Header Ads

Header ADS

কূটনৈতিক আইন কাকে বলে? কূটনৈতিক প্রতিনিধি কারা এবং তাদের অধিকার ও বিমুক্তি অধিকারসমূহ কী কী? কখন বা কী পরিস্থিতিতে একটি রাষ্ট্র কোনো এক বিশেষ দূতকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে?“পারসোনা নন গ্রাটা” ও “কূটনৈতিক কর্পস এর ডীন” বলতে কী বুঝ? অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত একজন বিদেশি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে?

 

কূটনৈতিক আইন কাকে বলেকূটনৈতিক প্রতিনিধি কারা এবং তাদের অধিকার  বিমুক্তি অধিকারসমূহ কী কীকখন বা কী পরিস্থিতিতে একটি রাষ্ট্র কোনো এক বিশেষ দূতকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে?“পারসোনা নন গ্রাটা”  “কূটনৈতিক কর্পস এর ডীন” বলতে কী বুঝঅপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত একজন বিদেশি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে?

 কূটনৈতিক আইন কাকে বলে

সংজ্ঞা

কূটনৈতিক আইন হলো আন্তর্জাতিক আইনের একটি শাখা, যা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরিচালনা এবং সুরক্ষার নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।এটি মূলত রাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধি (দূতাবাস, রাষ্ট্রদূত) এবং কূটনৈতিক সংস্থা সংক্রান্ত অধিকার দায়বদ্ধতা সংজ্ঞায়িত করে।কূটনৈতিক আইন নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা, যোগাযোগ শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে।

পরিশেষে, কূটনৈতিক আইন হলো দূতাবাস, রাষ্ট্রদূত কূটনৈতিক সম্পর্কের আইনি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা।

 

কূটনৈতিক প্রতিনিধি কারা

কূটনৈতিক প্রতিনিধিবলতে সাধারণত সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যারা একটি দেশের হয়ে অন্য দেশে বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় সরকারি কূটনৈতিক কাজ করে। সহজভাবে বলতে গেলে, তারা দেশের অফিসিয়ালপ্রতিনিধিযাদের কাজ কূটনীতি, সম্পর্ক বজায় রাখা, এবং দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধরণ:

  1. রাষ্ট্রদূত (Ambassador)সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কের কূটনৈতিক প্রতিনিধি। একজন রাষ্ট্রদূত অন্য দেশে দেশের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে থাকেন।
  2. উপ-রাষ্ট্রদূত বা মিশন প্রধান (Deputy Chief of Mission)রাষ্ট্রদূতের পরে যিনি কূটনৈতিক মিশনের কাজ দেখেন।
  3. কনসুল (Consul)সাধারণত নাগরিক সেবা, ভিসা ইস্যু, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইত্যাদি দেখেন।
  4. দূত (Minister/Envoy)কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের অধীনে কাজ করেন।
  5. কূটনৈতিক সংযুক্ত কর্মকর্তা (Attaché)বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র যেমন সামরিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনীতি ইত্যাদিতে

কূটনৈতিক প্রতিনিধি অধিকার কি কি

কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের (যেমন রাষ্ট্রদূত, কনসুল, দূত) আন্তর্জাতিক কূটনীতি ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কিছু বিশেষ অধিকার সুরক্ষা থাকে। এগুলো মূলত তাদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দেয়া হয়।

প্রধান কূটনৈতিক অধিকারসমূহ:

1.      কূটনৈতিক অভিসরণ (Diplomatic Immunity)

তারা সাধারণ দেশের আইন দ্বারা দণ্ডিত হতে পারেন না।ব্যক্তিগত অপরাধ (যেমন ডাকাতি) এর ক্ষেত্রে সাধারণত তাদের দেশে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

2.      কূটনৈতিক প্রতিরক্ষা (Inviolability)

কূটনৈতিক মিশন স্থাপনা (যেমন দূতাবাস) সরকারের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যায় না।দূত বা রাষ্ট্রদূতের বাড়ি অফিসেও সরকার বা পুলিশ প্রবেশ করতে পারে না।

3.      কূটনৈতিক কোষাগার (Freedom of Communication)দূতাবাসের ডাক এবং টেলিযোগাযোগ গোপন রাখা হয়।সরকারি কাজের জন্য চিঠিপত্র বা বার্তা যাচাই করা যায় না।

4.      কূটনৈতিক যাতায়াতের সুবিধা (Freedom of Movement)তারা দেশভিত্তিক ভিসা বা সীমাবদ্ধতা ছাড়া নিজের কূটনৈতিক কাজ করতে পারে।

5.      কূটনৈতিক সন্মান (Privilege & Respect)দেশ তাদের সন্মান বজায় রাখে, হেনস্থা বা কোনো ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

6.      সীমিত কর শুল্ক সুবিধা (Exemptions)কূটনৈতিক কাজের জন্য আনীত সামগ্রী বা যানবাহন শুল্ক বা কর মুক্ত হতে পারে

কূটনৈতিক প্রতিনিধি বিমুক্তি অধিকারসমূহ কী কী?

