সাংবিধানিক আইনের- যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান অংশ। এল এল বি পরীক্ষা ১ম বর্ষ-২০২৫- পার্ট-২
সাংবিধানিক আইনের- যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান অংশ। এল এল বি পরীক্ষা ১ম বর্ষ-২০২৫- পার্ট-২
5. বর্তমান বিশ্বে এমন কোনো রাজনৈতিক অফিস নেই যা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির চেয়ে অধিক ক্ষমতাশালী”-আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি উল্লেখপূর্বক উক্তিটি আলোচনা কর
“বর্তমান বিশ্বে এমন কোনো রাজনৈতিক অফিস নেই যা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির চেয়ে অধিক ক্ষমতাশালী”—উক্তিটির আলোচনা
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি একদিকে রাষ্ট্রপ্রধান, অন্যদিকে সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে
তিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী, সেনাবাহিনীর প্রধান এবং বৈদেশিক নীতির মূল নির্ধারক। এসব কারণে অনেক রাজনৈতিক চিন্তাবিদ মনে করেন—
বর্তমান বিশ্বে মার্কিন রাষ্ট্রপতির চেয়ে ক্ষমতাশালী কোনো রাজনৈতিক পদ নেই।
নিচে মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনার মাধ্যমে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো—
১. নির্বাহী ক্ষমতা
· রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান নির্বাহী
· কংগ্রেস প্রণীত আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর
· মন্ত্রিসভা (Cabinet) গঠন ও পরিচালনা করেন
· উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাখেন
➡️ নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রাষ্ট্রপতিকে অত্যন্ত প্রভাবশালী করে তোলে।
২. আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা
· কংগ্রেসে প্রণীত কোনো আইনে ভেটো প্রদান করতে পারেন
· বিশেষ বার্তার মাধ্যমে আইন প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেন
· কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন
➡️ ভেটো ক্ষমতার মাধ্যমে আইনসভার ওপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. সামরিক ক্ষমতা
· রাষ্ট্রপতি হলেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (Commander-in-Chief)
· যুদ্ধকালীন সময়ে সেনাবাহিনী পরিচালনার সর্বোচ্চ ক্ষমতা তাঁর হাতে
· পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর
➡️ এই ক্ষমতা তাঁকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে অসাধারণ প্রভাবশালী করে তোলে।
৪. বৈদেশিক নীতি ও কূটনৈতিক ক্ষমতা
· পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন
· বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেন
· রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন
· আন্তর্জাতিক সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন
➡️ বৈদেশিক নীতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বিশ্ব রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।
৫. বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা
· সুপ্রিম কোর্টসহ ফেডারেল বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা (সিনেটের সম্মতিসাপেক্ষে)
· ক্ষমা (Pardon) ও সাজা লাঘবের ক্ষমতা রাখেন
➡️ বিচার বিভাগের গঠনেও রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকে।
৬. দলীয় ও জননেতৃত্বমূলক ক্ষমতা
· নিজ দলের প্রধান নেতা হিসেবে কাজ করেন
· জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে জনমত গঠন করেন
· গণমাধ্যম ও জনসমর্থনের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারেন
উক্তিটির মূল্যায়ন
যদিও মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিপুল ক্ষমতার অধিকারী, তবু তাঁর ক্ষমতা সীমাহীন নয়—
· কংগ্রেস আইন বাতিল বা ভেটো অতিক্রম করতে পারে
· সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করতে পারে
· অভিশংসনের মাধ্যমে তাঁকে অপসারণ করা সম্ভব
তবুও বাস্তবে—
· সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে
· যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে
মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের তুলনায় অধিক কার্যকর ও প্রভাবশালী।
উপসংহার
উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নিঃসন্দেহে অন্যতম ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাই উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিসংগত।
6. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর। সিনেটের সাথে প্রতিনিধি পরিষদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর ।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives)
মার্কিন কংগ্রেস দ্বিকক্ষবিশিষ্ট—
1. প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives)
2. সিনেট (Senate)
নিচে প্রতিনিধি পরিষদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি এবং সিনেটের সাথে এর সম্পর্ক আলোচনা করা হলো—
১. প্রতিনিধি পরিষদের গঠন
· প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে ৪৩৫ জন সদস্য রয়েছে
