৬ অনুযায়ী কোনো সরকারি দাবী মোকদ্দমা দ্বারা রুদ্ধ নয় নিশ্চিত করতে সার্টিফিকেট অফিসারের কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি?
(ক) ডিমান্ড নোটিশ” বলতে কী বুঝায়?
১৯১৩ সালের Public Demands Recovery Act, 1913–এর প্রেক্ষাপটে “ডিমান্ড
নোটিশ” একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধারণা। যদিও এই শব্দটি আইনে
সর্বত্র সরাসরি সংজ্ঞায়িত নয়, বাস্তবে সরকারি দাবি আদায়ের প্রক্রিয়ায় এটি একটি প্রচলিত ও কার্যকর ধাপ।
ডিমান্ড নোটিশের অর্থ
ডিমান্ড
নোটিশ
(Demand Notice) হলো
এমন একটি লিখিত নোটিশ যার মাধ্যমে সরকার, আধা-সরকারি সংস্থা বা কোনো বৈধ
কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট
তাদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়।
অর্থাৎ, এটি একটি আনুষ্ঠানিক দাবি-পত্র (Formal Written
Demand), যার মাধ্যমে পাওনাদার কর্তৃপক্ষ দেনাদারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
ধারার নোটিশ কী?
পিডিআর আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী, যখন
সার্টিফিকেট অফিসার কোনো সরকারি দাবির ভিত্তিতে সার্টিফিকেট দাখিল করেন, তখন তিনি দেনাদারকে একটি আইনগত
নোটিশ
জারি করেন। দেনাদারকে জানানো যে তার বিরুদ্ধে
সার্টিফিকেট মামলা হয়েছে।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে)
আপত্তি দাখিলের সুযোগ প্রদান। দাবির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার নিশ্চিত করা।
আইনি ভিত্তির পার্থক্য
ডিমান্ড নোটিশ: সাধারণত প্রশাসনিক নির্দেশ। এটি
কোনো
নির্দিষ্ট ধারার
বাধ্যতামূলক নোটিশ
নয়
(যদি
অন্য
বিশেষ
আইনে
বাধ্যতামূলক না
করা
হয়)।
৭ ধারার নোটিশ: এটি
আইন
দ্বারা
বাধ্যতামূলক (statutory notice)। সার্টিফিকেট দাখিলের পর
সার্টিফিকেট অফিসার
অবশ্যই
এই
নোটিশ
জারি
করবেন।
অর্থাৎ, ডিমান্ড নোটিশ
প্রশাসনিক; ৭
ধারার
নোটিশ
আইনগতভাবে অপরিহার্য।
২. জারির সময়গত পার্থক্য
ডিমান্ড নোটিশ: সার্টিফিকেট মামলা
শুরু
হওয়ার
আগে
জারি
হয়।
৭ ধারার নোটিশ: সার্টিফিকেট দাখিলের পরে
জারি
হয়।
ডিমান্ড নোটিশ
প্রাক-মামলা ধাপ; ৭
ধারার
নোটিশ
মামলা
চলাকালীন ধাপ।
জারিকারী
ব্যক্তি ক্ষেত্রে পার্থক্য
ডিমান্ড নোটিশ: সংশ্লিষ্ট দপ্তর
বা
দাবিকারী কর্তৃপক্ষ (যেমন
রাজস্ব
অফিস)।
৭ ধারার নোটিশ: সার্টিফিকেট অফিসার।
৪. উদ্দেশ্যের পার্থক্য
ডিমান্ড নোটিশের উদ্দেশ্য: দেনাদারকে স্বেচ্ছায় অর্থ
পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করা।
৭ ধারার নোটিশের উদ্দেশ্য: দেনাদারকে আপত্তি
দাখিলের সুযোগ
প্রদান
করা
এবং
প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
ডিমান্ড নোটিশ ও ৭ ধারার
নোটিশের পার্থক্য
|
বিষয় |
ডিমান্ড নোটিশ |
৭ ধারার নোটিশ |
|
আইনি ভিত্তি |
প্রশাসনিক
পদক্ষেপ |
পিডিআর
আইনের বাধ্যতামূলক বিধান |
|
কখন জারি হয় |
সার্টিফিকেট
মামলার আগে |
সার্টিফিকেট
দাখিলের পরে |
|
কে জারি করে |
সংশ্লিষ্ট
বিভাগ/কর্তৃপক্ষ |
সার্টিফিকেট
অফিসার |
|
উদ্দেশ্য |
স্বেচ্ছায়
পরিশোধে উৎসাহিত করা |
আপত্তি
দাখিলের সুযোগ প্রদান |
|
অমান্য করলে ফল |
পরবর্তীতে
সার্টিফিকেট মামলা হতে পারে |
আপত্তি
না করলে দাবি চূড়ান্ত হতে পারে |
|
প্রকৃতি |
প্রশাসনিক |
আইনগত
ও বিচারিক |
উপসংহার
“ডিমান্ড নোটিশ” হলো সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
পক্ষ থেকে প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের জন্য প্রদত্ত একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত দাবি। এটি মূলত প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে দেনাদারকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ ও সতর্কতা প্রদান
করা হয়। অর্থ পরিশোধ না করলে পরবর্তী
পর্যায়ে ১৯১৩ সালের সরকারি দাবি আদায় আইনের অধীনে সার্টিফিকেট মামলা শুরু হতে পারে।
(খ) কিভাবে এবং কখন সার্টিফিকেট দেনাদার আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন? কিভাবে আপত্তি নিষ্পত্তি হবে? সার্টিফিকেট দাবী মেটানোর পূর্বে সার্টিফিকেট দেনাদার মারা গেলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি কি?
