রাজস্ব আইন এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা স্পেশাল শর্ট সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর সহজ ও সাবলীয় ভাষায় পার্ট- ৩
৫। (ক) কৃষি আয় বলতে কী বুঝ? কৃষি আয়ের শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ কর।
(খ) কৃষি আয়ের অনুমোদনযোগ্য খরচ/ভাতাসমূহ উল্লেখ কর।
৫। (ক) কৃষি আয়
ও শ্রেণিবিভাগ
কৃষি আয় (Agricultural Income) বলতে কী বুঝ?
কৃষি আয় হলো—
কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের দ্বারা কৃষিজমি, পশু, মাছচাষ বা কৃষি সম্পত্তি ব্যবহার করে অর্জিত আয়, যা ফসল উৎপাদন,
পশুপালন, বাগান, উদ্যান বা মৎস্যচাষ থেকে
আসে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
·
এটি
মূলত কৃষিজমি বা কৃষি সম্পদ ব্যবহার করে অর্জিত হয়।
·
আইনের
দৃষ্টিতে এটি করযোগ্য হতে পারে, তবে অনুমোদিত খরচ কেটে নিট আয় নির্ধারণ করা হয়।
কৃষি আয়ের শ্রেণিবিভাগ
১. প্রধান ফসল বা চাষাবাদ (Principal Crops)
·
ধান,
গম, শাকসবজি, তরমুজ, আখ ইত্যাদি ফসল
থেকে আয়।
২. বাগান ও উদ্যানজাত ফসল (Horticulture /
Orchards)
·
ফলমূল,
ফুল বা উদ্যানজাত ফসল
যেমন কলা, আম, লেবু, আপেল থেকে আয়।
৩. পশুপালন ও পাখি পালন (Animal Husbandry)
·
গবাদি
পশু, মেষ, গরু, ছাগল, মুরগি, হাঁস পালন ও বিক্রয় থেকে
আয়।
৪. মৎস্য চাষ (Fisheries /
Aquaculture)
·
পুকুর,
জলাশয় বা ট্যাংকে মাছ
চাষ ও বিক্রি থেকে
আয়।
৫. কৃষি সম্পর্কিত সেবা/উপপণ্য (Ancillary
Agricultural Income)
·
উদ্ভিদ
বীজ, গোবর, পশু খাবার, কৃষি সরঞ্জাম বিক্রি বা কৃষি-সংক্রান্ত
সেবা প্রদান।
✍️
উপসংহার
·
কৃষি
আয় মূলত জমি বা কৃষি সম্পদ ব্যবহার করে অর্জিত আয়।
·
শ্রেণিবিভাগের
মাধ্যমে এটি চেনা যায়: ফসল, উদ্যান, পশুপালন, মৎস্যচাষ ও কৃষি সম্পর্কিত
উপপণ্য।
·
আইন
অনুযায়ী নির্দিষ্ট খরচ কেটে কৃষি আয়ের উপর কর নির্ধারণ করা
হয়।
প্রশ্ন (খ) : কৃষি আয়ের অনুমোদনযোগ্য খরচ/ভাতাসমূহ উল্লেখ কর।
উত্তর:
কৃষি আয় থেকে করযোগ্য আয় নির্ধারণের সময়, কিছু নির্দিষ্ট খরচ বা ভাতা আয়
থেকে বাদ দেওয়া যায়। এই খরচগুলোকে বলা
হয় “অনুমোদনযোগ্য খরচ”। এগুলো মূলত
কৃষি উৎপাদন বা পশুপালন সংক্রান্ত
খরচ। এগুলো সাধারণত নিম্নরূপঃ
১. সরাসরি উৎপাদন খরচ
যেসব খরচ ফসল উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, যেমন:
·
বীজ,
সার, কীটনাশক, এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ খরচ
·
সেচ
ও পানি সরবরাহ খরচ
·
কৃষি
যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও তার ক্ষয়ক্ষতি
(Depreciation)
·
শ্রমিকদের
মজুরি (কৃষি কাজের জন্য)
·
জমির
প্রস্তুতি, চাষ এবং ফসল সংগ্রহের খরচ
২. পশুপালন/মৎস্যচাষ খরচ
যেসব খরচ প্রাণী বা মাছের উৎপাদনের
সাথে সম্পর্কিত, যেমন:
·
খাবার,
ওষুধ, ভ্যাকসিন, এবং পরিচর্যা খরচ
·
পশুর
বীমা প্রিমিয়াম (যদি আইন অনুমোদিত)
·
পশুর
চারণ বা খামারের অবকাঠামো
খরচের নির্দিষ্ট অংশ
৩. খামার বা কৃষি সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ
·
খামার
বা মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, ফসল সংরক্ষণ ও শীতলীকরণ খরচ
