একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল বলতে কী বুঝ? এই অঞ্চলে উপকূলীয় রাষ্ট্রের এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের অধিকার এবং কর্তব্যসমূহ আলোচনা কর।
গ্রুপ -বি
১। একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল
বলতে
কী
বুঝ?
এই
অঞ্চলে
উপকূলীয় রাষ্ট্রের এবং
অন্যান্য রাষ্ট্রের অধিকার
এবং
কর্তব্যসমূহ আলোচনা
কর।
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive Economic Zone – EEZ) কী?
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো
সমুদ্রের এমন
একটি
অঞ্চল,
যা
কোনো
উপকূলীয় রাষ্ট্রের ভিত্তিরেখা (Baseline)
থেকে
সর্বোচ্চ ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত we¯Í…Z।
এই
অঞ্চলে
উপকূলীয় রাষ্ট্র অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশেষ অধিকার ভোগ
করে,
তবে
এটি
রাষ্ট্রের পূর্ণ
সার্বভৌম এলাকা
নয়।
এই
ধারণাটি স্বীকৃতি পায়
১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS)-এর মাধ্যমে।
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার
১. প্রাকৃতিক সম্পদের উপর একচ্ছত্র অধিকার :উপকূলীয় রাষ্ট্র EEZ-এর
সমুদ্রের পানি,
সমুদ্রতল ও
সমুদ্রতলের নিচে
অবস্থিত সব
জীবিত (মাছ, শৈবাল, সামুদ্রিক প্রাণী) ও অজীব (তেল, গ্যাস, খনিজ) সম্পদের অনুসন্ধান, আহরণ,
ব্যবহার ও
সংরক্ষণের অধিকার
ভোগ
করে।
অন্য
কোনো
রাষ্ট্র অনুমতি
ছাড়া
এসব
সম্পদ
ব্যবহার করতে
পারে
না।
২. অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার
উপকূলীয় রাষ্ট্র মাছ
ধরার
নিয়ন্ত্রণ, তেল
ও
গ্যাস
উত্তোলন, সামুদ্রিক শক্তি
(বায়ু,
জোয়ার-ভাটা, তরঙ্গ) উৎপাদন
করতে
পারে।
এসব
কর্মকাণ্ড থেকে
অর্থনৈতিক লাভের
একচ্ছত্র অধিকার
তারই
থাকে।
৩. কৃত্রিম দ্বীপ ও স্থাপনা নির্মাণের অধিকার
উপকূলীয় রাষ্ট্র কৃত্রিম দ্বীপ,
তেল
প্ল্যাটফর্ম, বন্দর
ও
অন্যান্য স্থাপনানির্মাণ, ব্যবহার ও
নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে।
এসব
স্থাপনার চারপাশে নিরাপত্তা অঞ্চল
ঘোষণাও
করতে
পারে।
৪. সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর নিয়ন্ত্রন
EEZ-এ কোনো
বিদেশি
রাষ্ট্র বা
সংস্থা
গবেষণা
করতে
চাইলে
উপকূলীয় রাষ্ট্রের অনুমতি বাধ্যতামূলক। এতে করে
রাষ্ট্র তার
অর্থনৈতিক ও
পরিবেশগত স্বার্থ রক্ষা
করতে
পারে।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার
উপকূলীয় রাষ্ট্র সামুদ্রিক দূষণ
প্রতিরোধ, পরিবেশ
সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষার
জন্য
আইন
প্রণয়ন ও
বাস্তবায়ন করতে
পারে।
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে উপকূলীয় রাষ্ট্রের কর্তব্য
১. প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবহার :উপকূলীয় রাষ্ট্রকে অতিরিক্ত মাছ
শিকার
রোধ
করতে
হবে,
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য
সম্পদ
সংরক্ষণ করতে
হবে।
২. অন্যান্য রাষ্ট্রের অধিকার সম্মান করা
EEZ পূর্ণ সার্বভৌম এলাকা
নয়
বলে
অন্যান্য রাষ্ট্রের নৌচলাচল ও
আকাশপথ
ব্যবহারে অযথা
বাধা
দেওয়া
যাবে
না।
৩. আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতা মানা
উপকূলীয় রাষ্ট্রকে UNCLOS ও আন্তর্জাতিক আইন
মেনে
চলতে
হবে,
প্রয়োজনে অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে
সহযোগিতা করতে
হবে।
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্যান্য রাষ্ট্রের অধিকার
১. নৌচলাচলের স্বাধীনতা: অন্যান্য রাষ্ট্র বাণিজ্যিক, সামরিক,
জাহাজ
নিয়ে
EEZ দিয়ে
চলাচল
করতে
পারে।
২. আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার: অন্যান্য রাষ্ট্রের বিমান
EEZ-এর
উপর
দিয়ে
উড়ে
যেতে
পার এর
জন্য
আলাদা
অনুমতির প্রয়োজন হয়
না।
৩. সাবমেরিন ক্যাবল ও পাইপলাইন স্থাপনের অধিকার :আন্তর্জাতিক নিয়ম
মেনে
সমুদ্রতলের নিচে
টেলিযোগাযোগ ক্যাবল
ও
পাইপলাইন স্থাপন
করা
যায়।
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্যান্য রাষ্ট্রের কর্তব্য
১. উপকূলীয় রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন না করা : অনুমতি ছাড়া
মাছ
ধরা,তেল বা গ্যাস
উত্তোলন করা
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২. সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা: দূষণ
সৃষ্টি
করা
যাবে
না,
পরিবেশের ক্ষতি
হয়
এমন
কর্মকাণ্ড থেকে
বিরত
থাকতে
হবে।
৩. উপকূলীয় রাষ্ট্রের আইন ও আন্তর্জাতিক আইন মান্য করা: যুক্তিসংগত আইন
মেনে
চলা,আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুসরণ
করা
বাধ্যতামূলক।
No comments