(গ) প্রশ্ন:
ন্যায়পরতা এখতিয়ার’’
এবং আইন ও ন্যায়পরতা একত্রী
করন ব্যাখ্যা কর। বাংলাদেশের আদালত সমূহে ন্যায়পরতা কী ভাবে কার্যকর
হয় ব্যাখ্যা কর। ন্যায়পরনতার অধিকাংশ মূল নীতিই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিধিবদ্ধ আইনে সন্নিবেশিত হইয়াছে - আপনি কী একমত ব্যাখ্যা
করুন।.
‘ন্যায়পরায়ণতার এখতিয়ার’ (Equitable
Jurisdiction)
ন্যায়পরায়ণতার এখতিয়ার বলতে আদালতের সেই ক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে আদালত আইনের
কঠোর
প্রয়োগে
অন্যায়
হলে
ন্যায়,
বিবেক
ও
সুবিচারের
ভিত্তিতে
প্রতিকার
প্রদান
করে।
ইংল্যান্ডে সাধারণ আইনের আদালত অনেক ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রতিকার দিতে ব্যর্থ হতো। ফলে রাজা (King)–এর নিকট ন্যায়বিচার
প্রার্থনা করা হলে চ্যান্সেলর (Chancellor) বিবেকের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতেন। এখান থেকেই ন্যায়পরায়ণতার আলাদা এখতিয়ারের উদ্ভব হয়।
ন্যায়পরায়ণতার এখতিয়ারের বৈশিষ্ট্য
·
এটি
সাধারণ আইনের পরিপূরক
·
বিবেক
ও সুবিচারভিত্তিক
·
ব্যক্তিগত
প্রতিকার
(Injunction, Specific Performance) প্রদান
করে
·
ক্ষতিপূরণের
পরিবর্তে বাস্তব প্রতিকার দেয়
আইন
ও ন্যায়পরায়ণতার একত্রীকরণ (Fusion of Law
and Equity)
আইন ও ন্যায়পরায়ণতার একত্রীকরণ
বলতে বোঝায়, একই
আদালতে
একই
মামলায়
আইনগত
ও
ন্যায়পরায়ণ
প্রতিকার
একসাথে
প্রদান
করা।
ইংল্যান্ডে
Judicature Acts, 1873–1875 এর
মাধ্যমে সাধারণ আইন আদালত ও চ্যান্সারি আদালত
একীভূত হয়। ফলে—
·
আলাদা
আদালতে যেতে হয় না
·
একই
আদালত আইন ও ন্যায়পরায়ণতা উভয়ই
প্রয়োগ করতে পারে
মূল নীতি
“Where there is conflict between law and equity, equity shall prevail.
ন্যায়পরায়ণতা
(Equity) হলো ন্যায়, সুবিচার ও বিবেকভিত্তিক নীতিসমূহের
সমষ্টি, যা সাধারণ আইনের
কঠোরতা ও সীমাবদ্ধতা দূর
করার জন্য বিকশিত হয়েছে। বাংলাদেশে ন্যায়পরায়ণতা কোনো স্বতন্ত্র বিচারব্যবস্থা নয়; বরং এটি বিভিন্ন বিধিবদ্ধ আইন ও আদালতের বিচারিক
বিবেচনার মাধ্যমে কার্যকর হয়।
বাংলাদেশের আদালতসমূহে ন্যায়পরায়ণতা কীভাবে কার্যকর হয়
ভূমিকা
ন্যায়পরায়ণতা
(Equity) হলো ন্যায়, সুবিচার ও বিবেকভিত্তিক নীতিসমূহের
সমষ্টি, যা সাধারণ আইনের
কঠোরতা ও সীমাবদ্ধতা দূর
করার জন্য বিকশিত হয়েছে। বাংলাদেশে ন্যায়পরায়ণতা কোনো স্বতন্ত্র বিচারব্যবস্থা নয়; বরং এটি বিভিন্ন বিধিবদ্ধ আইন ও আদালতের বিচারিক
বিবেচনার মাধ্যমে কার্যকর হয়।
বাংলাদেশের আদালতে ন্যায়পরায়ণতার প্রয়োগপদ্ধতি
বাংলাদেশে ন্যায়পরায়ণতা মূলত নিম্নলিখিত উপায়ে কার্যকর হয়—
১. বিধিবদ্ধ আইনের মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণতার প্রয়োগ
বাংলাদেশে ইংরেজ ন্যায়পরায়ণতার অধিকাংশ নীতি বিভিন্ন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(ক)
Specific Relief Act, 1877
এই আইন ন্যায়পরায়ণ প্রতিকার প্রদানের প্রধান মাধ্যম। এর মাধ্যমে—
·
Specific Performance
·
Injunction (অস্থায়ী
ও স্থায়ী)
·
Declaratory Decree
প্রদান করা হয়, যা ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে
প্রকৃত ও ন্যায্য প্রতিকার
নিশ্চিত করে।
(খ)
Contract Act, 1872
এই আইনে ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্বপূর্ণ নীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমন—
·
Undue Influence
·
Fraud ও
Misrepresentation
·
Quantum Meruit
এসব বিধানের মাধ্যমে চুক্তিতে ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়।
(গ)
Trust Act, 1882
ট্রাস্ট আইন সম্পূর্ণভাবে ন্যায়পরায়ণতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে ট্রাস্টি ও বেনিফিশিয়ারির অধিকার
ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
(ঘ)
Transfer of Property Act, 1882
এই আইনে ন্যায়পরায়ণ মতবাদসমূহ যেমন—
·
Doctrine of Part Performance
·
Doctrine of Election
·
Doctrine of Lis Pendens
অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অন্যায় লেনদেন
প্রতিরোধ করে।
(ঙ)
Civil Procedure Code, 1908
এর Section
151 আদালতকে
স্বতঃসিদ্ধ ক্ষমতা প্রদান করে, যার মাধ্যমে আদালত সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারে।
