Header Ads

Header ADS

শ্রম আইন এল এল বি ১ ম বর্ষ ২০২৪ পরীক্ষা কমন হওয়ার মতো প্রশ্ন উত্তর সহজ ও সাবলীল ভাষায় - সহজে মনে থাকবে

 

১৩. কে শ্রম আদালতে আবেদন করতে পারে? শ্রম আদালতের গঠন এখতিয়ার লিখুন। আদালত কী একটি দেওয়ানী আদালত? অপরাধ বিচার করার ক্ষেত্রে শ্রম আদালতের ক্ষমতা পদ্ধতি আলোচনা করুন।


. কে শ্রম আদালতে আবেদন করতে পারে

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা শ্রম আদালতে আবেদন করতে পারে

1.      শ্রমিক

o    নিজে বা তার পক্ষে অনুমোদিত প্রতিনিধি

2.      নিয়োগকর্তা

3.      ট্রেড ইউনিয়ন

o    নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন বা CBA

4.      সমষ্টিগত দরকষাকষি প্রতিনিধি (CBA)

5.      শ্রম পরিদর্শক

o    আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে

6.      সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা


. শ্রম আদালতের গঠন

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী সরকার প্রয়োজন অনুসারে শ্রম আদালত স্থাপন করে।

শ্রম আদালতের গঠন

শ্রম আদালত গঠিত হয়

1.      একজন চেয়ারম্যান

o    জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ বা সমমর্যাদার বিচারক

2.      একজন শ্রমিক প্রতিনিধি

3.      একজন মালিক প্রতিনিধি

চেয়ারম্যান বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সিদ্ধান্ত সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গৃহীত হয়।


. শ্রম আদালতের এখতিয়ার

শ্রম আদালতের এখতিয়ার নিম্নরূপ

1.      শ্রম আইন সংক্রান্ত সব ধরনের বিরোধ মামলা শুনানি

2.      চাকরি সংক্রান্ত বিরোধ (বরখাস্ত, ছাঁটাই, লে-অফ ইত্যাদি)

3.      মজুরি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দাবি

4.      শ্রম আইন লঙ্ঘনজনিত অপরাধ বিচার

5.      ট্রেড ইউনিয়ন শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত মামলা


. শ্রম আদালত কি একটি দেওয়ানী আদালত?

শ্রম আদালত পূর্ণাঙ্গ দেওয়ানী আদালত নয়, তবে

·         দেওয়ানী আদালতের ন্যায় কিছু ক্ষমতা রয়েছে

·         যেমনসাক্ষ্য গ্রহণ, সমন জারি, নথি তলব ইত্যাদি

অতএব, শ্রম আদালত একটি বিশেষায়িত আদালত (Special Tribunal)


. অপরাধ বিচার করার ক্ষেত্রে শ্রম আদালতের ক্ষমতা পদ্ধতি

() ক্ষমতা

শ্রম আদালত

1.      শ্রম আইন লঙ্ঘনজনিত অপরাধের বিচার করতে পারে

2.      জরিমানা কারাদণ্ড প্রদান করতে পারে

3.      ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে

4.      সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে


() পদ্ধতি

অপরাধ বিচার করার ক্ষেত্রে

1.      ফৌজদারি কার্যবিধির মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়

2.      অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়

3.      সাক্ষী পরীক্ষা জেরা করা হয়

4.      যুক্তিতর্ক শেষে রায় প্রদান করা হয়

5.      আপিলের সুযোগ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে থাকে


উপসংহার

শ্রম আদালত শ্রমিক নিয়োগকর্তার মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির একটি বিশেষায়িত বিচারিক প্রতিষ্ঠান। এটি দেওয়ানী আদালত না হলেও দেওয়ানী ফৌজদারি উভয় ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে শ্রম আইন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৪. () অসৎ শ্রম তৎপরতা কী? কোন কোন কাজ করা এবং না করা নিয়োগকারীদের অসৎ তৎপরতা বলে গণ্য হবে?. () কোন কোন কাজ করা এবং কোন কোন কাজ না করা শ্রমিকের অসৎ শ্রম তৎপরতা হিসেবে গণ্য? কর্ম বিরতি কী?


