৬. (ক) অকৃষি রাজা
কে?
কোন
কোন
উদ্দেশ্যে একজন
অকৃষি
প্রজা
অকৃষি
জমি
দখলে
রাখতে
পারবে।
(খ) যায় বছরের কম নয় এরূপ অকৃষি প্রজাস্বত্বের পরিণতি আলোচনা কর।
অকৃষি
প্রজা কে?
“অকৃষি প্রজা”
বলতে
বোঝায়
সেই
ব্যক্তি যিনি
কৃষি কাজের জন্য নয়, বরং
অকৃষি কাজে জমি দখল বা ব্যবহার করে।অর্থাৎ, এই ব্যক্তি চাষাবাদী জমির প্রজা নয়, বরং
জমি
ব্যবহার করে
বসতি,
ব্যবসা,
শিল্প
বা
অন্যান্য অ-কৃষি উদ্দেশ্যে।আইন ও
প্রজাস্বত্ব সংক্রান্ত নথিতে
তাকে
আলাদা
শ্রেণিতে ধরা
হয়েছে,
কারণ
তার
অধিকার
ও
দায়িত্ব কৃষি
প্রজার
থেকে
আলাদা।
অকৃষি প্রজা (Non-agricultural
Tenant)
অকৃষি প্রজা হল সেই ব্যক্তি
যিনি কৃষি উদ্দেশ্যে নয়, অর্থাৎ চাষাবাদ ছাড়া অন্য কাজে জমি ব্যবহার করার জন্য দখল করেন। উদাহরণ: বসতি, ব্যবসা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কলকারখানা ইত্যাদি
অকৃষি জমি
অকৃষি জমি হল সেই জমি
যা কৃষি বা ফসল চাষের জন্য ব্যবহার করা হয় না, বরং অকৃষি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
কোন
কোন
উদ্দেশ্যে একজন
অকৃষি
প্রজা
অকৃষি
জমি
দখলে
রাখতে
পারবে।
বাংলাদেশের কৃষি
ও
জমি
সংক্রান্ত আইন
অনুযায়ী, সাধারণভাবে “অকৃষি
প্রজা”
(যারা
কৃষক
নয়)
সাধারণত অকৃষি
জমি
দখল
করতে
পারবে
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু
উদ্দেশ্যে। এগুলো
মূলত
সরকারি
বা
সামাজিক নীতির
সঙ্গে
সম্পর্কিত, যেমন:
- শহর
বা বসতি সম্প্রসারণের জন্য – যদি জমিটি শহর বা গ্রাম উন্নয়ন, আবাসিক বা শিল্প এলাকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- শিক্ষা
বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রকল্প – যেমন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক ইত্যাদি স্থাপন।
- সামাজিক
বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন – যেমন মসজিদ, মন্দির, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার।
- সরকারি
বা আধাসরকারি প্রকল্প – সড়ক, নালা, জল সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ, বা অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
- বাণিজ্যিক
বা শিল্প কার্যক্রম – যদি স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন থাকে এবং এটি কৃষি উদ্দেশ্যে নয়।
শর্ত:
- জমি দখলের জন্য প্রযোজ্য
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকতে হবে।
- জমি কেবল নির্দিষ্ট
উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হবে; কৃষি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
- প্রয়োজনে
সরকার বা স্থানীয় ভূমি অফিস জমি পুনরায় অধিগ্রহণ করতে পারে।
(খ) যায়
বছরের
কম
নয়
এরূপ
অকৃষি
প্রজাস্বত্বের পরিণতি
আলোচনা
কর।
:
১. স্বত্ব স্থায়িত্ব
যদি
অকৃষি
প্রজা
১
বছরের
কম
নয়
জমি
দখল
রাখে,
তার
কোনও আংশিক বা অস্থায়ী স্বত্ব নেই, বরং
স্বত্ব
আইনগতভাবে স্বীকৃত হয়।এর
ফলে
জমি
নিষিদ্ধভাবে দখল হওয়ার ঝুঁকি কমে, কারণ
স্বত্ব
আইন
অনুযায়ী রেকর্ডে স্থায়ী হয়।
২. ভূমি পুনরুদ্ধারের সীমাবদ্ধতা
সরকার
বা
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিকভাবে ওই
জমি
দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারে, তবে
স্বত্বকাল ১
বছরের
কম
নয়
হলে
প্রমাণ ও অধিকার হ্রাস পেতে পারে।অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় জমি
দখল
থাকলে
পরে
প্রশাসনিক বা
আদালতের মাধ্যমে দখল
উদ্ধার
করা
কঠিন
হতে
পারে।
৩. অধিকার হস্তান্তর ও বিক্রি
১
বছরের
কম
নয়
সময়
ধরে
দখল
থাকলে
প্রজা
অধিকার হস্তান্তর বা বিক্রয় করতে
পারে,
তবে
এটি
কেবল নির্ধারিত উদ্দেশ্যে হতে
হবে
(অকৃষি
উদ্দেশ্য)।কৃষি
উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে
এটি
আইনগত
সমস্যা
তৈরি
করতে
পারে।
৪. সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
দীর্ঘমেয়াদী দখল
প্রায়ই জমি
মূল্যের উপর
প্রভাব
ফেলে,
বিশেষ
করে
শহরায়ন বা
শিল্পাঞ্চলে।স্থানীয় প্রশাসন বা
কমিউনিটি স্বত্ব
প্রমাণ
না
থাকলে
পরে
জমি
নিয়ে
বিরোধ ও সংঘাত সৃষ্টি
হতে
পারে।
পরিশেষে
“১
বছরের
কম
নয়”
সময়
ধরে
অকৃষি
প্রজা
জমি
দখল
রাখলে
তার
স্বত্ব
আইনগতভাবে স্বীকৃত হয়,
জমি
বিক্রয় বা
হস্তান্তরের অধিকার
তৈরি
হয়,
কিন্তু
কেবল নির্ধারিত অকৃষি উদ্দেশ্যের জন্যই ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় সরকার
পুনরুদ্ধার বা
মামলা
করতে
পারে।
গ)
রমেশ,
একজন
হিন্দু
বিধবা
হতে
অধিকার
প্রাপ্ত হয়ে
বিধবার
জমিতে
কিছু
ভবন
এবং
উন্নয়নমূলক কর্ম
সম্পাদন করে।
হিন্দু
বিধবার
মৃত্যুর পর
রমেশ
তার
জীবনকালে তার
সম্মতিতে নির্মিত ভবনগুলো অপসারণ
করতে
চান।
কিন্তু
উক্ত
জমির
মালিকগণ এতে
আপত্তি
জানান।
রমেশ
এখন
এই
মর্মে
মামলা
করতে
চান।
তিনি
কি
সফল
হবেন?