·
বিদ্যুৎ
ও জ্বালানি খরচ (যদি কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়)
·
মেকানিক্যাল
যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও ছোটখাট মেরামত
৪. অন্যান্য অনুমোদনযোগ্য খরচ
·
কৃষি
সম্পর্কিত গবেষণা ও উন্নয়ন খরচ
(যদি বৈধভাবে প্রমাণিত)
·
স্থানীয়
আইন অনুযায়ী অনুমোদিত অন্যান্য কৃষি খরচ
মোট কথা:
কৃষি আয় থেকে শুধুমাত্র সেই খরচ বাদ দেওয়া যায়, যা কৃষি আয় অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয়। ব্যক্তিগত খরচ
বা বিনোদনের খরচ অনুমোদিত নয়।
৬। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ কী কী? কর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য তোমার মতামত বর্ণনা কর ।
১। বাংলাদেশের সরকারের আয়ের প্রধান উৎসসমূহ
বাংলাদেশ সরকারের আয় মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
(ক) রাজস্ব আয় (Revenue Receipts)
যে আয় সরকারের নিয়মিত খরচ চালানোর জন্য আসে, যা ঋণ ছাড়া
পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রধান
উৎস:
1. কর (Tax Revenue)
সরকার আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ কর থেকে আয়
করে। প্রধান করসমূহ:
o
আয়কর
(Income Tax): ব্যক্তি
ও প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে নেওয়া হয়
o
মূল্য
সংযোজন
কর
(VAT): পণ্য
ও সেবার ক্রয়ের সময়
o
শুল্ক
(Custom Duty): আমদানি
পণ্যে
o
কর্পোরেট
কর:
কোম্পানির মুনাফা থেকে
2. করের বাইরে রাজস্ব (Non-Tax Revenue)
সরকার করের বাইরে যে আয় পায়,
যেমন:
o
সরকারি
প্রতিষ্ঠান থেকে লাভ (Profit)
o
ফি,
চার্জ ও লাইসেন্স ফি
o
সরকারী
সম্পত্তি ভাড়া ও অনুদান
(খ) ঋণমূলক আয় (Capital Receipts)
যেসব আয় ঋণের মাধ্যমে আসে বা সরকারি সম্পদ
বিক্রি থেকে আসে:
·
বিদেশি
ঋণ (External
Borrowing)
·
সরকারি
বন্ড ও সিকিউরিটি বিক্রি
·
সরকারি
সম্পত্তি বিক্রয়
২। কর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করার জন্য মতামত
কর রাজস্ব বাড়ানো মানে সরকারের আয় বাড়ানো। এর জন্য কয়েকটি
কার্যকর পদ্ধতি:
(ক) কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
·
ডিজিটাল
কর প্রশাসন চালু করা (e-TIN, অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্ট)
·
কর
ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি ও তথ্য প্রযুক্তি
ব্যবহার
(খ) করপলিসি সংস্কার
·
দরিদ্র
ও মধ্যবিত্তদের জন্য প্রণোদনা রাখা, উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও কোম্পানির কর
বৃদ্ধি
·
করের
হার সমন্বয় করে কর ভিত্তি সম্প্রসারণ
(গ) জনগণকে সচেতন করা
·
কর
দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা সম্পর্কে
জনসচেতনতা বৃদ্ধি
·
শিক্ষা
ও প্রচারাভিযান
(ঘ) নতুন কর ও উৎস খুঁজে বের করা
·
পরিবেশ
কর, সেবার উপর নতুন কর, ডিজিটাল ইকোনোমি কর
·
কৃষি,
শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরে
করের সুযোগ সুনিশ্চিত করা
(ঙ) প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি
·
কর
আদায় অফিসের দক্ষতা বৃদ্ধি
·
কর
ফাঁকি, জালিয়াতি ও লেনদেনে শাস্তিমূলক
ব্যবস্থা
