) কপিরাইটের মালিক কে? এর ব্যতিক্রমগুলে আলোচনা কর। কপিরাইট মালিকের অধিকারগুলো আলোচনা কর । কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন বলতে কি বুঝ? কপিরাইট আইন ভঙ্গের প্রতিকার কি কি ? কোনো কার্যের কপিরাইট সংরক্ষণের শর্তাবলি বা মান নির্ণায়ক কি?
3) (ক) কপিরাইটের মালিক কে? এর ব্যতিক্রমগুলে আলোচনা কর। কপিরাইট
মালিকের অধিকারগুলো আলোচনা কর ।
(খ)
কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন বলতে কি বুঝ? কপিরাইট
আইন ভঙ্গের প্রতিকার কি কি ? কোনো
কার্যের কপিরাইট সংরক্ষণের শর্তাবলি বা মান নির্ণায়ক
কি?
(ক) কপিরাইটের
মালিক কে? এর ব্যতিক্রমগুলে আলোচনা কর। কপিরাইট
মালিকের অধিকারগুলো আলোচনা কর ।
কপিরাইটের
মালিক
সাধারণত হলো সৃষ্টিকর্তা
(Author/Creator)—অর্থাৎ
যিনি সাহিত্যকর্ম, সংগীত, শিল্পকর্ম, চলচ্চিত্র, সফটওয়্যার ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন।
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে মালিক ভিন্ন হতে পারে—
1. চুক্তির মাধ্যমে
সৃষ্টিকর্তা চুক্তির মাধ্যমে কপিরাইট অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে
হস্তান্তর করলে সেই ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান মালিক হয়।
2. চাকরির আওতায় সৃষ্টি (Work for hire)
কোনো ব্যক্তি চাকরির দায়িত্বে থেকে কোনো কাজ সৃষ্টি করলে সাধারণত নিয়োগকর্তাই কপিরাইটের মালিক হয়।
3. সরকারি কাজ
সরকারি কর্মচারীর দ্বারা দাপ্তরিক কাজে সৃষ্ট কর্মের কপিরাইট সরকার ভোগ করে।
4. যৌথ সৃষ্টি
একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো কাজ সৃষ্টি করলে সবাই যৌথ মালিক হন।
কপিরাইটের মূল মালিক হলেন সৃষ্টিকর্তা, তবে আইন ও চুক্তি অনুযায়ী
মালিকানা পরিবর্তিত হতে পারে।
কপিরাইটের এর ব্যতিক্রমগুলে
আলোচনা কর।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কপিরাইটের মালিক হলেন যিনি কোনো সাহিত্য, শিল্প, সংগীত বা সফটওয়্যার ইত্যাদি
সৃষ্টি করেছেন। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে কপিরাইটের মালিক স্রষ্টা নয়, আইন অনুযায়ী অন্য কেউ হয়ে থাকতে পারে। এসমস্ত ব্যতিক্রমকে কপিরাইট মালিকানার ব্যতিক্রম বলা হয়।
কপিরাইট মালিকানার ব্যতিক্রমসমূহ
১. চাকরির আওতায় সৃষ্টি (Work for Hire)
·
যদি
কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার অধীনে
চাকরির অংশ হিসেবে কোনো কাজ তৈরি করে, তাহলে নিয়োগকর্তাই কপিরাইটের মালিক।
·
উদাহরণ:
কোনো সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত প্রোগ্রামার যখন কোম্পানির জন্য কোড লিখে, তখন কপিরাইট কোম্পানির।
২. চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর
·
সৃষ্টিকর্তা
চুক্তির মাধ্যমে তার কপিরাইট অন্য ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।
·
উদাহরণ:
বই প্রকাশনার জন্য লেখক প্রকাশকের কাছে কপিরাইট বিক্রি করলে প্রকাশক মালিক হয়।
৩. সরকারি কাজ
·
সরকারি
কর্মচারী তার চাকরির অংশ হিসেবে কোনো সাহিত্য বা সৃজনশীল কাজ
তৈরি করলে, কপিরাইট সরকারকে দেওয়া হয়।
·
উদাহরণ:
সরকারি প্রতিবেদন, সরকারি মানচিত্র, নথি বা শিক্ষামূলক প্রকাশনা।
৪. যৌথ সৃষ্টি (Joint Work)
·
যদি
একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো কাজ তৈরি করে, তাহলে সব সৃষ্টি-কর্তাই যৌথ মালিক।
·
যৌথ
মালিকানা অনুযায়ী, কাজের ব্যবহার বা বিক্রির জন্য
সাধারণত সকলের সম্মতি প্রয়োজন।
৫. মৃত্যু বা উত্তরাধিকার
·
সৃষ্টিকর্তা
মারা গেলে তার কপিরাইট উত্তরাধিকারীদের কাছে যায়।
·
আইন
অনুযায়ী এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রযোজ্য হয় (অনেক দেশে ৫০–৭০ বছর)।
