সাংবিধানিক আইনের- যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান অংশ। এল এল বি পরীক্ষা ১ম বর্ষ-২০২৫- পার্ট-৩
সাংবিধানিক আইনের- যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান অংশ। এল এল বি পরীক্ষা ১ম বর্ষ-২০২৫- পার্ট-৩
10. আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর। নাগরিক অধিকারের রক্ষক ও সংবিধানের অভিভাবক
হিসাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকা কী ?
১. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রকৃতি
আমেরিকার সংবিধান (Constitution of
the United States) বিশ্বের
সবচেয়ে পুরোনো সংবিধানগুলোর একটি এবং এর কিছু বিশেষ
বৈশিষ্ট্য আছে:
1. লিখিত সংবিধান (Written
Constitution)
o
সংবিধানটি
লিখিত আকারে বিদ্যমান।
o
এটি
রাষ্ট্রের কাঠামো, সরকারী ক্ষমতা ও নাগরিকদের অধিকার
নির্ধারণ করে।
2. সর্বোচ্চ আইন (Supreme Law of the
Land)
o
সংবিধান
দেশের সর্বোচ্চ আইন।
o
যেকোনো
আইন বা সরকারি কার্যক্রম
যদি সংবিধানের বিরোধী হয়, তা অবৈধ।
3. লিমিটেড গভারমেন্ট (Limited
Government)
o
সরকারের
ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা সীমিত।
o
সরকার
নাগরিকদের অধিকার বা সংবিধানের প্রক্রিয়ার
বাইরে যেতে পারবে না।
4. ফেডারেল ওয়াইজড স্ট্রাকচার (Federal
System)
o
কেন্দ্র
ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে দেয়া হয়েছে।
o
কেন্দ্র
সরকার কিছু বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেয়, রাজ্য সরকার অন্য বিষয়ে।
5. অভিন্নতা ও স্থিতিশীলতা (Flexible yet
Rigid Aspects)
o
সংবিধান
সংশোধনযোগ্য
(Amendable), তবে
কঠিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
o
এটি
স্থিতিশীল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনমতো পরিবর্তন সম্ভব।
6. ডেমোক্র্যাটিক প্রিন্সিপলস (Democratic
Principles)
o
সরকারের
সকল স্তর নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত বা তাদের প্রতিনিধির
মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত।
সংক্ষেপে:
সংবিধান হলো লিখিত, সর্বোচ্চ আইন, সীমিত ক্ষমতার সরকার, ফেডারেল কাঠামোর উপর ভিত্তি করে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করে।
২. নাগরিক অধিকারের রক্ষক ও সংবিধানের অভিভাবক
হিসেবে সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট (Supreme Court)
সংবিধানের সংরক্ষক ও নাগরিক অধিকার
রক্ষাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
(ক) সংবিধানের অভিভাবক (Guardian of
Constitution)
1. Judicial
Review
o
সুপ্রীম
কোর্ট যে কোনো আইন বা সরকারি কার্যক্রম সংবিধানের বিরুদ্ধে কিনা তা যাচাই করতে পারে।
o
যদি
আইন সংবিধানের বিপরীত হয়, তা বাতিল করা
হয়।
o
উদাহরণ:
Marbury v. Madison (1803) – এখানে সুপ্রীম
কোর্ট নিজস্ব ক্ষমতায় Judicial Review প্রতিষ্ঠা করে।
2. ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and
Balances)
o
কংগ্রেস
বা রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম সংবিধান লঙ্ঘন করলে কোর্ট তাকে স্থগিত বা বাতিল করতে
পারে।
o
এটি
সরকারের তিন শাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।
(খ) নাগরিক অধিকারের রক্ষক (Protector of
Citizens’ Rights)
1. মূল অধিকার সংরক্ষণ
o
সংবিধানের
Bill of Rights এবং
পরবর্তী সংশোধনগুলি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে।
o
উদাহরণ:
মুক্ত বাক্য (Freedom of Speech),
সমতা (Equality), ধর্ম স্বাধীনতা (Religious
Freedom)।
2. বিরোধ নিষ্পত্তি
o
সরকারী
নীতি বা আইন যদি
নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘন করে, কোর্ট তা বাতিল বা
সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে।
o
উদাহরণ:
Brown v. Board of Education (1954) – স্কুলে বর্ণ বৈষম্য (racial
segregation) অবৈধ ঘোষণা।
3. সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব
o
কোর্ট
সমাজে ন্যায় ও সমতার মান
বজায় রাখে।
o
নাগরিকদের
স্বাধীনতা ও সমতার জন্য
সংবিধানকেই সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে ধরে।
11. পারস্পরিক
নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি
ব্যাখ্যা কর। এই নীতিটি আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারে কতটুকু কার্যকর হয়েছে?]
তোমার প্রশ্নটা পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য প্রথমে আমরা ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করি।
১. পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি
(Checks and Balances) কী?
পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি
হলো সরকারের তিনটি প্রধান শাখা — আইনসভা (Legislature), কার্যনির্বাহী (Executive),
ও বিচার বিভাগ (Judiciary) — একে অপরের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে এবং একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা।
উদ্দেশ্য হলো:
·
কোনো
শাখা অতিরিক্ত ক্ষমতা না পায়।
·
গণতান্ত্রিক
প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় থাকে।
প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:
1. আইনসভা (Congress):
আইন প্রণয়ন করে, বাজেট অনুমোদন করে, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ বা নিয়োগকে অনুমোদন
দেয়।
2. কার্যনির্বাহী (President):
আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে veto ক্ষমতা রাখে, সরকারি কর্মসূচি পরিচালনা করে।
3. বিচার বিভাগ (Supreme Court ও অন্যান্য আদালত): আইন ও কার্যক্রমের সংবিধানসম্মততা
পরীক্ষা করে (Judicial Review)।
এভাবে, এক শাখার কার্যক্রম
অন্য শাখা সীমিত করতে পারে, যা ক্ষমতার ভারসাম্য
নিশ্চিত করে।
২. এই নীতিটি আমেরিকান
সরকারের কতটুকু কার্যকর হয়েছে?
সফল দিক:
·
প্রেসিডেন্টকে
অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত রাখা যায়। উদাহরণ: প্রেসিডেন্টের veto থাকলেও কংগ্রেস ২/৩ ভোটে
override করতে পারে।
·
আদালত
সংবিধান লঙ্ঘনের মামলা স্থগিত বা বাতিল করতে
পারে।
·
সিনেট
প্রেসিডেন্টের নিয়োগ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে
পারে।
সীমাবদ্ধতা
ও চ্যালেঞ্জ:
·
রাজনৈতিক
দখলদারি (Partisan
Politics) কখনও কখনও এই নিয়ন্ত্রণকে কার্যকরভাবে
কাজ করতে দেয় না।
·
প্রেসিডেন্ট
এবং কংগ্রেস একই দলের হলে ভারসাম্য কম থাকে।
·
অনেক
সময় আদালতই শেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা দীর্ঘ সময়ের
মামলা তৈরি করে।
সংক্ষেপে:
পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি
কার্যকর হলেও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার সীমিত করে, কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পার্টি রাজনীতির
কারণে সব সময় সমানভাবে
কার্যকর হয় না।
No comments