ভূমিকা
সার্টিফিকেট দাখিলের মাধ্যমে সরকার বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ
তাদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত আদায় করতে পারে। কিন্তু এই ক্ষমতা একতরফা
নয়; দেনাদারকে ৭ ধারার নোটিশ
প্রদান করে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতে হয়। ধারা ৯–এ আপত্তি
দাখিলের বিধান রয়েছে।
কখন আপত্তি উত্থাপন করা যায়?
(ক) ৭ ধারার নোটিশ প্রাপ্তির
পর
ধারা
৭
অনুযায়ী সার্টিফিকেট অফিসার
যখন
দেনাদারের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট দাখিলের পর
নোটিশ
জারি
করেন,
তখন—নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ
থেকে
নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে
(সাধারণত ৩০
দিনের
মধ্যে)দেনাদার আপত্তি দাখিল করতে
পারেন।
অর্থাৎ,
৭
ধারার
নোটিশই
আপত্তি
উত্থাপনের সূচনা
বিন্দু।
(খ) সময়সীমার
মধ্যে
সাধারণত—নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে
আপত্তি দাখিল করতে হয় (নোটিশে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী)।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি না করলে সার্টিফিকেট
চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে
বিলম্বের ক্ষেত্রে
যদি
যথাযথ
কারণ
থাকে
(যেমন
অসুস্থতা, নোটিশ
যথাযথভাবে না
পাওয়া),
তবে
বিলম্ব
মাফের
আবেদন
করা
যেতে
পারে।
তবে
তা
সার্টিফিকেট অফিসারের বিবেচনার উপর
নির্ভরশীল।
২. কীভাবে আপত্তি উত্থাপন করতে হয়?
(ক) লিখিত আবেদন (ধারা ৯)
ধারা ৯ অনুযায়ী—আপত্তি
অবশ্যই লিখিতভাবে দাখিল করতে হবে।তা সার্টিফিকেট অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে।দেনাদারের স্বাক্ষর থাকতে হবে।দাবির কোন অংশ অস্বীকার করা হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ
করতে হবে।
(খ) আপত্তির বিষয়বস্তু
সার্টিফিকেট দেনাদার নিম্নলিখিত ভিত্তিতে আপত্তি করতে পারেন—
১. সম্পূর্ণ দায় অস্বীকার
দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বা আইনবহির্ভূত।
২. আংশিক দায় স্বীকার
দাবির কিছু অংশ সঠিক, বাকি অংশ ভুল।
৩. ভুল হিসাব
দাবির পরিমাণ ভুল গণনা করা হয়েছে।
৪. পূর্বে পরিশোধ করা হয়েছে
দাবিকৃত অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
৫. দাবি তফসিলভুক্ত নয়
দাবিটি পিডিআর আইনের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি “সরকারি দাবি” নয়।
৬. এখতিয়ারগত ত্রুটি
সার্টিফিকেট অফিসারের এখতিয়ার নেই।
৩. আপত্তি দাখিলের পর প্রক্রিয়া
(ক) শুনানি
সার্টিফিকেট অফিসার উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেন।
(খ) প্রমাণ গ্রহণ
দলিল, হিসাবপত্র, সাক্ষ্য ইত্যাদি গ্রহণ করা হয়।
(গ) সিদ্ধান্ত
আপত্তি গ্রহণ করলে সার্টিফিকেট বাতিল বা সংশোধন হতে
পারে।আপত্তি খারিজ হলে সার্টিফিকেট বহাল থাকে।
৪. আপত্তি না করলে ফলাফল
নির্ধারিত সময়ে আপত্তি না করলে সার্টিফিকেট
কার্যত চূড়ান্ত হয়ে যায়।এরপর সম্পত্তি ক্রোক, বিক্রয়, বেতন কর্তন ইত্যাদি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।পরবর্তীতে দেওয়ানি আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
৫. গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দিক আপত্তির অধিকার প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের অংশ।
৭ ধারার নোটিশ ছাড়া আপত্তির সুযোগ সৃষ্টি হয় না।আপত্তি দাখিল না করলে দাবির
সত্যতা ধরে নেওয়া হয়। এটি দেওয়ানি আদালতের বিকল্প সংক্ষিপ্ত বিচারিক পদ্ধতি।
উপসংহার
সার্টিফিকেট দেনাদার ৭ ধারার নোটিশ
প্রাপ্তির পর নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে ধারা ৯ অনুযায়ী লিখিত
আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন। আপত্তির মাধ্যমে তিনি দাবির বৈধতা, পরিমাণ বা আইনগত ভিত্তি
চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। যথাসময়ে আপত্তি দাখিল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; অন্যথায় সার্টিফিকেট চূড়ান্ত হয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
কিভাবে
আপত্তি নিষ্পত্তি হবে?