সাধারণ নিয়ম হল—কপিরাইটের মালিক হলো সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু ব্যতিক্রমে নিয়োগকর্তা, প্রকাশক, সরকার বা যৌথ মালিক
হতে পারে। এই ব্যতিক্রমগুলো মূলত
চুক্তি, চাকরির অবস্থান, সরকারি কাজ এবং যৌথ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে ঘটে।
কপিরাইট মালিকের অধিকারগুলো আলোচনা কর ।
কপিরাইট হলো সৃজনশীল কাজের উপর সৃষ্টিকর্তার আইনগত অধিকার। এটি সৃষ্টিকর্তাকে তার কাজের ব্যবহার, বিতরণ এবং উপার্জনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ দেয়। কপিরাইট মালিকের অধিকার মূলত অর্থনৈতিক অধিকার এবং নৈতিক অধিকার—এই দুই ভাগে
বিভক্ত।
১. অর্থনৈতিক অধিকার (Economic Rights)
কপিরাইট মালিককে তার কাজ থেকে আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ দেয়। অর্থনৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে—
1. প্রকাশের অধিকার (Right of
Publication)
o
মালিক
সিদ্ধান্ত নেন, তার কাজ কখন এবং কোথায় প্রকাশিত হবে।
o
উদাহরণ:
কোনো বই বা গান
প্রকাশ করা বা অনলাইনে প্রকাশ
করা।
2. প্রতিলিপি বা কপি তৈরির অধিকার (Right of
Reproduction)
o
মালিকের
অনুমতি ছাড়া কেউ কাজের অনুলিপি তৈরি করতে পারে না।
o
উদাহরণ:
বই, গান বা সফটওয়্যার অননুমোদিতভাবে
কপি করা অবৈধ।
3. বিতরণ বা বিক্রির অধিকার (Right of
Distribution)
o
মালিক
তার কাজ বিক্রি বা বিতরণের নিয়ন্ত্রণ
রাখে।
o
উদাহরণ:
বই প্রকাশক বা সফটওয়্যার বিক্রয়।
4. প্রদর্শন বা প্রদর্শনের অধিকার (Right of Public
Performance/Display)
o
মালিক
সিদ্ধান্ত নেন, তার কাজ জনসমক্ষে কোথায় ও কখন প্রদর্শিত
হবে।
o
উদাহরণ:
নাটক, চলচ্চিত্র, সংগীত কনসার্ট।
5. অনুকরণ বা উদ্ভাবিত কাজ তৈরি করার অধিকার (Right of
Adaptation/Derivative Works)
o
মালিকের
অনুমতি ছাড়া কেউ কাজের উপর ভিত্তি করে নতুন কাজ তৈরি করতে পারবে না।
o
উদাহরণ:
বই থেকে সিনেমা বা গল্পের রিমেক।
২. নৈতিক অধিকার (Moral Rights)
মালিকের সৃষ্টির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সত্তার সংরক্ষণের অধিকার। নৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে—
1. স্বত্বার স্বীকৃতি (Right of
Attribution)
o
কাজটি
কার তৈরি তা চিহ্নিত করার
অধিকার।
o
উদাহরণ:
বই বা ছবি প্রকাশের
সময় লেখক/শিল্পীর নাম উল্লেখ।
2. কর্মের অখণ্ডতা রক্ষা (Right to Integrity)
o
মালিক
চাইলে কাজটি পরিবর্তন বা বিকৃত করা
যাবে না।
o
উদাহরণ:
চিত্রকর্মের অংশ কেটে নেওয়া বা গান পরিবর্তন
করা।
3. প্রকাশের অনুমতি বা প্রত্যাখ্যান (Right to
Publish or Withhold)
o
মালিক
চাইলে কাজ প্রকাশ না করার অধিকারও
রাখেন।
৩. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অধিকার
·
লাইসেন্স
দেওয়ার
অধিকার:
মালিক তার কাজ অন্যকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন।
·
বাণিজ্যিক
উপার্জনের
অধিকার:
কাজের মাধ্যমে রয়্যালটি বা অর্থ উপার্জন।
·
উত্তরাধিকারী
অধিকার:
মালিকের মৃত্যুতে তার অধিকার উত্তরাধিকারীদের কাছে যায়।
কপিরাইট মালিকের অধিকার শুধু অর্থনৈতিক লাভের জন্য নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার মর্যাদা ও সৃষ্টির অখণ্ডতা রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এটি সৃজনশীলতা
উদ্দীপিত করে এবং শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে
সহায়ক।
(খ)
কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন বলতে কি বুঝ? কপিরাইট
আইন ভঙ্গের প্রতিকার কি কি ? কোনো
কার্যের কপিরাইট সংরক্ষণের শর্তাবলি বা মান নির্ণায়ক
কি?
কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন (Copyright
Infringement) বলতে
বোঝায়:
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টিকর্তার অনুমতি ছাড়া তার কপিরাইট সুরক্ষিত কাজ ব্যবহার, প্রকাশ, অনুলিপি তৈরি, বিতরণ বা বিক্রয় করলে
সেটি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।
1. কোনো বই, গান, সফটওয়্যার বা ছবি অনুমতি
ছাড়া
কপি
করা
বা বিতরণ করা।
2. কোনো লেখক বা শিল্পীর নাম
উল্লেখ না করে তার
কাজ প্রকাশ করা বা বিকৃত করা।
3. কপিরাইট সুরক্ষিত কাজ থেকে রিমেক, অনুকরণ বা নতুন কাজ তৈরি করা মালিকের অনুমতি ছাড়া।
বৈশিষ্ট্য
·
এটি
আইনগত অপরাধ, যা দেওয়া হতে
পারে সিভিল মামলা বা ফৌজদারি শাস্তি।
·
মূল
উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্তার অধিকার রক্ষা করা এবং অন্যকে তার সৃষ্টির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন মানে হলো স্রষ্টার অনুমতি ছাড়া তার সৃজনশীল কাজ ব্যবহার বা পরিবর্তন করা।
কপিরাইট আইন
ভঙ্গের
প্রতিকার
কি
কি
কপিরাইট আইন ভঙ্গ হলে সৃষ্টিকর্তার অধিকার লঙ্ঘিত হয়। আইন অনুযায়ী কপিরাইট মালিককে সৃষ্টিকর্তার অর্থনৈতিক ও নৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিকারগুলো সাধারণত আইনি ব্যবস্থা (Civil remedies)
ও ফৌজদারি ব্যবস্থা (Criminal
remedies)—এই
দুই ভাগে বিভক্ত।
১. সিভিল প্রতিকার (Civil Remedies)
(ক) ক্ষতিপূরণ (Damages)
·
কপিরাইট
মালিককে তার আর্থিক ক্ষতি বা লোকসানের জন্য
ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
·
উদাহরণ:
অননুমোদিত কপি বিক্রির কারণে মালিকের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হলে আদালত ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
(খ) আদেশ (Injunction)
·
আদালত
ভাঙচুর বা অননুমোদিত ব্যবহারের
তাত্ক্ষণিক বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে।
·
উদাহরণ:
অননুমোদিত সফটওয়্যার বা বই বিক্রি
বন্ধ করা।
(গ) কপিরাইটের মালিকানা স্বীকৃতি (Declaratory
Relief)
·
আদালত
কাজটির মূল মালিক কে তা ঘোষণা
করতে পারে।
(ঘ) অনুলিপি বা নকল ধ্বংস
(Delivery up/Destruction of Infringing Copies)
·
অননুমোদিত
কপি ধ্বংস বা অধিগ্রহণ করা
হয়।
২. ফৌজদারি প্রতিকার (Criminal
Remedies)
কপিরাইটের গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
·
জরিমানা
(Fines): আইন
অনুযায়ী বড় অর্থ জরিমানা করা হয়।
·
কারাদণ্ড
(Imprisonment): বিশেষ
ক্ষেত্রে অনধিকার ব্যবহার বা পাইরেসি করলে
শাস্তি হতে পারে।
·
উদাহরণ:
পাইরেসি বা অননুমোদিত সফটওয়্যার/চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক ব্যবহারে কঠোর শাস্তি।
৩. অন্যান্য প্রতিকার
1. লাইসেন্সিং বা চুক্তি পুনঃস্থাপন
o
আদালত
নির্দেশ দিতে পারে যে, ভঙ্গকারী মালিকের অনুমতি নিয়ে লাইসেন্স ক্রয় করুক।
2. রয়্যালটি প্রদানের আদেশ
o
অননুমোদিত
ব্যবহারের মাধ্যমে যে আয় হয়েছে,
তা মালিককে দিতে হবে।
কপিরাইট আইন ভঙ্গ হলে মালিক সিভিল ও ফৌজদারি উভয় প্রতিকারের অধিকার পায়। এর মাধ্যমে—
·
সৃষ্টিকর্তার
আর্থিক ও নৈতিক অধিকার
রক্ষা হয়,
·
শিল্প
ও সৃজনশীলতা উত্সাহিত হয়,
·
নকল
পণ্য ও পাইরেসি নিয়ন্ত্রণে
আসে।
কপিরাইট সংরক্ষণ অর্থাৎ আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার জন্য একটি সৃষ্টিকর্মের নির্দিষ্ট শর্তাবলি পূরণ করতে হয়। কেবল নতুন
বা মেধাস্বত্বপূর্ণ কাজগুলোই কপিরাইটের আওতায় আসে।
কোনো কার্যের কপিরাইট সংরক্ষণের শর্তাবলি বা মান নির্ণায়ক কি?
