সাংবিধানিক আইনের- যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান অংশ। এল এল বি পরীক্ষা ১ম বর্ষ-২০২৫- পার্ট-৪
সাংবিধানিক আইনের- যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান অংশ। এল এল বি পরীক্ষা ১ম বর্ষ-২০২৫- পার্ট-৪
12. বর্তমান
বিশ্বে এমন কোনো রাজনৈতিক অফিস নেই যা আমেরিকার প্রেডিডেন্টের
সাংবিধানিক ক্ষমতার চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী।” –আলোচনা কর ।]
১. যুক্তি: কেন বলা হয় “আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অন্য রাজনৈতিক অফিসের চেয়ে বেশি”?
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বৈশিষ্ট্যগুলো:
1. একক প্রধান নির্বাহী (Single
Executive):
o
প্রেসিডেন্ট
একা সরকারের কার্যনির্বাহী প্রধান।
o
তিনি
সরকারি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর
সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখেন।
2. সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্রনীতিতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা:
o
প্রেসিডেন্ট
হলেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান।
o
যুদ্ধ
ঘোষণার সরাসরি ক্ষমতা না থাকলেও, জরুরি
পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন করতে পারেন।
3. নিয়োগ ও বরখাস্ত ক্ষমতা:
o
মন্ত্রী,
বিচারক ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ
পদে নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে।
o
সিনেট
অনুমোদন পেলেও প্রাথমিক নিয়োগ ক্ষমতা তার হাতে।
4. ভোট ও পলিসি প্রভাব:
o
আন্তর্জাতিক
চুক্তি (Treaties) এবং ঘরের নীতি প্রণয়নে প্রভাব।
o
গণমাধ্যম
ও জনমত প্রভাবিত করতে পারেন।
অর্থাৎ, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা একক, দ্রুত কার্যকর, এবং বহুমাত্রিক।
২. তুলনা: অন্যান্য দেশের প্রধানদের সঙ্গে
|
দেশ/পদ |
ক্ষমতার ধরণ |
তুলনা |
|
ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী |
প্রধান
নির্বাহী, কিন্তু সংসদে নির্ভরশীল |
প্রেসিডেন্টের
মতো একক শক্তি নেই, সংসদের সমর্থন বাধ্যতামূলক। |
|
চীনা
রাষ্ট্রপতি |
শাসন
ক্ষমতা শক্তিশালী, কিন্তু দলীয় কাঠামোর উপর নির্ভর |
বাস্তব
ক্ষমতা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতার হাতে। |
|
রাশিয়ান
প্রেসিডেন্ট |
প্রচণ্ড
ক্ষমতা, আইনসভা সীমিত |
কার্যকর
ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের, তবে সংবিধান কিছুটা সীমাবদ্ধ। |
|
উত্তর
কোরিয়ার নেতা |
প্রায়
একক ক্ষমতা |
কিন্তু
বৈধতা পার্টি ও সেনা উপর নির্ভর। |
বিঃদ্রঃ:
অনেক দেশেই ক্ষমতা সংবিধানিক নয় বা পার্টি কাঠামোর
ওপর বেশি নির্ভরশীল।
৩. যুক্তি বিশ্লেষণ
·
সংবিধানগতভাবে:
আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে যে ক্ষমতা দেওয়া
হয়েছে, তা অন্তর্ভুক্তিগতভাবে অন্য দেশগুলোর প্রধানদের চেয়ে স্বতন্ত্র এবং একক।
·
বাস্তবিক
সীমাবদ্ধতা:
কংগ্রেস, আদালত ও ভোটারদের চাপে
তার ক্ষমতা সীমিত।
·
বিশ্বের
দিক
থেকে:
অন্য কোনো সংবিধানিক রাজনৈতিক অফিস যেমন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বা ভারতীয় রাষ্ট্রপতি
প্রেসিডেন্টের মতো এককভাবে এত ক্ষমতাশালী নয়।
উপসংহার:
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সংবিধানগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী একক রাজনৈতিক অফিসের মধ্যে গণ্য করা হয়। তবে বাস্তব রাজনীতিতে সেনেট, আদালত ও জনমতের মতো
বাধাগুলো তাকে সীমিত করতে পারে।
13 যুক্তরাষ্ট্রের
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যে বিল অফ
রাইট্স সংযোজন করা হয় সে সম্পর্কে একটি
আলোচনা লিখ এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা কীভাবে সংরক্ষণ করা হয় তা ব্যাখ্যা কর।
ঠিক আছে, ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করি।
১. বিল অফ রাইটস (Bill of Rights) কী?
সংজ্ঞা:
বিল অফ রাইটস হলো
যুক্তরাষ্ট্রের
সংবিধানের
প্রথম
১০টি
সংশোধনী
(Amendments), যা
১৭৯১ সালে সংযুক্ত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য
হলো নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত করা।
মূল বৈশিষ্ট্য:
1. ধর্ম, বাক্ ও সংবাদ স্বাধীনতা – সরকার নাগরিকের মত প্রকাশ বা
ধর্মাবলম্বন নির্ধারণ করতে পারবে না।
2. অস্ত্রধারী অধিকার – নাগরিকরা সশস্ত্র থাকা অধিকার রাখে।
3. সামরিক নিয়ন্ত্রণ – সরকার নাগরিকদের বাড়িতে সৈন্য স্থাপন করতে পারবে না।
4. আদালত ও বিচারের অধিকার – ন্যায্য বিচার, জুরি ট্রায়াল, অকারণী গ্রেপ্তার থেকে নিরাপত্তা।
5. গণতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা – সরকারি ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করার জন্য।
মূল উদ্দেশ্য:
·
জনগণকে
সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা থেকে রক্ষা করা।
·
ব্যক্তিস্বাধীনতা
ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
২. আমেরিকায় ব্যক্তিস্বাধীনতা কীভাবে সংরক্ষিত হয়?