১৯১৩ সালের Public Demands Recovery Act, 1913
(পিডিআর আইন) অনুযায়ী সার্টিফিকেট দেনাদার ধারা ৯–এ আপত্তি
উত্থাপন করতে পারেন। আপত্তি দাখিলের পর তা কীভাবে
নিষ্পত্তি হবে, সে বিষয়ে আইন
নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে।
পিডিআর আইন একটি সংক্ষিপ্ত (summary) বিচারিক প্রক্রিয়া হলেও, এটি একতরফা নয়। দেনাদারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে সার্টিফিকেট অফিসার দাবির সত্যতা ও বৈধতা যাচাই
করেন।
১. আপত্তি গ্রহণ ও নথিভুক্তকরণ
দেনাদার ধারা ৯ অনুযায়ী লিখিত
আপত্তি দাখিল করলে—সার্টিফিকেট অফিসার তা গ্রহণ করেন,
আপত্তির বিষয়বস্তু রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেন, প্রয়োজন হলে বাদী পক্ষ (Certificate-holder) কে অবহিত করেন।
২. শুনানির ব্যবস্থা
(ক) উভয় পক্ষকে নোটিশ
সার্টিফিকেট অফিসার উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।
(খ) ব্যক্তিগত হাজিরা বা প্রতিনিধির মাধ্যমে
উপস্থিতি
দেনাদার নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে
হাজির হতে পারেন। দাবিকারী কর্তৃপক্ষও প্রতিনিধি পাঠাতে পারে।
৩. তদন্ত প্রক্রিয়া
(ক) প্রমাণ গ্রহণ: দলিলপত্র, হিসাব বিবরণী, রসিদ, সাক্ষ্য গ্রহণ
করা হয়।
(খ) আইনগত প্রশ্ন নির্ধারণ
যদি আপত্তি আইনের ব্যাখ্যা বা এখতিয়ার সংক্রান্ত
হয়, তবে অফিসার তা নির্ধারণ করেন।
(গ) সারসংক্ষেপ বিচার (Summary Inquiry)
এই তদন্ত দেওয়ানি মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার নয়; বরং সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান।
৪. সিদ্ধান্ত প্রদান
তদন্ত শেষে সার্টিফিকেট অফিসার একটি লিখিত আদেশ প্রদান করেন।
(ক) আপত্তি গ্রহণ করলে
সার্টিফিকেট বাতিল হতে পারে অথবা দাবির পরিমাণ সংশোধন হতে পারে অথবা আংশিকভাবে বহাল থাকতে পারে।
(খ) আপত্তি খারিজ হলে
সার্টিফিকেট বহাল থাকে, কার্যকরী ব্যবস্থা (Execution) শুরু বা অব্যাহত থাকে।
৫. আদেশের প্রকৃতি
আদেশটি যুক্তিসংগত (reasoned
order) হতে হবে।প্রমাণ ও আইনের আলোকে
সিদ্ধান্ত দিতে হবে। এটি একটি বিচারিক আদেশ হিসেবে গণ্য।
৬. পরবর্তী প্রতিকার
যদি আপত্তি খারিজ হয়, দেনাদার—আপিল বা রিভিশন করতে
পারেন (যদি আইনে অনুমোদিত থাকে), সীমিত
ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে যেতে পারেন (যদি মৌলিক এখতিয়ারগত ত্রুটি থাকে)।
৭. আপত্তি না করলে
নির্ধারিত সময়ে আপত্তি না করলে তদন্তের
প্রয়োজন হয় না, সার্টিফিকেট চূড়ান্ত হয়ে কার্যকরী প্রক্রিয়া শুরু হয়।
উপসংহার
পিডিআর আইনের অধীনে আপত্তি নিষ্পত্তি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ন্যায়সঙ্গত বিচারিক প্রক্রিয়া। আপত্তি দাখিলের পর সার্টিফিকেট অফিসার
উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেন, প্রমাণ গ্রহণ করেন এবং যুক্তিসংগত আদেশ প্রদান করেন। আপত্তি গ্রহণ করলে সার্টিফিকেট বাতিল বা সংশোধন হয়;
খারিজ হলে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
প্রশ্ন: সার্টিফিকেট দাবী মেটানোর পূর্বে সার্টিফিকেট দেনাদার মারা গেলে পদ্ধতি কী?