(চ) উন্নত তথ্য ও ডেটা ব্যবহার
·
ব্যাংক
ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে করদাতা শনাক্ত করা
·
ট্যাক্স
ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার
উপসংহার
বাংলাদেশ সরকারের আয় মূলত কর ও কর-সংক্রান্ত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কর রাজস্ব বৃদ্ধি
করতে হলে কর ব্যবস্থা আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনগণ-বান্ধব হতে হবে।
সতর্ক নজরদারি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং নতুন কর উৎসের সঠিক
ব্যবহারই সরকারের স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
৭। (ক) আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের পার্থক্য কর।
(খ) মূল্য সংযোজন করের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা কর।
(গ) বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন করের বৈশিষ্ট্য লিখ।
আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের পার্থক্য (বিস্তারিত)
|
বিষয় |
আয়কর (Income Tax) |
মূল্য সংযোজন কর (VAT) |
|
প্রকৃতি |
সরাসরি কর
(Direct Tax) – করদাতা তার
আয়
থেকে
সরাসরি সরকারকে প্রদান করে |
পরোক্ষ কর
(Indirect Tax) – ভোক্তা কর
বহন
করে,
বিক্রেতা সরকারের কাছে
জমা
দেয় |
|
কর ধার্য/প্রয়োগের ভিত্তি |
ব্যক্তি, কোম্পানি বা
প্রতিষ্ঠানের আয় বা লাভের ওপর |
পণ্য
ও
সেবার মূল্য/ক্রয়মূল্যের ওপর |
|
উদ্দেশ্য |
আয়
থেকে
সরাসরি রাজস্ব সংগ্রহ করা |
উৎপাদন ও
বিক্রয়ের প্রতিটি ধাপে
কর
সংগ্রহ করে
রাজস্ব বৃদ্ধি করা |
|
করদাতা (Taxpayer) |
ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠান |
চূড়ান্ত ভোক্তা, তবে
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসাব রাখে
এবং
সরকারকে জমা
দেয় |
|
কর প্রদানের সময় |
সাধারণত বার্ষিক বা
নির্দিষ্ট সময়ে আয়
ঘোষণা ও
কর
প্রদান |
পণ্য
বা
সেবা
বিক্রয়ের সময়
স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ
হয় |
|
পরিমাণ নির্ধারণ |
আয়ের হার
অনুযায়ী (যেমন:
১০%,
২০%,
২৫%) |
বিক্রয়মূল্যের একটি
নির্দিষ্ট শতাংশ (যেমন
৫%,
১৫%) |
|
প্রক্রিয়া |
করদাতা তার
আয়
হিসাব করে
নিজে
জমা
দেয় |
ব্যবসায়ী কর
সংগ্রহ করে,
সরকারকে রিপোর্ট ও
জমা
দেয় |
|
কর ফাঁকি সম্ভাবনা |
ব্যক্তির আয়
লুকানো বা
রিপোর্ট না
করলে
কর
ফাঁকি সহজ |
উৎপাদন ও
বিক্রয়ের প্রতিটি ধাপে
প্রয়োগ হওয়ায় ফাঁকি দেওয়া তুলনামূলক কঠিন |
|
ব্যবহারযোগ্যতা/প্রভাব |
উচ্চ
আয়
বা
লাভবান প্রতিষ্ঠান ও
ব্যক্তির উপর
বেশি
প্রভাব |
সাধারণ ভোক্তা ও
বাজারের সমস্ত ব্যবসায় প্রভাব ফেলে |
|
উদাহরণ |
ব্যক্তির বেতন,
ব্যবসার লাভ,
কোম্পানির মুনাফা |
খাদ্যপণ্য, সেবা,
ইলেকট্রনিক্স, রেস্তোরাঁর বিল
ইত্যাদি |
(খ) মূল্য সংযোজন করের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা
(Advantages)
1. সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি: পণ্য ও সেবার বিক্রয়ের
ওপর ধার্য হওয়ায় আয় বাড়ায়।
2. কর ফাঁকি কমায়: উৎপাদন ও বিক্রয়ের প্রতিটি
ধাপে কর প্রয়োগ হওয়ায়
ফাঁকি দেওয়া কঠিন।
3. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজ সংগ্রহ: ভোক্তা টাকা প্রদান করে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারকে জমা দেয়।
4. বাজারভিত্তিক: উৎপাদন ও বিক্রয়ের প্রতিটি
ধাপে প্রয়োগ হওয়ায় রাজস্ব ধারাবাহিক।
5. উচ্চ আয়কারী পণ্যের ওপর বেশি প্রভাব: বিলাসবহুল পণ্য ও সেবার কর
বেশি হওয়ায় রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
অসুবিধা
(Disadvantages)
1. ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ: সব ধাপে কর
যোগ হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
2. দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর প্রভাব: দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনযাত্রা ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
3. প্রশাসনিক জটিলতা: ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে হিসাব রাখতে হবে এবং সরকারকে রিপোর্ট দিতে হবে।
4. ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবাখাতের জন্য কঠিন: ছোট ব্যবসা VAT সংগ্রহ ও জমা দেওয়া
কঠিন মনে করে।
5. মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর সম্ভাবনা: উচ্চ VAT প্রয়োগে পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে।
(গ) বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন করের বৈশিষ্ট্য
1. পরোক্ষ কর (Indirect Tax):
ভোক্তা কর বহন করে,
কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারকে জমা দেয়।
2. একাধিক ধাপে প্রয়োগ: উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রয়ের প্রতিটি
ধাপে ধার্য হয়।
3. নির্ধারিত হার: সরকার নির্দিষ্ট শতাংশ (যেমন ১৫%) প্রয়োগ করে।
4. কর ফাঁকি রোধকারী: ইনভয়েস ও হিসাব-রেকর্ডের
মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করা হয়।
5. সকল ব্যবসা ও পণ্যে প্রয়োগযোগ্য: কিছু করমুক্ত পণ্য ও সেবা ব্যতীত।
6. রাজস্ব সংগ্রহের প্রধান উৎস: বাংলাদেশে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।
7. স্বয়ংক্রিয় সংযোজন: পণ্যের ক্রয়মূল্যের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয়।
8. বাজারভিত্তিক: পণ্যের বিক্রয় ও চাহিদার সঙ্গে
মানিয়ে যায়।
১। (ক) আয়করের সংজ্ঞা দাও। আয় করবর্ষের সমস্যাবলি চিহ্নিত কর। একজন করদাতার উপর কিভাবে কর ধার্য করা হয়?
ক)
আয়করের সংজ্ঞা
দাও।
আয়করের সংজ্ঞা:
আয়কর
হলো
সরকার কর্তৃক আরোপিত একটি প্রকারের কর, যা
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয় বা আয়ের উৎসের উপর ধার্য করা হয়। অর্থাৎ, যে
অর্থ
বা
আয়
ব্যক্তি বা
কোম্পানি অর্জন
করে,
তার
একটি
নির্দিষ্ট অংশ
সরকারকে প্রদান
করতে
হয়,
সেটাই
আয়কর।
মূল পয়েন্টগুলো:
- এটি প্রতিব্যক্তি
বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ধার্য করা হয়।
- এটি সরকারের
রাজস্ব সংগ্রহের প্রধান উৎস।
- আয়কর সাধারণত প্রদত্ত
আয়ের পরিমাণ অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় (উদাহরণ: উচ্চ আয়ের ব্যক্তির করের হার বেশি)।
সোজা
ভাষায়
বলা
যায়,
"আয়কর হলো আয়ের একটি অংশ যা আমরা সরকারের জন্য দেই"