· সদস্যরা জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত
· প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হয়
· সদস্যদের মেয়াদ ২ বছর
· সদস্য হওয়ার যোগ্যতা—
o ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর
o কমপক্ষে ৭ বছর মার্কিন নাগরিক
o সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা
· প্রতিনিধি পরিষদের সভাপতিকে বলা হয় স্পিকার (Speaker of the House)
২. প্রতিনিধি পরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
ক) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা
· আইন প্রণয়নে প্রতিনিধি পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে
· রাজস্ব সংক্রান্ত বিল (Money Bill) অবশ্যই প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম উত্থাপিত হয়
খ) আর্থিক ক্ষমতা
· কর আরোপ ও রাজস্ব সংগ্রহ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করে
· বাজেট অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
গ) নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ
· রাষ্ট্রপতি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসন (Impeachment) প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে
· শাসন বিভাগের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে
ঘ) প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা
· জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে
· নাগরিক স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করে
৩. প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের মধ্যে সম্পর্ক
ক) আইন প্রণয়নে যৌথ ভূমিকা
· কোনো বিল আইনে পরিণত হতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন
· এক কক্ষ অন্য কক্ষের বিল সংশোধন বা বাতিল করতে পারে
খ) ক্ষমতার পার্থক্য ও ভারসাম্য
· প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসনের অভিযোগ আনে
· সিনেট অভিশংসন বিচার সম্পন্ন করে
· প্রতিনিধি পরিষদ রাজস্ব বিল উত্থাপন করে
· সিনেট তা অনুমোদন বা সংশোধন করে
গ) পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ
· উভয় কক্ষ একে অপরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে
· এর ফলে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে
উপসংহার
প্রতিনিধি পরিষদ মার্কিন কংগ্রেসের সবচেয়ে গণতান্ত্রিক অংশ। এটি জনগণের মতামত সরাসরি প্রতিফলিত করে। সিনেটের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়ের মাধ্যমে
কংগ্রেস কার্যকর আইনসভা হিসেবে কাজ করে।
7. (ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর। (খ) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টকে কেন সংবিধানের অভিভাবক বলা হয়।
৭. (ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
সিনেট হলো মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ। এর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
১. আইন প্রণয়ন
· প্রতিনিধি পরিষদের প্রণীত বিল অনুমোদন বা বাতিল করতে পারে।
· রাষ্ট্রপতির ভেটো অতিক্রম করতে সহায়ক।
২. নির্বাহী বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ
· রাষ্ট্রপতির মনোনীত মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ফেডারেল বিচারপতিদের নিয়োগ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করে (Advice and Consent)।
৩. বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা
· প্রতিনিধি পরিষদের অভিশংসন মামলার বিচার সম্পন্ন করে।
· রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সভাপতিত্ব করেন।
৪. বৈদেশিক নীতি
· আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
৫. অন্যান্য সাংবিধানিক ভূমিকা
· সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবে অংশ নেয়।
· আইনসভায় ভারসাম্য রক্ষা করে।
৭. (খ) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টকে কেন সংবিধানের অভিভাবক বলা হয়
কারণসমূহ
1. বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ক্ষমতা:
o সংবিধানবিরোধী আইন বা প্রশাসনিক আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
2. সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান:
o সংবিধানের জটিল ধারা ও অনুচ্ছেদের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা করে।
3. মৌলিক অধিকার রক্ষা:
o নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘন হলে প্রতিকার দেয়।
4. কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের বিরোধ নিষ্পত্তি:
o ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতার বিরোধ মীমাংসা করে।
উপসংহার:
সুপ্রিম কোর্ট কেবল বিচারালয় নয়, বরং মার্কিন সংবিধানের সর্বোচ্চ রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে
কাজ করে।
8. [যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গঠন সম্পর্কে লিখ। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাসের পন্থা কী? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের 'পকেট ভেটো' কী?]
১. যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গঠন
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস হলো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (Bicameral Legislature)।
ক) দুই কক্ষ
1. প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives)
o ৪৩৫ জন সদস্য
o অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বণ্টন
o সদস্যদের মেয়াদ ২ বছর
o ২৫ বছরের বেশি বয়স, ৭ বছর মার্কিন নাগরিক
2. সিনেট (Senate)
o প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য ২ জন করে সদস্য
o মোট ১০০ জন
o সদস্যদের মেয়াদ ৬ বছর
o ৩০ বছরের বেশি বয়স, ৯ বছর মার্কিন নাগরিক
খ) নেতৃত্ব
· প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান স্পিকার (Speaker of the House)
· সিনেটের প্রধান রাষ্ট্রপতি (Vice President) এবং প্রধান সিনেটর (President pro tempore)
২. যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাসের পন্থা
বিল পাস করার ধাপসমূহ:
1. উত্থাপন (Introduction)
o বিল কংগ্রেসের যেকোনো কক্ষে সদস্য দ্বারা প্রস্তাবিত হয়
2. কমিটি পর্যায় (Committee Stage)
o বিল সংশ্লেষণ, আলোচনা এবং সুপারিশের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যায়
3. কক্ষের অনুমোদন (Approval by Chamber)
o কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পুরো কক্ষ ভোটে পাস করে
4. অন্য কক্ষে পাঠানো (Other Chamber)
o প্রথম কক্ষে পাস হওয়া বিল দ্বিতীয় কক্ষে আলোচনা ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়
5. চূড়ান্ত অনুমোদন (Final Approval)
o উভয় কক্ষে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়
6. রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর / ভেটো (Presidential Action)
o রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে বিল আইন হিসেবে প্রবর্তিত হয়
o রাষ্ট্রপতি ভেটো করলে কংগ্রেস ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পুনঃপাস করতে পারে
৩. যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের 'পকেট ভেটো' (Pocket Veto)
পকেট ভেটো হলো রাষ্ট্রপতির একটি বিশেষ ভেটো ক্ষমতা।
· কংগ্রেস বিল পাস করার পর ১০ দিনের মধ্যে (Sundays বাদে) রাষ্ট্রপতি যদি বিল স্বাক্ষর না করে
· এবং কংগ্রেস অবকাশে (Adjourned) থাকলে, বিল অটোম্যাটিকভাবে বাতিল হয়ে যায়
· এই প্রক্রিয়াকে Pocket Veto বলা হয়
বৈশিষ্ট্য:
· কংগ্রেস বিল পুনরায় পাস করতে পারে না যতক্ষণ না তারা পুনরায় অধিবেশন আহ্বান করে
· এটি সাধারণ ভেটোর থেকে আলাদা, কারণ রাষ্ট্রপতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল বাতিল করতে পারেন
উপসংহার
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস একটি শক্তিশালী দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। বিল পাসের ধাপ ও রাষ্ট্রপতির ভেটো (সাধারণ ও পকেট) কংগ্রেসের ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে।
9.যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধানাবলি বর্ণনা কর। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা কর। রাষ্ট্রপতিকে কীভাবে অভিশংসিত করা যায়? |
১. যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধানাবলি
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান (Constitution of the United States) এর Article II এবং 12th Amendment রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়মাবলী নির্ধারণ করেছে। মূল নিয়মগুলো হলো:
1. প্রার্থী যোগ্যতা
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে নিম্নলিখিত যোগ্যতা থাকতে হবে:
o প্রার্থীকে জাতীয় জন্মজাত (natural-born citizen) হতে হবে।
o বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