ছ
থেকে
উপভোগ্য অধিকার (usufruct / life interest) পেয়েছেন।
- তিনি বিধবার জীবদ্দশায়
জমিতে ভবন ও উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করেছেন।
- মূল
মালিকানা বা জমির সার্বভৌম অধিকার এখনও বিধবার মৃত্যুপর বিধবার উত্তরাধিকারীদের কাছে যায়।
- রমেশ জমির
স্থায়ী মালিক নন, কেবল জীবনকালের সুবিধা ও ব্যবহার অধিকারী।
২. জীবনকালীন অধিকার ও স্থায়ী নির্মাণ
- লাইফ
ইন্টারেস্ট বা জীবনকালীন অধিকার অনুযায়ী:
- রমেশ জমি ব্যবহার
করতে পারতেন, তবে জমি বিক্রি বা স্থায়ী পরিবর্তন করার অধিকার নেই।
- তিনি যদি নিজের খরচে ভবন নির্মাণ
করেন, সাধারণভাবে নতুন স্থায়ী নির্মাণের মালিকানা জমির মালিকের দখলে আসে।
- অর্থাৎ, ভবনগুলো জমির
অংশে স্থায়ী, এবং এগুলো অপসারণ করতে হলে মালিকদের সম্মতি প্রয়োজন।
৩. মালিকদের অধিকার
- হিন্দু বিধবার মৃত্যুর পর জমির স্বত্ব
উত্তরাধিকারীদের কাছে স্থানান্তরিত হয়।
- এই অবস্থায়:
- তারা জমির
স্থায়ী উন্নয়ন রক্ষা করার অধিকারী,
- রমেশের অনুমতি ছাড়া ভবন
অপসারণ বা জমিতে পরিবর্তন আইনত সম্ভব নয়।
- আইনগত
যুক্তি:
1.
Bangladesh
Hindu Succession Act, 1956: Life
interest প্রয়োগকারীকে শুধুমাত্র “use and enjoy” অধিকার দেওয়া
হয়;
স্থায়ী নির্মাণ বা
অপসারণের অধিকার
দেয়
না।
2.
সিভিল আইন (Bangladesh Contract & Property Principles): স্থায়ী নির্মাণ সম্পত্তি হিসেবে
গণ্য
হয়;
মালিক
ছাড়া
অপসারণ
করা
বেআইনি।
৪. রমেশের মামলা সফল হবে কি?
- রমেশ মামলায়
সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
- কারণ:
- তিনি জমির মালিক
নন, কেবল জীবনকালীন ব্যবহার অধিকারী।
- ভবন ও উন্নয়নমূলক
কাজ স্থায়ী সম্পত্তি, মালিকদের সম্মতি ছাড়া অপসারণ সম্ভব নয়।
- Life interest প্রয়োগকারীকে শুধুমাত্র জমি ব্যবহার ও উপভোগ করার অধিকার দেওয়া হয়, স্থায়ী পরিবর্তনের নয়।
৫. প্রয়োগযোগ্য যুক্তি (সপক্ষে)
- আইনি
সীমাবদ্ধতা: Life interest মালিকানা তৈরি করে না; এটি শুধুমাত্র ব্যবহার অধিকার নিশ্চিত করে।
- স্থায়ী
উন্নয়ন: ভবনগুলো মালিকদের সম্পত্তি হিসাবে রূপান্তরিত হয়, তাই অপসারণ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
- বৈধ
স্বার্থ: মালিকরা জমি ও
ভবনের স্থায়ী স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন; রমেশের দাবি এই ক্ষেত্রে অসফল।
পরিশেষে,
রমেশ
শুধুমাত্র জমি
ব্যবহার করতে
পারতেন;
ভবন
বা
স্থায়ী উন্নয়ন অপসারণের কোনো
স্বতন্ত্র অধিকার
নেই।
মালিকগণ এটি
রোধ
করলে
আইনের
দিক
থেকে
রমেশ
মামলায় জয়ী হবেন না।
No comments