আয়কর বর্ষের সমস্যাবলি (Income Tax
Assessment Year Problems):
1. আয়কর বছর (Assessment Year) এবং অর্থবছর (Previous Year) এর বিভ্রান্তি
o
অনেকেই
পূর্ববর্তী বছরের আয় আর মূল বছরের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্ত হয়।
o
উদাহরণ:
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়
কর পরবর্তী বছর ২০২৬-২৭ এ নির্ধারণ করা হয়।
2. আয়ের ধরন সঠিকভাবে চিহ্নিত করা না হওয়া
o
যেমন:
বেতন, ভাড়া, সুদ, লভ্যাংশ, ব্যবসায়িক আয় — সব আয় একইভাবে
নয়।
o
কিছু
আয় করমুক্ত (Tax-exempt) হয়, যেমন কিছু সরকারী বন্ড বা ভাতা।
3. ছাড় ও অব্যাহতির হিসাব ভুল করা
o
যেমন:
৮০সি, ৮০ডি, ৮০জি এর মতো ছাড়
ঠিকভাবে নেওয়া হয় না।
o
ছাড়
এবং অব্যাহারগুলো আয়করের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।
4. সঠিক কর হার বা ট্যাক্স রেট প্রয়োগ না করা
o
আয়ের
স্তর অনুযায়ী কর হার আলাদা
হয়।
o
অনেকেই
উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে কম হার ধরে ভুল হিসাব করে।
5. মেয়াদ বা সময়সীমার ভুল
o
আয়কর
রিটার্ন (ITR) জমার শেষ তারিখ মিস হলে দণ্ড (Penalty) দিতে হয়।
6. প্রমাণপত্র বা নথি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা
o
যেমন:
বেতন পে-স্লিপ, ব্যাঙ্ক
স্টেটমেন্ট, ভাড়া রশিদ ইত্যাদি।
o
এগুলো
ছাড়া কর নির্ণয় করা
কঠিন হয়।
7. আয় এবং ব্যয় বিভ্রান্তি
o
ব্যবসায়িক
বা পেশাগত আয় এবং খরচের হিসাব ঠিক না রাখা।
o
অনেক
সময় ভুলভাবে ব্যয়কে আয় থেকে বাদ দেওয়া হয় বা অতিরিক্ত ছাড়
নেওয়া হয়।
💡 সংক্ষেপে
বলা যায়:
"মূল
সমস্যাগুলো
হলো
সময়কাল,
আয়ের
ধরন,
কর হার, ছাড়, নথি ও হিসাব ভুল"।
কিভাবে একজন করদাতার উপর আয়কর ধার্য করা হয়।
কর ধার্য করার ধাপসমূহ:
1. আয় নির্ধারণ (Determination of
Income)
o
প্রথমে
করদাতার সকল আয় (বেতন, ব্যবসা, ভাড়া, সুদ, লভ্যাংশ ইত্যাদি) হিসাব করা হয়।
o
শুধুমাত্র
করযোগ্য আয় (Taxable Income) গণনা করা হয়, করমুক্ত আয় বাদ দিয়ে।
2. ছাড় ও অব্যাহার প্রয়োগ (Deductions &
Exemptions)
o
আয়ের
উপর থেকে আইনের অনুমোদিত ছাড় ও অব্যাহার কমানো হয়।
o
যেমন:
৮০সি (বিনিয়োগে ছাড়), ৮০ডি (বীমা প্রিমিয়াম), ৮০জি (দান) ইত্যাদি।
3. করযোগ্য আয় নির্ধারণ (Net Taxable
Income)
o
মোট
আয় থেকে ছাড় ও অব্যাহার বাদ
দিয়ে করযোগ্য আয় পাওয়া যায়।
4. কর হার প্রয়োগ (Applying Tax
Rates)
o
করদাতার
আয়ের স্তর অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর হার (Tax Slab) প্রয়োগ করা হয়।
o
উদাহরণ:
§ ছোট আয়: ৫%
§ মাঝারি আয়: ২০%
§ উচ্চ আয়: ৩০%
5. অগ্রিম কর ও উৎসে কর (Advance/ TDS
Adjustment)
o
যদি
করদাতা পূর্বে উৎসে কর (TDS) বা অগ্রিম কর প্রদান করে থাকে, তা মূল কর
থেকে বাদ দেওয়া হয়।
6. চূড়ান্ত কর নির্ধারণ (Final Tax
Liability)
o
শেষ
পর্যন্ত মোট কর – আগাম প্রদত্ত কর = বাকি কর।
o
যদি
ইতিমধ্যে বেশি কর দেওয়া থাকে
→ ফেরত (Refund)
o
যদি
কম দেওয়া থাকে → বাকি কর পরিশোধ করতে
হয়।
(ক) আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কারা আয়কর বিবরণী দাখিল করতে বাধ্য?