কূটনৈতিক প্রতিনিধির বিমুক্তি অধিকার (Diplomatic Privileges/Immunities) মূলত তাদের কূটনৈতিক কাজ নির্বিঘ্নে করার জন্য আইন শুল্ক থেকে রক্ষা করে। এগুলো ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৬১ অনুযায়ী নির্ধারিত।

প্রধান বিমুক্তি অধিকারসমূহ:

1.      কূটনৈতিক অভিসরণ (Diplomatic Immunity)

কূটনৈতিক প্রতিনিধি স্থানীয় আইন বিচারব্যবস্থা থেকে মুক্ত থাকেন।সাধারণত কোনো দেশে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চালানো যায় না।

2.      ব্যক্তিগত নিরাপত্তা (Personal Inviolability)

কূটনীতিককে আঘাত করা, আটক করা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না।

3.      কূটনৈতিক স্থান স্থাপনার সুরক্ষা (Inviolability of Diplomatic Premises)

দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশন সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যায় না।অফিস, কক্ষে বা কূটনৈতিক যানবাহনে হস্তক্ষেপ করা নিষেধ।

4.      কূটনৈতিক যোগাযোগের সুরক্ষা (Freedom of Communication)দূতাবাসের ডাক, টেলিগ্রাম, ইমেল, ফোন ইত্যাদি গোপন নিরাপদ থাকে।সরকারি কাজে ব্যবহার করা যেকোনো বার্তা পরীক্ষা বা আটকানো যাবে না

5.      কর শুল্ক মুক্তি (Exemption from Taxes and Customs Duties)ব্যক্তিগত বা সরকারি কাজে আনীত সামগ্রী বা যানবাহন শুল্ক কর থেকে মুক্ত থাকে

6.      যাতায়াতের সুবিধা (Freedom of Movement)কূটনীতিকদের সীমাবদ্ধতা ছাড়া কাজের জন্য চলাচল করার অধিকার থাকে।প্রয়োজনে ভিসা বা অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারেন।

7.      আনুষ্ঠানিক পারিবারিক বিমুক্তি (Privileges for Family Members)কূটনীতিকের স্বামী/স্ত্রী, সন্তানদেরও কিছু বিমুক্তি সুবিধা দেওয়া হয়।

কখন বা কী পরিস্থিতিতে একটি রাষ্ট্র কোনো এক বিশেষ দূতকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে

একটি রাষ্ট্র কোনো বিশেষ দূতকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি “Persona non grata” (প্রিয় নয় এমন ব্যক্তি)” ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৬১ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র নীচের পরিস্থিতিতে দূতকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করতে পারে:

দূতকে অস্বীকৃতি জানানোর কারণসমূহ:

1.      রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা স্বার্থের হুমকি: যদি সেই দূত গ্রহণকারী দেশের নিরাপত্তা বা রাজনীতি, কূটনৈতিক স্বার্থে সমস্যা সৃষ্টি করে

2.      অশোভন বা অবাঞ্ছিত আচরণ: দূত যদি অন্যায় আচরণ করে, স্থানীয় আইন ভঙ্গ করে বা কূটনৈতিক মর্যাদা রক্ষা না করে

3.      কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি: দুই দেশের মধ্যে যদি কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়, তখন দূতকে Persona non grata ঘোষণা করা হতে পারে।

4.      রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বা নীতি সম্পর্কিত কারণ: দূতের নৈতিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক আচরণ স্থানীয় সরকারের নীতির সঙ্গে অসঙ্গত হলে।

পারসোনা নন গ্রাটা  “কূটনৈতিক কর্পস এর ডীন” বলতে কী বুঝ

পারসোনা নন গ্রাটা 

Persona non grataহলো ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ প্রিয় নয় এমন ব্যক্তি
কূটনৈতিক পরিভাষায় এর অর্থ:একটি রাষ্ট্র কোনো বিশেষ দূত বা কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে দেশের ভূখণ্ডে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে না অর্থাৎ, দূত বা কূটনীতিককে স্বাভাবিকভাবে কূটনৈতিক কাজ চালাতে বা দেশে থাকার অধিকার নেই।

