Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ বর্ণিত শ্রমিকদের কল্যাণমূলক বিধানাবলি বর্ণনা করুন। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ বর্ণিত শ্রমিকদের নিরাপত্তামূলক বিধানাবলি সম্পর্কে আপনি কী জানেন? বর্ণনা করুন।

 

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬- বর্ণিত শ্রমিকদের কল্যাণমূলক বিধানাবলি বর্ণনা করুন। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬- বর্ণিত শ্রমিকদের নিরাপত্তামূলক বিধানাবলি সম্পর্কে আপনি কী জানেন? বর্ণনা করুন। 'লে-অফ' সংজ্ঞায়িত করুন। লেইভ-অফকৃত শ্রমিকদের কী কী ক্ষতিপুরণ পাবার অধিকার রয়েছে? কখন তারা সেই ক্ষতিপূরণ পেতে পারে না? বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৩৩ ধারার অধীন অভিযোগ পদ্ধতি আলোচনা করুন।


() বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬- বর্ণিত শ্রমিকদের কল্যাণমূলক বিধানাবলি

শ্রমিকদের সামাজিক মানবিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য শ্রম আইনে বিভিন্ন কল্যাণমূলক বিধান সংযোজিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলো হলো

. বিশ্রাম ছুটির ব্যবস্থা

·         সাপ্তাহিক ছুটি (সাধারণত দিন)

·         নৈমিত্তিক, অসুস্থতা উৎসব ছুটি

·         অর্জিত ছুটি (Earned Leave)


. কর্মঘণ্টা অতিরিক্ত কাজের সুবিধা

·         দৈনিক সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা নির্ধারণ

·         অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম ভাতা


. মজুরি সংক্রান্ত কল্যাণ

·         নির্ধারিত সময়ে মজুরি পরিশোধ

·         নিম্নতম মজুরি নিশ্চিতকরণ

·         অবৈধ কর্তন নিষিদ্ধ


. মাতৃত্বকালীন সুবিধা

·         নির্ধারিত সময়ের মাতৃত্বকালীন ছুটি

·         মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান


. চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবা

·         চিকিৎসা সুবিধা প্রদান

·         প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা

·         অসুস্থ শ্রমিকের চিকিৎসা সহায়তা


. কল্যাণ তহবিল কল্যাণ কর্মকর্তা

·         নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কল্যাণ তহবিল গঠন

·         কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ


. ক্যান্টিন, বিশুদ্ধ পানি স্যানিটেশন

·         নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিক থাকলে ক্যান্টিন স্থাপন

·         বিশুদ্ধ পানীয় জল স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার


() বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬- বর্ণিত শ্রমিকদের নিরাপত্তামূলক বিধানাবলি

শ্রমিকদের জীবন শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শ্রম আইনে বিস্তারিত নিরাপত্তামূলক বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে


. কর্মস্থলের নিরাপত্তা

·         নিরাপদ যন্ত্রপাতি ব্যবহার

·         ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা (গার্ডিং)

·         বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ


. অগ্নি জরুরি নিরাপত্তা

·         অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন

·         জরুরি নির্গমন পথ (Emergency Exit)

·         অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ


. দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ক্ষতিপূরণ

·         দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

·         কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে ক্ষতিপূরণ


. ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিষেধাজ্ঞা

·         শিশু কিশোর শ্রমিককে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ

·         অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বিশেষ সতর্কতা


. স্বাস্থ্য পরিচ্ছন্নতা

·         পর্যাপ্ত আলো বায়ু চলাচল

·         পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশ

·         বিষাক্ত গ্যাস ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ


. শ্রম পরিদর্শন আইন প্রয়োগ

·         শ্রম পরিদর্শকের মাধ্যমে নিয়মিত পরিদর্শন

·         নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনে শাস্তির ব্যবস্থা


উপসংহার

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের কল্যাণ নিরাপত্তাউভয় দিকেই সমান গুরুত্ব প্রদান করেছে। কল্যাণমূলক বিধান শ্রমিকের জীবনমান উন্নত করে, আর নিরাপত্তামূলক বিধান শ্রমিকের জীবন স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এই দুটি দিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

১২. () 'লে-অফ' সংজ্ঞায়িত করুন। লেইভ-অফকৃত শ্রমিকদের কী কী ক্ষতিপুরণ পাবার অধিকার রয়েছে? কখন তারা সেই ক্ষতিপূরণ পেতে পারে না? ) বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৩৩ ধারার অধীন অভিযোগ পদ্ধতি আলোচনা করুন।

নিচে প্রশ্ন নং১২ এর উভয় অংশ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী পরীক্ষায় উপযোগী, ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো


() ‘লে-অফএর সংজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার পরিস্থিতি

. ‘লে-অফএর সংজ্ঞা

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা (৪৫) অনুযায়ী

লে-অফ বলতে বোঝায় এমন অবস্থা, যখন কোনো নিয়োগকর্তা কাঁচামালের ঘাটতি, যন্ত্রপাতি বিকল, বিদ্যুৎ সংকট, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনুরূপ কারণে সাময়িকভাবে শ্রমিককে কাজে নিয়োজিত রাখতে অক্ষম হন।

লে-অফ স্থায়ী ছাঁটাই নয়; এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা


. লে-অফকৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার

লে-অফকৃত শ্রমিকরা নিম্নলিখিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী

1.      লে-অফ ভাতা

o    লে-অফের প্রথম ৪৫ দিন পর্যন্ত শ্রমিক তার মূল মজুরির ৫০% হারে ক্ষতিপূরণ পাবে

2.      সরকার নির্ধারিত সময় শর্ত অনুযায়ী ভাতা প্রদান

3.      লে-অফ চলাকালীন শ্রমিকের চাকরি বহাল থাকে


. কখন লে-অফকৃত শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পাবে না

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে লে-অফকৃত শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবে না

1.      যদি শ্রমিক বিকল্প উপযুক্ত কাজ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়

2.      যদি লে-অফ ঘটে

o    ধর্মঘট বা লকআউটের কারণে

3.      যদি শ্রমিক কাজ করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কাজে যোগদান না করে

4.      যদি লে-অফ আইনসম্মতভাবে প্রযোজ্য না হয়


() বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৩৩ ধারার অধীন অভিযোগ পদ্ধতি

ধারা ৩৩ শ্রমিকের আইনগত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।

অভিযোগ পদ্ধতির ধাপসমূহ

. লিখিত অভিযোগ দাখিল

·         শ্রমিক বা তার প্রতিনিধি

·         নিয়োগকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করবে

·         অভিযোগটি শ্রমিকের চাকরিসংক্রান্ত অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে হতে হবে


. অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা

·         নিয়োগকর্তা অভিযোগ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে

·         সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে শ্রমিককে জানাতে হবে


. শ্রম আদালতে অভিযোগ

·         নিয়োগকর্তা ব্যবস্থা না নিলে বা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে

·         শ্রমিক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা করতে পারে


. শ্রম আদালতের বিচারিক ক্ষমতা

·         অভিযোগ শুনানি

·         প্রমাণ গ্রহণ

·         ন্যায্য প্রতিকার আদেশ প্রদান


উপসংহার

লে-অফ ব্যবস্থা মালিক শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্যদিকে, ধারা ৩৩ শ্রমিকদের জন্য একটি কার্যকর অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, যা শ্রমিকদের আইনগত অধিকার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

No comments

Powered by Blogger.