আয়কর আইন বা অধ্যাদেশ অনুযায়ী,
আয়কর রিটার্ন বা বিবরণী জমা
দেওয়ার জন্য যে ব্যক্তিরা বাধ্য,
তাদের শ্রেণিবিন্যাস নিম্নরূপ:
১. যারা আয়করযোগ্য আয় অর্জন করেছে
·
যে
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যার
মোট আয় নির্ধারিত সীমার (Basic Exemption
Limit) উপরে।
·
উদাহরণ:
যদি দেশের কর আইনে ৩
লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত হয়, এবং কোনো ব্যক্তির আয় ৩ লাখের বেশি
হয়, তাহলে তাকে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
২. চাকরি বা বেতনভুক্ত কর্মচারী
·
যে
ব্যক্তি চাকরি থেকে বেতন বা অন্যান্য সুবিধা (Allowance, Bonus,
etc.) পায়,
এবং কর কেটে রাখা
হয়েছে (TDS – Tax
Deducted at Source)।
·
রিটার্ন
জমা দিলে তারা ফেরত পাওয়া বা কর সমন্বয় করতে পারে।
৩. ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী (Self-employed /
Professional)
·
যারা
ব্যবসা, পেশা বা স্বাধীন কর্মকাণ্ড থেকে আয় করে, যেমন দোকানদার, ডাক্তার, আইনজীবী ইত্যাদি।
·
এমন
ব্যক্তিরা তাদের মোট আয়, খরচ, লাভ-লোকসান হিসাব করে রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য।
৪. উৎসে কর কেটে রাখা আয় প্রাপ্ত ব্যক্তি (TDS beneficiary)
·
যেমন:
ভাড়া, সুদ, লভ্যাংশ বা পেশাগত পারিশ্রমিক
থেকে কর কাটা হয়েছে।
·
এই
ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর ফেরত পাওয়া যায়।
৫. বিদেশ থেকে আয় প্রাপ্ত ব্যক্তি বা বৈদেশিক সম্পত্তি ধারক
·
বিদেশে
আয় কর প্রাপ্ত ব্যক্তি,
বা বিদেশে স্থায়ী সম্পত্তি থাকলে আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক।
৬. বিশেষ প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রিটার্ন বাধ্যতামূলক
·
কিছু
ক্ষেত্রে সরকার নির্দিষ্ট ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করতে পারে, যেমন:
o
বড়
বিনিয়োগকারী
o
উচ্চ
আয়ের ব্যক্তি
o
যারা
কোম্পানি বা অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা
করে
💡 সংক্ষেপে
সহজভাবে
মনে
রাখার
নিয়ম:
“যারা
করযোগ্য
আয়
করে,
ব্যবসা
বা পেশা থেকে আয় করে, চাকরি বা উৎসে কর কেটে রাখা আয় পায়, বা বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশী আয়/সম্পত্তি আছে, তারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য।”
(খ) বিভিন্ন করদাতার আবাসিক মর্যাদা কিভাবে নিরূপণ করা হয়? একজন করদাতার আবাসিক মর্যাদা কিভাবে তার মোট আয় ও করদায়কে প্রভাবিত করে?