() অসৎ শ্রম তৎপরতা কী? নিয়োগকারীদের অসৎ শ্রম তৎপরতা (কী করলে না করলে)

. অসৎ শ্রম তৎপরতার অর্থ

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী

যে সব কার্যকলাপের মাধ্যমে নিয়োগকারী বা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, ন্যায্য দরকষাকষিতে বাধা দেয় বা অন্য পক্ষকে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেতাকে অসৎ শ্রম তৎপরতা (Unfair Labour Practice) বলা হয়।


. নিয়োগকারীদের অসৎ শ্রম তৎপরতা (কী করলে গণ্য হবে)

নিয়োগকারী নিম্নলিখিত কাজগুলো করলে তা অসৎ শ্রম তৎপরতা হিসেবে গণ্য হবে

1.      ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বা সদস্য হতে বাধা প্রদান

2.      ট্রেড ইউনিয়নের কারণে শ্রমিককে বরখাস্ত, বদলি বা হয়রানি করা

3.      মালিকপক্ষের নিয়ন্ত্রণে ভুয়া বা মালিকপোষিত ইউনিয়ন গঠন

4.      ইউনিয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য শ্রমিককে শাস্তি দেওয়া

5.      যৌথ দরকষাকষিতে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো

6.      শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি প্রদান


. নিয়োগকারীদের অসৎ শ্রম তৎপরতা (কী না করলে গণ্য হবে)

নিম্নলিখিত কাজগুলো না করলে নিয়োগকারী অসৎ শ্রম তৎপরতার জন্য দায়ী হবে

1.      আইনসম্মত যৌথ দরকষাকষিতে অংশ না নেওয়া

2.      বৈধ ট্রেড ইউনিয়নকে স্বীকৃতি না দেওয়া

3.      শ্রমিকদের আইনগত অধিকার অগ্রাহ্য করা

4.      শ্রম আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা


() শ্রমিকদের অসৎ শ্রম তৎপরতা, কর্মবিরতি সংজ্ঞা

. শ্রমিকদের অসৎ শ্রম তৎপরতা (কী করলে গণ্য হবে)

শ্রমিক বা ট্রেড ইউনিয়ন নিম্নলিখিত কাজ করলে তা অসৎ শ্রম তৎপরতা হিসেবে গণ্য হবে

1.      অবৈধ ধর্মঘট বা বেআইনি কর্মসূচি পালন

2.      জোরপূর্বক ধর্মঘটে অংশ নিতে শ্রমিককে বাধ্য করা

3.      সহিংসতা, ভাঙচুর বা হুমকি প্রদর্শন

4.      ইচ্ছাকৃতভাবে উৎপাদন ব্যাহত করা (Sabotage)

5.      মিথ্যা অভিযোগ বা ভুয়া মামলা দায়ের

6.      নিয়োগকারীর সম্পত্তি ক্ষতিসাধন


. শ্রমিকদের অসৎ শ্রম তৎপরতা (কী না করলে গণ্য হবে)

নিম্নলিখিত কাজগুলো না করলে শ্রমিক অসৎ শ্রম তৎপরতার জন্য দায়ী হবে

1.      আইনসম্মত ধর্মঘটের নোটিশ না দেওয়া

2.      যৌথ দরকষাকষির নিয়ম অনুসরণ না করা

3.      শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবর্তে সহিংস পথ বেছে নেওয়া


. কর্মবিরতি কী?