 

 আইনগত ভিত্তি:

·         এই ধারণা ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস ১৯৬১- উল্লেখ আছে।

·         রাষ্ট্রের সর্বশেষ পূর্ণ ক্ষমতা আছে যে তারা কোনো দূতকে Persona non grata ঘোষণা করতে পারে।

·         রাষ্ট্রকে কোনো কারণ জানানো বাধ্যতামূলক নয়।

 

 কেন বা কখন করা হয়

কোনো রাষ্ট্র নিম্নলিখিত কারণে দূতকে Persona non grata ঘোষণা করতে পারে:

1.      নিরাপত্তা বা স্বার্থের হুমকি:দূত যদি দেশের নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক স্বার্থে হুমকি সৃষ্টি করে।

2.      অবাঞ্ছিত বা অশোভন আচরণ: আইন লঙ্ঘন, স্থানীয় প্রশাসনের বাধা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ।

3.      রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব: দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হলে।

4.      নীতিগত বা সামাজিক কারণে:দূতের আচরণ দেশের নীতি বা সামাজিক মানের সঙ্গে মানানসই না হলে।

 

প্রক্রিয়া

1.      নোটিফিকেশন (Notification)রাষ্ট্র একটি নোট পাঠায়: “এই দূত Persona non grata

2.      সময়সীমা (Time Frame): দূতকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে হয়

3.      ফলাফল (Result):দূতকে কূটনৈতিক কার্যক্রম চালানো থেকে বিরত থাকতে হয়।সাধারণত দূতকে ফেরত ডাকতে বা বদলাতে হয়।

 

প্রভাব

দূতের ওপর: কার্যত দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য।দুই দেশের সম্পর্কের ওপর: এটা কূটনৈতিক চাপ বা সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে: এটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী কূটনৈতিক হাতিয়ার।

 

 উদাহরণ

·         কোনো দূত যদি সরকারি নীতি লঙ্ঘন বা গোপন তথ্য চুরি করে।

·         কোনো দূত যদি স্থানীয় আইন বা কূটনৈতিক নিয়ম ভঙ্গ করে।

কূটনৈতিক কর্পসের ডীন

সংজ্ঞা

Dean of the Diplomatic Corps হলো কোনো দেশে থাকা কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ বা সিনিয়র রাষ্ট্রদূত, যিনি অন্য সব দূতাবাস কূটনীতিকদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সহজভাবে বলা যায়, এটা দেশে কূটনৈতিক সম্প্রদায়েরপ্রধান বা নেতা

 

 আইনগত প্রথাগত ভিত্তি: এই পদ ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৬১ অনুযায়ী নির্ধারিত।মূলত প্রটোকল আনুষ্ঠানিকতার জন্য এই পদ ব্যবহৃত হয়।পদটি সাধারণত সিনিয়রিটি (দূত হিসেবে কাজের সময়কাল) অনুযায়ী পাওয়া যায়।অর্থাৎ সবচেয়ে দীর্ঘদিন যিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছেন, তিনি Dean হন।

 

 ভূমিকা দায়িত্ব

কূটনৈতিক কর্পসের ডীনের প্রধান কাজগুলো:

1.      প্রতিনিধিত্ব (Representation):রাষ্ট্রের সরকার কূটনীতিকদের মধ্যে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা।বিশেষ অনুষ্ঠান বা কূটনৈতিক বৈঠকে কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া

2.      সমন্বয় (Coordination):দেশে থাকা সকল দূতাবাস কূটনীতিকদের মধ্যে কাজ প্রটোকল সংক্রান্ত সমন্বয় করা

3.      নতুন দূতের স্বাগত (Welcoming New Diplomats):নতুন রাষ্ট্রদূত বা দূতাবাস শুরু হলে উপযুক্তভাবে স্বাগত জানান পরিচয় করিয়ে দেন।

4.      কূটনৈতিক অভিযোগ বা সমস্যা সমাধান (Mediator Role): দেশের সরকার দূতাবাসের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা বা অসুবিধা হয়, তবে তা সমাধানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারেন।

5.      আনুষ্ঠানিক প্রটোকল সংক্রান্ত দায়িত্ব: রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রদূতদের ্যাংকিং, প্রটোকল ব্যবস্থা ইত্যাদি দেখাশোনা করা।

 

 নির্বাচন প্রক্রিয়া

Dean সাধারণত সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হন।কোনো ভোট বা অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।কিছু দেশে কনভেনশন অনুযায়ী রোমান ক্যাথলিক রাষ্ট্র বা দীর্ঘকালীন দূতকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে, কিন্তু প্রধান ভিত্তি হলো দূত হিসেবে থাকা সময়কাল।