২. বিচারিক বিবেচনার মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণতার প্রয়োগ
বাংলাদেশের আদালতসমূহ বিচারকার্য পরিচালনার সময় ন্যায়, সুবিচার, সদাচরণ ও বিবেকের নীতি
অনুসরণ করে। তবে আদালত “Equity
follows the law” নীতি
মেনে চলে এবং আইনের বিরোধী কোনো আদেশ প্রদান করে না।
৩. আইন ও ন্যায়পরায়ণতার একীভূত
প্রয়োগ
বাংলাদেশে আইন ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য
আলাদা আদালত নেই। একই আদালত একই মামলায় আইনগত ও ন্যায়পরায়ণ উভয়
প্রতিকার প্রদান করে। এটি ইংল্যান্ডের Judicature
Acts-এর নীতির প্রতিফলন।
৪. সাংবিধানিক ভিত্তিতে ন্যায়পরায়ণতার কার্যকারিতা
বাংলাদেশের সংবিধানের—
·
অনুচ্ছেদ
২৭
(আইনের দৃষ্টিতে সমতা)
·
অনুচ্ছেদ
৩১
(আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার)
ন্যায়পরায়ণতার মৌলিক দর্শনকে শক্তিশালী করে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আদালতসমূহে ন্যায়পরায়ণতা কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থা নয়; বরং এটি বিধিবদ্ধ আইন, বিচারিক বিবেচনা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের
সমন্বয়ে কার্যকর। সাধারণ আইনের কঠোরতা সংশোধন করে সুবিচার নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় ন্যায়পরায়ণতার মূল উদ্দেশ্য।
“ন্যায়পরায়ণতার অধিকাংশ মূল নীতিই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিধিবদ্ধ আইনে সন্নিবেশিত হইয়াছে”—আপনি কী একমত? ব্যাখ্যা
করুন।
ন্যায়পরায়ণতা
(Equity) হলো ন্যায়, সুবিচার ও বিবেকভিত্তিক নীতিসমূহের
সমষ্টি, যা সাধারণ আইনের
কঠোরতা ও অসম্পূর্ণতা দূর
করার জন্য বিকশিত হয়েছে। ইংল্যান্ডে ন্যায়পরায়ণতা বিচারক-নির্মিত আইন হলেও বাংলাদেশে তা প্রধানত বিধিবদ্ধ আইনের
মাধ্যমে
সংহত
ও
প্রয়োগযোগ্য
হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উক্ত
বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া যায়।
একমত হওয়ার কারণসমূহ
১. আলাদা ন্যায়পরায়ণ আদালতের অনুপস্থিতি
বাংলাদেশে ইংল্যান্ডের মতো কোনো স্বতন্ত্র Court of Equity বা Chancery Court নেই। ফলে ন্যায়পরায়ণতার নীতিসমূহকে বিধিবদ্ধ
আইনের
মাধ্যমে
সাধারণ
আদালতের
এখতিয়ারে
অন্তর্ভুক্ত
করা
হয়েছে।
২. Specific
Relief Act, 1877
এই আইনটি ন্যায়পরায়ণ প্রতিকারের প্রধান উৎস। এতে—
·
Specific Performance
·
Injunction
·
Declaratory Decree
প্রদান করা হয়, যা সরাসরি ন্যায়পরায়ণতার
মৌলিক নীতির প্রতিফলন।
৩. Contract Act,
1872
এই আইনে ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্বপূর্ণ নীতিসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে, যেমন—
·
Undue Influence
·
Fraud ও
Misrepresentation
·
Quantum Meruit
এগুলো চুক্তিগত সম্পর্কের ন্যায্যতা নিশ্চিত করে।
৪. Trust Act,
1882
ট্রাস্ট আইন সম্পূর্ণভাবে ন্যায়পরায়ণতার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত। ট্রাস্টি ও বেনিফিশিয়ারির অধিকার
ও দায়িত্ব নির্ধারণের মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণতার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫. Transfer of
Property Act, 1882
এই আইনে ন্যায়পরায়ণ মতবাদসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমন—
·
Doctrine of Part Performance
·
Doctrine of Election
·
Doctrine of Lis Pendens
যা সম্পত্তি লেনদেনে অন্যায় প্রতিরোধ করে।
৬. Civil
Procedure Code, 1908
এর Section
151 আদালতকে
স্বতঃসিদ্ধ ক্ষমতা প্রদান করে, যাতে সুবিচার নিশ্চিত করা যায়। এটি ন্যায়পরায়ণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
ভিন্নমত ও সীমাবদ্ধতা
যদিও অধিকাংশ নীতি বিধিবদ্ধ আইনে অন্তর্ভুক্ত, তথাপি—
·
সব
ন্যায়পরায়ণ নীতি আইনে লিপিবদ্ধ নয়
·
কিছু
ক্ষেত্রে আদালত এখনও বিবেক ও ন্যায়ের ভিত্তিতে
সিদ্ধান্ত দেয়
·
“Equity follows the law” নীতির কারণে
আদালতের বিবেচনা সীমাবদ্ধ
উপসংহার
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ন্যায়পরায়ণতার
অধিকাংশ
মূল
নীতিই
বাংলাদেশের
বিভিন্ন
বিধিবদ্ধ
আইনে
সন্নিবেশিত
হয়েছে—এই বক্তব্যের সঙ্গে
একমত হওয়া যুক্তিসংগত। তবে সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য আদালত এখনও ন্যায়পরায়ণতার মৌলিক দর্শন অনুসরণ করে থাকে।
No comments