কর্মবিরতি (Strike) বলতে বোঝায়

শ্রমিকদের দ্বারা সম্মিলিতভাবে কাজ বন্ধ রাখা বা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো, যা সাধারণত দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে করা হয়।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মবিরতি হতে পারে

·         আইনসম্মত কর্মবিরতি

·         বেআইনি কর্মবিরতি


উপসংহার

অসৎ শ্রম তৎপরতা শিল্প সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ নিয়োগকারী শ্রমিকউভয় পক্ষের জন্যই কোন কাজ করা যাবে এবং যাবে না তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে, যাতে শান্তিপূর্ণ ন্যায্য শ্রম পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

১৫. () বাংলাদেশ শ্রম আইন কী? () রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর। () এই আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ দায়ের সংক্রান্ত বিধানগুলো আলোচনা কর

নিচে প্রশ্ন নং১৫ এর তিনটি অংশ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী পরীক্ষায় উপযোগী, স্পষ্ট ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো


() বাংলাদেশ শ্রম আইন কী?

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ হলো এমন একটি সমন্বিত আইন, যার মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগকর্তার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের অধিকার কল্যাণ নিশ্চিত, শিল্পক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখা এবং শ্রম সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে।

এই আইনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী বহু শ্রম আইনকে একত্রিত করে একটি আধুনিক কার্যকর শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মজুরি, কর্মঘণ্টা, ছুটি, নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন, শিল্প বিরোধ, শ্রম আদালত ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।


() রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ শ্রম আইনের প্রয়োজনীয়তা

রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান (যেমন: তৈরি পোশাক শিল্প) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। এসব প্রতিষ্ঠানে শ্রম আইনের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

. শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা

·         ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা ছুটি নিশ্চিত করা

·         নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রদান


. নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ

·         অগ্নি নিরাপত্তা

·         যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার

·         দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা


. আন্তর্জাতিক মান রক্ষা

·         আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর মানদণ্ড অনুসরণ

·         বৈদেশিক ক্রেতাদের শর্ত পূরণ

·         বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন


. শিল্প শান্তি বজায় রাখা

·         শ্রমিক মালিকের মধ্যে বিরোধ কমানো

·         ধর্মঘট অস্থিরতা প্রতিরোধ


. টেকসই শিল্প উন্নয়ন

·         উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি

·         দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে সহায়তা


() বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ দায়ের সংক্রান্ত বিধান

শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘিত হলে অভিযোগ দায়েরের জন্য শ্রম আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ৩৩)—

. নিয়োগকর্তার নিকট অভিযোগ

·         শ্রমিক নিজে বা প্রতিনিধি মাধ্যমে

·         লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করতে হবে


. অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা

·         নিয়োগকর্তা অভিযোগ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে

·         সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে জানাতে হবে


. শ্রম আদালতে অভিযোগ

·         নিয়োগকর্তা ব্যবস্থা না নিলে বা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে

·         শ্রমিক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা করতে পারে


. শ্রম আদালতের ভূমিকা

·         অভিযোগ শুনানি

·         প্রমাণ গ্রহণ

·         ন্যায্য প্রতিকার আদেশ প্রদান


উপসংহার

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি মৌলিক আইন। বিশেষ করে রপ্তানীমুখী শিল্পে এই আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হলে শ্রমিক সন্তুষ্টি, শিল্প শান্তি আন্তর্জাতিক আস্থাসবই অর্জন করা সম্ভব।

১৬. () স্ট্রাইক লক্ আউট বলতে কী বুঝ? কী অবস্থায় স্ট্রাইক লক্ আউট আইনসংগত এবং কখন বে-আইনি হয়? () বে-আইনি ধর্মঘটের কারণে কোনো শ্রমিককে অবসানের সব সুবিধাসহ চাকরি অবসান করা হলে এর কী কী আইনগত দিক রয়েছে আলোচনা কর।

নিচে প্রশ্ন নং১৬ এর উভয় অংশ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী পরিষ্কার, ধারাবাহিক পরীক্ষায় উপযোগীভাবে আলোচনা করা হলো


() স্ট্রাইক লক-আউটের সংজ্ঞা এবং কখন আইনসংগত বেআইনি হয়

. স্ট্রাইক (Strike) কী?