o অন্তত ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে।
2. নির্বাচন পদ্ধতি: ইলেক্টোরাল কলেজ (Electoral College)
o সাধারণ ভোটের মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় না। নাগরিকরা ইলেক্টর (electors) নির্বাচন করেন।
o প্রতিটি রাজ্যের ইলেক্টোর সংখ্যা = রাজ্যের সেনেটর + হাউস অফ রেপ্রেজেন্টেটিভস।
o ইলেক্টররা রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোট দেন।
o মোট ইলেক্টর সংখ্যা বর্তমানে ৫৩৮। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অধিকাংশ ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হবে।
3. ভোটের নির্ধারণ ও ফলাফল
o যদি কোনো প্রার্থী ২৭০ ভোট না পান, তাহলে হাউস অফ রেপ্রেজেন্টেটিভস ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
২. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংবিধানে নির্দিষ্ট এবং কিছু অংশ বাস্তবে সময়ের সাথে বাড়িয়েছে। প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি হলো:
1. নির্বাহী ক্ষমতা (Executive Power)
o রাষ্ট্রপতি প্রশাসনের প্রধান।
o মন্ত্রিপরিষদ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারেন।
2. সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা
o রাষ্ট্রপতি যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ।
o যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না, তবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন; কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
3. বিনিয়োগ ও চুক্তি
o আন্তর্জাতিক চুক্তি (Treaties) স্বাক্ষর করতে পারেন।
o চুক্তি কার্যকর করতে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন।
4. আইন প্রণয়ন ও ভেটো ক্ষমতা
o কংগ্রেসে পাশ হওয়া আইন ভেটো (veto) করতে পারেন।
o কংগ্রেস ২/৩ ভোটে ভেটো অতিক্রম করতে পারে।
5. ন্যায়বিচার সম্পর্কিত ক্ষমতা
o ফেডারেল বিচারক ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ করতে পারেন (সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন)।
o ক্ষমা ও সাজা মওকুফ (pardons) দেওয়ার ক্ষমতা।
6. অন্যান্য কার্যাবলি
o রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর কংগ্রেসকে State of the Union Address প্রদান করেন।
o জরুরি অবস্থায় বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
৩. রাষ্ট্রপতিকে কীভাবে অভিশংসিত (Impeach) করা যায়?
রাষ্ট্রপতিকে অবশিষ্ট পদ থেকে অপসারণ বা অভিশংসিত করার প্রক্রিয়া সংবিধানে নির্ধারিত।
1. অভিশংসনের কারণ
o High Crimes and Misdemeanors, অর্থাৎ গুরুতর অপরাধ বা দায়িত্ব লঙ্ঘন।
o এর মধ্যে দুর্নীতি, বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার অন্তর্ভুক্ত।
2. প্রক্রিয়া
o হাউস অফ রেপ্রেজেন্টেটিভস: প্রথমে অভিযোগ (impeachment charges) উত্থাপন করে।
§ এখানে সাধারণ ভোটের মাধ্যমে অভিশংসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
o সেনেট: হাউস থেকে অভিশংসিত প্রার্থীকে সেনেট বিচারকসভার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
§ বিচারে অভিশংসন নিশ্চিত করতে ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট দরকার।
3. ফলাফল
o অভিশংসিত হলে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণ হয়।
o এছাড়াও ভবিষ্যতে সরকারি পদে নিযুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা যেতে পারে।
সংক্ষেপে:
· রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে, যোগ্যতার শর্ত মেনে।
· রাষ্ট্রপতি প্রশাসন, আইন প্রণয়ন, সেনা, চুক্তি, বিচার ও জরুরি অবস্থায় কার্যকর ক্ষমতা রাখেন।
· রাষ্ট্রপতি অভিশংসিত হতে পারেন হাউস ও সেনেটের ভোট প্রক্রিয়ায়, গুরুতর অপরাধ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের কারণে।
No comments