Header Ads

Header ADS

একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির ভূমিকা ও অবদান কি? আলোচনা কর । বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি রাক্ষার্থে ওায়াইপো এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর ।

 

. (ক) একটি দেশের অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির ভূমিকা অবদান কি? আলোচনা কর

(খ) বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি রাক্ষার্থে ওায়াইপো এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর

 

ভূমিকা

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলতে মানুষের মেধা, সৃজনশীলতা চিন্তা থেকে সৃষ্ট সম্পদকে বোঝায়, যেমনপেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, শিল্প নকশা ভৌগোলিক নির্দেশক। আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই সম্পত্তির সুরক্ষা সঠিক ব্যবহার দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির ভূমিকা

. উদ্ভাবন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সুরক্ষা থাকলে উদ্ভাবক গবেষকরা নতুন প্রযুক্তি, পণ্য সেবা উদ্ভাবনে উৎসাহিত হন। এর ফলে শিল্প প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটে।

 

. শিল্পায়ন বিনিয়োগ বৃদ্ধি

আইনগত সুরক্ষা থাকায় দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশ পায়। এতে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

 

. কর্মসংস্থান সৃষ্টি

নতুন শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সৃজনশীল খাতের বিকাশের ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক।

 

. জাতীয় আয় রপ্তানি বৃদ্ধি

ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সৃজনশীল পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা জাতীয় আয় বাড়ায়।

 

. ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিকাশ

ট্রেডমার্ক GI পণ্যের সুরক্ষা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাজারে টিকে থাকতে সহায়তা করে এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ায়।

 

সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির ভূমিকা

. সাহিত্য শিল্পের বিকাশ

কপিরাইট আইন লেখক, কবি, শিল্পী সৃজনশীল ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা করে, ফলে সাহিত্য শিল্পচর্চা বিকশিত হয়।

 

. জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ

লোকসংগীত, লোকশিল্প ঐতিহ্যবাহী পণ্যের (GI) সুরক্ষা জাতীয় সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়ক।

 

. সৃজনশীল পেশায় উৎসাহ

আইনগত সুরক্ষা থাকায় মানুষ সৃজনশীল পেশায় যুক্ত হতে আগ্রহী হয়, যা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে।

 

. সাংস্কৃতিক শিল্পের বাণিজ্যিকীকরণ

চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক ডিজিটাল কনটেন্ট শিল্পের বিকাশ ঘটে, যা সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করে।

 

. আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিচিতি

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করে এবং সাংস্কৃতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

 

উপসংহার

সার্বিকভাবে বলা যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। এটি উদ্ভাবন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সঠিক আইন প্রণয়ন কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।

 

(খ)বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি রাক্ষার্থে ওায়াইপো এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর

ভূমিকা

আধুনিক বিশ্বে জ্ঞান, প্রযুক্তি সৃজনশীলতাই অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। এই সৃজনশীল কাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রয়োজন থেকেই WIPO (World Intellectual Property Organization) গঠিত হয়। জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে WIPO বিশ্বব্যাপী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি রক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

WIPO-এর ভূমিকা বিশ্লেষণ

. আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ব্যবস্থা গঠন

WIPO বিশ্বব্যাপী একটি সমন্বিত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে। এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিন্ন নীতিমালা মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।

 

. আন্তর্জাতিক চুক্তি কনভেনশন পরিচালনা

WIPO বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি পরিচালনা তত্ত্বাবধান করে, যেমন

·         বার্ন কনভেনশন (কপিরাইট)

·         প্যারিস কনভেনশন (শিল্প সম্পত্তি)

·         PCT (Patent Cooperation Treaty)

এসব চুক্তির মাধ্যমে এক দেশের স্রষ্টার অধিকার অন্য দেশেও স্বীকৃতি পায়।

 

. আন্তর্জাতিক নিবন্ধন ব্যবস্থা পরিচালনা

WIPO পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক শিল্প নকশার আন্তর্জাতিক নিবন্ধন সহজ করে। এর ফলে একাধিক দেশে একসঙ্গে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়, যা সময় ব্যয় সাশ্রয় করে।

 

. উন্নয়নশীল দেশকে সহায়তা প্রদান

WIPO উন্নয়নশীল স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে, যাতে তারা কার্যকরভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষা দিতে পারে।

 

. প্রশিক্ষণ জনসচেতনতা বৃদ্ধি

WIPO বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সেমিনার গবেষণার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, গবেষক উদ্যোক্তাদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

 

. বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা

WIPO Arbitration and Mediation Center-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।

 

. ডিজিটাল যুগে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ

ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে সৃষ্ট নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় WIPO অনলাইন কপিরাইট, সফটওয়্যার ডিজিটাল কনটেন্ট সুরক্ষায় নীতিমালা দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

 

. গবেষণা তথ্য সরবরাহ

WIPO বিশ্বব্যাপী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্য, পরিসংখ্যান গবেষণা প্রকাশ করে, যা নীতি নির্ধারণে সহায়ক।

 

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, WIPO বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রীয় কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এটি স্রষ্টার অধিকার সংরক্ষণ, উদ্ভাবন উৎসাহিতকরণ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সমন্বয়ের মাধ্যমে WIPO বিশ্বব্যাপী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।

No comments

Powered by Blogger.