১. সংবিধান ও সংশোধনী:
·
বিল
অফ রাইটস নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে সংবিধান দ্বারা সুরক্ষা দেয়।
·
আরও
পরবর্তীতে সংশোধনীর মাধ্যমে (যেমন ১৩, ১৪, ১৫ সংশোধনী) দাসপ্রথা
বাতিল, সমান অধিকার ও ভোটাধিকার সম্প্রসারিত
করা হয়েছে।
২. বিচারবিভাগ (Judiciary):
·
সুপ্রিম
কোর্ট ও অন্যান্য আদালত
নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা রক্ষার ক্ষমতা
রাখে।
·
উদাহরণ:
বাক স্বাধীনতা বা সমকামী অধিকার
সংরক্ষণে আদালতের ভূমিকা।
৩. আইন প্রণয়ন:
·
কংগ্রেস
নাগরিক অধিকার সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করে।
·
উদাহরণ:
সিভিল রাইটস অ্যাক্ট (Civil Rights Act)
১৯৬৪।
৪. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনমত:
·
নাগরিক
ভোট ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের
মাধ্যমে নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারে।
৩. সংক্ষেপে
বিল অফ রাইটস হলো
নাগরিকদের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সংবিধানিক কাঠামো।
·
সংবিধান,
আদালত, আইন প্রণয়ন, এবং জনমতের মাধ্যমে এই অধিকার প্রতিদিন
সুরক্ষিত হয়।
·
ফলে,
আমেরিকার নাগরিকরা রাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমিত রেখে ব্যক্তিস্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে।
14 বিচারিক
পর্যালোচনা নীতির অন্তর্নিহিত দর্শন বর্ণনা কর। অনুসরণীয় মামলা উল্লেখপূর্বক আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনা ক্ষমতা ব্যাখ্যা কর।
ঠিক আছে, ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করি।
১. বিচারিক পর্যালোচনা (Judicial
Review) নীতির অন্তর্নিহিত দর্শন
সংজ্ঞা:
বিচারিক পর্যালোচনা হলো সুপ্রীম কোর্ট বা আদালতের ক্ষমতা আইন ও সরকারি কার্যক্রমের সংবিধানিকতা পরীক্ষা করার জন্য।
·
যদি
কোনো আইন বা সরকারি কার্যক্রম
সংবিধান লঙ্ঘন করে, আদালত সেটি বাতিল করতে পারে।
দর্শনগত ভিত্তি:
1. সংবিধান সর্বোচ্চ আইন:
o
সংবিধান
হলো দেশের মৌলিক আইন। সব আইন ও
কার্যক্রম সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
2. ক্ষমতার ভারসাম্য:
o
আইনসভা
বা কার্যনির্বাহী শাখার ক্ষমতা সীমিত করতে বিচারবিভাগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
3. নাগরিক অধিকার সুরক্ষা:
o
ব্যক্তি
ও সংখ্যালঘুর অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালত তা রক্ষা করতে
পারে।
মূল উদ্দেশ্য:
·
সরকারকে
আইনের ঊর্ধ্বে না ওঠার শিক্ষা দেওয়া।
·
সংবিধানকে
জীবন্ত ও কার্যকর রাখার
মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
২. অনুসরণীয় মামলা (Landmark Case)
মারবারি বনাম ম্যাডিসন (Marbury v.
Madison, 1803)
·
এই
মামলায় সুপ্রীম কোর্ট প্রথমবার বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা স্বীকৃতি দেয়।
·
মামলার
সারমর্ম:
o
প্রেসিডেন্ট
এবং কংগ্রেস কর্তৃক জারি করা কোনো আইন যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে, আদালত তা বাতিল করতে
পারে।
o
বিচারক
জন মারবারি এই নীতি প্রতিষ্ঠা
করেন।
৩. আমেরিকান সুপ্রীম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনা ক্ষমতা
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
1. আইন বাতিল করার ক্ষমতা:
o
কংগ্রেস
বা স্টেটের আইন সংবিধান লঙ্ঘন করলে তা বাতিল করা
যায়।
2. কার্যনির্বাহী শাখার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ:
o
প্রেসিডেন্টের
কার্যক্রম সংবিধান অনুসারে কিনা তা পরীক্ষা করা।
3. নাগরিক অধিকার রক্ষা:
o
ব্যক্তি
ও সংখ্যালঘুর অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালত তা রক্ষা করতে
পারে।
4. সংবিধানকে প্রাধান্য দেওয়া:
o
সংবিধানকে
সর্বোচ্চ আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
উদাহরণ:
·
Brown v. Board of Education (1954)
– স্কুলে বর্ণভেদ আইন বাতিল করে।
·
Roe v. Wade (1973) – গোপন ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে।
৪. উপসংহার
বিচারিক পর্যালোচনা নীতি হলো গণতান্ত্রিক সরকারের ভারসাম্য ও নাগরিক অধিকার রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
·
এটি
আদালতকে সরকার এবং আইনসভাকে সংবিধানের নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা দেয়।
·
Marbury v. Madison মামলাটি এই ক্ষমতার প্রতিষ্ঠা
ঘটায়, যা পরবর্তীতে আমেরিকার
বিচারিক ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়।
No comments