বিভিন্ন করদাতার আবাসিক মর্যাদা নিরূপণ
আবাসিক মর্যাদা নিরূপণের নিয়ম (Residential Status of Taxpayer)
কর
আইন
অনুযায়ী, একজন
ব্যক্তির আবাসিক মর্যাদা নির্ভর
করে
অর্থবছরে দেশের মধ্যে অবস্থানের সময় এবং
দেশের
সঙ্গে
তার
সম্পর্কের ওপর।
প্রধান
তিনটি
শ্রেণি
আছে:
১. স্থায়ী বাসিন্দা (Resident – R)
- যে ব্যক্তি অর্থবছরে
≥ ১৮২ দিন দেশের মধ্যে অবস্থান করে, তাকে Resident বলা হয়।
- Resident ব্যক্তি দেশের সঙ্গে সামাজিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখে।
- Resident এর সমস্ত আয় (দেশ ও
বিদেশের) করযোগ্য।
২. অস্থায়ী বাসিন্দা (Resident but Not Ordinary Resident – R-NOR)
- যিনি
Resident হলেও, সম্পূর্ণ বছরের জন্য স্থায়ীভাবে দেশে থাকেন না বা কিছু বিদেশি আয়কর সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
- R-NOR সাধারণত Resident এর তুলনায় কিছু বিদেশি আয় করমুক্ত থাকে।
৩. অ-বাসিন্দা (Non-Resident – NR)
- যারা অর্থবছরে
< ১৮২ দিন দেশের মধ্যে থাকেন, তারা Non-Resident।
- Non-Resident ব্যক্তিরা শুধু দেশের মধ্যে অর্জিত আয়ের উপর কর দিতে বাধ্য।
- বিদেশে অর্জিত আয় করযোগ্য নয় (যদি দেশীয় আইন অনুযায়ী
অন্য নিয়ম না থাকে)।
একজন
করদাতার আবাসিক
মর্যাদা কিভাবে
তার
মোট
আয়
ও
করদায়কে প্রভাবিত করে?
আবাসিক মর্যাদা ও করদায়িত্বের সম্পর্ক
একজন
করদাতার আবাসিক মর্যাদা সরাসরি
প্রভাব
ফেলে
তার
মোট আয় এবং করদায় এর
ওপর।
১. Resident (স্থায়ী বাসিন্দা)
- মোট
আয়:
- Resident ব্যক্তি সমস্ত বিশ্বের আয় (Worldwide Income) এর ওপর কর দিতে হয়।
- অর্থাৎ দেশের বাইরে আয় (যেমন: বিদেশে বেতন, ব্যবসা, সুদ, লভ্যাংশ)ও করযোগ্য।
- করদায়িত্ব:
- সর্বোচ্চ
করদায়িত্ব, কারণ আয় বেশি এবং সব ধরনের আয় করযোগ্য।
উদাহরণ:
- একজন বাংলাদেশী
ব্যক্তি পুরো বছর বাংলাদেশে অবস্থান করেন।
- তিনি দেশে চাকরি থেকে বেতন পান + বিদেশ থেকে লভ্যাংশ পান → উভয় আয়ই করযোগ্য।
২. Non-Resident (অ-বাসিন্দা)
- মোট
আয়:
- Non-Resident ব্যক্তি শুধু দেশের মধ্যে অর্জিত আয় এর ওপর কর দিতে বাধ্য।
- দেশের বাইরে অর্জিত আয় সাধারণত
করযোগ্য নয়।
- করদায়িত্ব:
- Resident এর তুলনায় কম।
উদাহরণ:
- একজন বাংলাদেশী
ব্যক্তি পুরো বছর বিদেশে থাকেন।
- তিনি শুধু বাংলাদেশে
ভাড়া বা ব্যবসায়িক আয় পান → শুধুমাত্র এই আয় করযোগ্য।
৩. R-NOR (Resident but Not Ordinary Resident / অস্থায়ী
বাসিন্দা)
- Resident কিন্তু কিছু বিদেশি আয়কর সুবিধা সীমিত।
- মোট
আয়:
Resident এর মতো, তবে কিছু বিদেশি আয় করমুক্ত হতে পারে।
- করদায়িত্ব: Resident এর চেয়ে কম কিছুটা, Non-Resident এর চেয়ে বেশি।
সংক্ষেপে প্রভাব
|
আবাসিক মর্যাদা |
করযোগ্য আয় |
করদায়িত্ব |
|
Resident (R) |
বিশ্বের সব
আয় |
সর্বোচ্চ |
|
R-NOR |
Resident এর মতো, কিছু
বিদেশি আয়
বাদ |
Resident এর চেয়ে কম |
|
Non-Resident (NR) |
শুধু
দেশের আয় |
Resident এর চেয়ে কম |
No comments