১৯১৩ সালের Public Demands Recovery Act, 1913
(পিডিআর আইন) অনুযায়ী, সার্টিফিকেট কার্যক্রমের সময় যদি দেনাদার মারা যান, তবে দাবির আদায়ের প্রক্রিয়ায় কিছু বিশেষ বিধান প্রযোজ্য। এই বিধান নিশ্চিত
করে যে সরকারি বা
বৈধ দাবি নিহত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে আদায় করা যায় এবং প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের সুযোগও রক্ষা হয়।
১. মৃত্যুর পর দাবির বৈধতা
1. দায়
স্থায়ী
থাকেসার্টিফিকেট দেনাদারের মৃত্যু হলেও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি (মৌলিক ও অমৌলিক) থেকে
সরকারি দাবি আদায় করা যায়। অর্থাৎ, মৃত্যুর কারণে সার্টিফিকেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
2. উত্তরাধিকারীর
দায়িত্ব:
মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী (Legal
Representative/Executor) বা
প্রদত্ত ট্রাস্টি সার্টিফিকেটের দায় বহন করেন।তারা দেনাদারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দাবির পরিশোধের দায়ী হন।
২. প্রক্রিয়াগত ধাপ
(ক) সম্পত্তি চিহ্নিতকরণ
সার্টিফিকেট অফিসার মৃত দেনাদারের স্থাবর
ও
অস্থাবর
সম্পত্তি
চিহ্নিত করেন।এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—জমি, ভবন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, চলতি অর্থ, অন্যান্য দখলাধীন সম্পদ।স্থানীয় রেজিস্ট্রি বা প্রশাসনিক নথি
থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
(খ) উত্তরাধিকারীকে নোটিশ প্রদান
ধারা ৭–এর সমতুল্য
নোটিশ মৃত দেনাদারের উত্তরাধিকারী
বা
Executor কে
প্রদান করা হয়।নোটিশে উল্লেখ থাকে—দাবির পরিমাণ, দাবি আদায়ের সময়সীমা, আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ
(গ) উত্তরাধিকারীর আপত্তি
উত্তরাধিকারী ধারা ৯–এর মতো
আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন। আপত্তির ভিত্তি হতে পারে—
1. দাবির পরিমাণ ভুল গণনা হয়েছে
2. পূর্বে পরিশোধ হয়েছে
3. দাবিটি আইনের তফসিলভুক্ত নয়
4. সার্টিফিকেট অফিসারের এখতিয়ারগত ত্রুটি
(ঘ) শুনানি ও তদন্ত
সার্টিফিকেট অফিসার উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেন।প্রমাণ ও দলিল যাচাই
করা হয়। সংক্ষিপ্ত বিচারিক (summary) পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
(ঙ) সিদ্ধান্ত
1. আপত্তি
গ্রহণ
হলে
সার্টিফিকেট বাতিল বা সংশোধন হতে
পারে, দাবির পরিমাণ হ্রাস বা পুনর্গঠন হতে
পারে
2. আপত্তি
খারিজ
হলে
সার্টিফিকেট বহাল থাকে,মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে কার্যকরীভাবে দাবি আদায় করা হয়
৩. কার্যকরী ব্যবস্থা
মৃত দেনাদারের সম্পত্তি থেকে দাবির অর্থ ক্রোক বা বিক্রয় করা
যেতে পারে।ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্তন, জমি বিক্রয় বা অন্যান্য আইনি
ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।তবে দাবির সীমা শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত
সম্পত্তি