 

 প্রভাব

·         কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ডীন = “প্রটোকলের মুখ

·         দেশের সরকার দূতাবাসের মধ্যে মধ্যস্থতার কাজ করে, যা কূটনীতি সহজ করে।

·         আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিকতা ডীনের উপস্থিতি বা অনুমোদন ছাড়া সম্পন্ন হয় না।

 

উদাহরণ

কোনো দেশে ৫০টি দূতাবাস আছে।যারা সব থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছে, তাকে Dean হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানা হয়। নতুন রাষ্ট্রদূতরা প্রথমবারের মতো দেশ আসলে Dean তাকে স্বাগত জানান এবং আনুষ্ঠানিক পরিচয় করান।

 

অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত একজন বিদেশি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে?

 

বিদেশি কূটনীতিক এবং অপরাধমূলক কাজ: আইন ব্যবস্থা

বিদেশি কূটনীতিকরা ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি (Diplomatic Immunity) এর অধীনে থাকেন। এর অর্থ হলো তারা সাধারণ দেশের আইন বিচারব্যবস্থার আওতায় পড়ে না এটি আন্তর্জাতিকভাবে ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস ১৯৬১ দ্বারা নির্ধারিত।

কূটনৈতিক বিমুক্তি (Diplomatic Immunity): কূটনীতিক স্থানীয় আইন বিচারব্যবস্থা থেকে মুক্ত।অর্থাৎ, সাধারণ অপরাধের জন্য তাকে গ্রেফতার বা সাজা দেওয়া যায় না।এমনকি হত্যার মতো গুরুতর অপরাধেও, হোস্ট দেশ সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে না।কূটনীতিকের ওপর স্থানীয় আইন প্রয়োগ করার অনুমতি শুধুমাত্র তার নিজ দেশে তার সরকার অনুমতি দিলে সম্ভব।

 

 হোস্ট দেশের বিকল্প ব্যবস্থা

() Persona non grata ঘোষণা করা

সবচেয়ে প্রচলিত এবং শক্তিশালী ব্যবস্থা।রাষ্ট্র কূটনীতিককে Persona non grata (অপ্রিয় ব্যক্তি) ঘোষণা করে।এরপর তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।রাষ্ট্রকে কোনও কারণ জানানো বাধ্যতামূলক নয়।লক্ষ্য হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা।

() কূটনীতিকের দেশে অভিযোগ পাঠানো: হোস্ট দেশ কূটনীতিকের নিজ দেশে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করে। এতে বলা হয় যে, কূটনীতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, এবং অনুরোধ করা হয় প্রত্যাহার বা শাস্তি নেওয়ার জন্য।

() কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমাধান: হোস্ট দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে মধ্যস্থতা বা সমঝোতার চেষ্টা করা।উদাহরণ: দূতকে কর্মস্থল পরিবর্তন, পদত্যাগ বা দেশে ফেরত পাঠানো।

() পরবর্তী যাতায়াত সীমাবদ্ধ করা: অপরাধী কূটনীতিককে ভবিষ্যতে দেশে প্রবেশ বা কার্যক্রম সীমিত করা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দূতের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

হোস্ট দেশের সীমাবদ্ধতা

সীমাবদ্ধতা

ব্যাখ্যা

সরাসরি গ্রেফতার

কূটনীতিককে স্থানীয় পুলিশ ধরে রাখতে পারে না।

বিচার করা

আদালত তাকে দণ্ড দিতে বা মামলা চালাতে পারবে না।

জেল বা জরিমানা

কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া যায় না।

অর্থাৎ, হোস্ট দেশের হাতে Persona non grata ঘোষণা কূটনৈতিক চাপ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নেই।


 

উদাহরণ

1.      গোপন তথ্য চুরি করা: হোস্ট দেশ দূতকে Persona non grata ঘোষণা করে এবং দেশে ফেরত পাঠায়।

2.      অর্থ পাচার বা দুর্নীতি: হোস্ট দেশ আইন প্রয়োগ করতে পারবে না, তবে অভিযোগ প্রেরণ প্রত্যাহার করতে পারে।

3.      সামাজিক বা শারীরিকভাবে গুরুতর অপরাধ (যেমন সহিংসতা, হত্যা): Persona non grata ঘোষণা করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।পরবর্তীতে কূটনীতিকের নিজ দেশে মামলা বা শাস্তি হতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.