স্ট্রাইক বলতে বোঝায়

শ্রমিকদের দ্বারা যৌথভাবে কাজ বন্ধ রাখা, কাজে যোগদান না করা বা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো, যা সাধারণত দাবি আদায় বা আপত্তি প্রকাশের উদ্দেশ্যে করা হয়।


. লক-আউট (Lock-out) কী?

লক-আউট বলতে বোঝায়

নিয়োগকর্তার দ্বারা সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, শ্রমিকদের কাজে প্রবেশে বাধা দেওয়া বা কাজ দিতে অস্বীকৃতি জানানো।


. কখন স্ট্রাইক আইনসংগত হয়

নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ হলে স্ট্রাইক আইনসংগত হয়

1.      যৌথ দরকষাকষির প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর

2.      নির্ধারিত সময়সীমা মেনে আইনানুগ নোটিশ প্রদান করা হলে

3.      শ্রম আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ সময়ে (যেমন: বিচারাধীন বিরোধ চলাকালে) না হলে

4.      শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলে


. কখন স্ট্রাইক বেআইনি হয়

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে স্ট্রাইক বেআইনি হবে

1.      আইনানুগ নোটিশ ছাড়া ধর্মঘট করা হলে

2.      আদালতে বিরোধ বিচারাধীন থাকাকালে

3.      সমঝোতা বা রায় কার্যকর থাকা অবস্থায়

4.      সহিংসতা, ভাঙচুর বা জবরদস্তি থাকলে


. কখন লক-আউট আইনসংগত হয়

লক-আউট আইনসংগত হবে যদি

1.      নিয়োগকর্তা আইনানুগ নোটিশ প্রদান করে

2.      বেআইনি স্ট্রাইকের প্রতিক্রিয়ায় করা হয়

3.      শ্রম আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ সময়ে না হয়


. কখন লক-আউট বেআইনি হয়

লক-আউট বেআইনি হবে যদি

1.      কোনো নোটিশ ছাড়া করা হয়

2.      বৈধ স্ট্রাইকের প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়

3.      বিচারাধীন বিরোধ চলাকালে করা হয়


() বেআইনি ধর্মঘটের কারণে শ্রমিককে অবসানের সব সুবিধাসহ চাকরি অবসানআইনগত দিক

. সাধারণ নীতি

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী

·         বেআইনি ধর্মঘটে অংশগ্রহণ একটি শাস্তিযোগ্য আচরণ

·         তবে শ্রমিকের অধিকার সম্পূর্ণ বাতিল করা যায় না


. চাকরি অবসানের ক্ষেত্রে আইনগত দিক

() যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক

·         শ্রমিককে শোকজ নোটিশ দিতে হবে

·         আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে

·         তদন্ত/শুনানি ছাড়া অবসান অবৈধ হতে পারে


() “সব সুবিধাসহ অবসানপ্রশ্নে আইন

·         বেআইনি ধর্মঘটে অংশগ্রহণের জন্য শ্রমিককে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে

·         কিন্তু আইনে নির্ধারিত সুবিধা (যেমন: অর্জিত ছুটি, বকেয়া মজুরি) সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা যায় না

·         অবসান যদি শাস্তিমূলক হয়, তবুও আইনসম্মত পাওনা দিতে হবে


() বৈষম্য নিষিদ্ধ

·         একই অপরাধে কিছু শ্রমিককে অবসান আর কিছু শ্রমিককে না করলে তা বৈষম্যমূলক হবে

·         বৈষম্য হলে শ্রম আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়


. শ্রম আদালতে প্রতিকার

·         শ্রমিক অবসানকে অবৈধ বা অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করতে পারে

·         আদালত প্রয়োজনে পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ বা সুবিধা প্রদানের আদেশ দিতে পারে


উপসংহার

স্ট্রাইক লক-আউট শ্রমিক নিয়োগকর্তার গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলেও তা কঠোর আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বেআইনি ধর্মঘটের কারণে শ্রমিককে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হলেও, আইনসম্মত প্রক্রিয়া ন্যায্য পাওনা অস্বীকার করা যায় নাএটাই বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর মূল অবস্থান।

No comments

Powered by Blogger.