পর্যন্ত
সীমাবদ্ধ থাকে; উত্তরাধিকারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি আদায়ের জন্য ব্যবহার করা যায় না।
৪. বিশেষ বিষয়
1. মৃত্যুর কারণে সার্টিফিকেট
বাতিল
হয়
না;
বরং প্রক্রিয়া উত্তরাধিকারীর উপর স্থানান্তরিত হয়।
2. উত্তরাধিকারীর অধিকার ও আপত্তি নিশ্চিত
করা হয়।
3. যদি আপত্তি খারিজ হয়, তবে সীমিত ক্ষেত্রে রিভিশন বা দেওয়ানি আদালতের
দ্বার উন্মুক্ত থাকে।
৫. উপসংহার
সার্টিফিকেট দেনাদার মৃত্যুর পরও দাবি আদায়ের ক্ষমতা অব্যাহত থাকে। প্রক্রিয়া হলো—
মৃত দেনাদারের সম্পত্তি চিহ্নিতকরণ, উত্তরাধিকারীকে নোটিশ প্রদান, আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ প্রদান, শুনানি ও প্রমাণ যাচাই,
আপত্তি গ্রহণ বা খারিজের সিদ্ধান্ত,
মৃত দেনাদারের সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায়।
মূলনীতি:
মৃত
ব্যক্তির
সম্পত্তি
থেকে
দাবির
আদায়
সম্ভব,
তবে
উত্তরাধিকারীর
ন্যায়বিচারের
অধিকার
নিশ্চিত
করতে
হবে।
Public Demand Recovery Act, 1913 এর
ধারা ৪
ও ৬
অনুযায়ী কোনো
সরকারি দাবী
মোকদ্দমা দ্বারা
রুদ্ধ নয়
নিশ্চিত করতে
সার্টিফিকেট অফিসারের
কোনো বাধ্যবাধকতা
আছে কি?
হ্যাঁ,
Public Demands Recovery Act, 1913 (পিডিআর আইন, ১৯১৩) অনুযায়ী ধারা
৪
ও
৬–এর প্রেক্ষিতে সার্টিফিকেট অফিসারের কিছু
বাধ্যবাধকতা আছে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা
হলো—
১. ধারা ৪ ও ৬ সংক্ষেপে
ধারা ৪:
সরকারি
দাবিগুলো মোকদ্দমা দ্বারা বাধ্য নয় (barred by suit or legal proceedings) বা
ইতিমধ্যে আদালতে
চলমান
মামলার
কারণে
বাতিল
হবে
না।অর্থাৎ, সরকারি দাবি আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট মামলা শুরু করা যায়, যদিও
একই
বিষয়ে
অন্য
কোন
মামলার
প্রেক্ষিতে আরোপিত
নিষেধাজ্ঞা না
থাকে।
ধারা ৬:
সার্টিফিকেট অফিসারকে ক্ষমতা
দেয়
সরকারি দাবির সার্টিফিকেট দাখিল করার জন্য, এবং
ধার্যকৃত শর্তগুলি মেনে
তা
কার্যকর করতে।সার্টিফিকেট অফিসারকে নিশ্চিত করতে
হয়
যে—প্রদত্ত
দাবি বৈধ এবং চলমান মামলার কারণে রুদ্ধ নয়।
২. সার্টিফিকেট অফিসারের বাধ্যবাধকতা
১.
দাবির যাচাই:সার্টিফিকেট অফিসারের প্রথম
বাধ্যবাধকতা হলো
দাবির
সত্যতা
যাচাই
করা।নিশ্চিত করতে
হবে
যে
দাবি
সরকারি,
নির্ধারিত পরিমাণে, এবং
আইনের
দৃষ্টিতে বৈধ।
- চলমান
মামলা বা মামলা নিষিদ্ধতা যাচাই: সার্টিফিকেট অফিসারকে পরীক্ষা করতে হবে—এই দাবির বিষয়ে কি ইতিমধ্যেই আদালতে মামলা চলমান আছে। যদি কোনো মামলা চলমান থাকে বা আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে, তবে সার্টিফিকেট দাখিল করা আইনত অবৈধ হতে পারে।
- নোটিশ
প্রদান (ধারা ৭–এর সমতুল্য): দেনাদারের
নিকট যথাযথ নোটিশ দেওয়া। নিশ্চিত করতে হবে দেনাদার আইনগত প্রতিকার (আপত্তি) জানাতে পারে।
- প্রকৃত
তদন্ত ও স্বচ্ছতা: দাবিটি আদালতে রুদ্ধ নয় এবং বৈধ কিনা তা রেকর্ডে নথিভুক্ত করা।যদি দাবি বা দাখিলের সময় ত্রুটি থাকে, দায়িত্ব সার্টিফিকেট অফিসারের উপর থাকবে।
No comments