কপিরাইট সংরক্ষণের প্রধান শর্তাবলি
১. কাজটি সৃজনশীল হতে হবে
(Originality/Creativity)
·
কাজটি
মূল এবং স্বতন্ত্র হতে হবে, অন্য কোনো কাজের অনুলিপি নয়।
·
উদাহরণ:
নতুন লেখা কবিতা, নিজস্ব চিত্রকর্ম, নতুন সফটওয়্যার কোড।
২. মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টি (Work of
Authorship)
·
কপিরাইট
শুধুমাত্র মানসিক বা মেধার ফল সংরক্ষণ করে।
·
উদাহরণ:
লেখা, গান, চিত্র, সফটওয়্যার, নাটক।
·
ভৌত
বস্তু বা ধারণা (idea) কপিরাইটের
আওতায় আসে না, কেবল তার প্রকাশ রূপ।
৩. নির্দিষ্ট আকারে প্রকাশ
(Fixation/Expression)
·
কাজটি
দৃশ্যমান বা টেকসই আকারে প্রকাশিত হতে হবে, যেন তা অন্যরা দেখতে
বা ব্যবহার করতে পারে।
·
উদাহরণ:
কাগজে লেখা, কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোড, রেকর্ড করা গান।
·
মৌখিক
ধারণা
বা চিন্তা একা কপিরাইটের আওতায় আসে না।
৪. আইনি সুরক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো বৈধতা বাধ্যতামূলক নয় (Non-formality)
·
অধিকাংশ
দেশে, কাজের কপিরাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি সঙ্গে সৃষ্টির সময় প্রযোজ্য।
·
কিছু
দেশে নিবন্ধন সুবিধা থাকলেও তা বাধ্যতামূলক নয়।
৫. কপিরাইটের সীমাবদ্ধতা (Exclusions)
কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কপিরাইটের আওতায় আসে না—
·
ধারণা,
তত্ত্ব বা সূত্র (Ideas, Methods, Systems)
·
সরকারী
নথি বা সরকারি আদেশ
·
সাধারণ
তথ্য বা ঘটনা
৬. নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধ (Duration)
·
কাজের
প্রকাশের সঙ্গে কপিরাইট শুরু হয় এবং সাধারণত সৃষ্টিকর্তার মৃত্যু + ৫০–৭০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে।
উপসংহার
কোনো কাজ কপিরাইটের আওতায় আসতে হলে—
1. এটি মূল ও সৃজনশীল হতে হবে,
2. মানসিক/সৃজনশীল কাজ হতে হবে,
3. দৃশ্যমান বা নির্দিষ্ট আকারে প্রকাশিত হতে হবে,
4. আইনি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু সুবিধাজনক।
এই শর্তগুলো পূরণ করলে সৃষ্টিকর্ম আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়ে মালিককে একচেটিয়া অধিকার প্রদান করে।
(গ) কপিরাইটের
স্বত্বনিয়োগ কাকে বলে? স্বত্বনিয়োগ কিভাবে করতে হয়? স্বত্বনিয়োগ ও লাইসেন্সের মধ্যে
পার্থক্য দেখাও।
কপিরাইটের
স্বত্বনিয়োগ
(Assignment of Copyright) বলতে
বোঝায়:
কোনো কপিরাইট মালিক আইনগতভাবে তার কপিরাইটের অধিকার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে হস্তান্তর বা বিক্রয় করার প্রক্রিয়াকে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
1. স্বত্বনিয়োগের উদ্দেশ্য
o
মালিক
তার কাজ ব্যবহার বা অর্থনৈতিক সুবিধা
অন্যকে দেওয়ার অনুমতি দিতে পারেন।
o
উদাহরণ:
লেখক কোনো বই প্রকাশককে কপিরাইট
বিক্রি করলে প্রকাশক বই প্রকাশ ও
বিক্রয় করতে পারে।
2. স্বত্বনিয়োগের ধরন
o
পূর্ণ
স্বত্বনিয়োগ
(Full Assignment): কপিরাইটের
সমস্ত অধিকার একবারে হস্তান্তরিত হয়।
o
আংশিক
স্বত্বনিয়োগ
(Partial Assignment): কেবল
নির্দিষ্ট অধিকার বা সময়ের জন্য
হস্তান্তর।
§ উদাহরণ: শুধুমাত্র বই বিক্রির অধিকার
দেওয়া, কিন্তু অনুকরণ বা রিমেকের অধিকার
রাখা।
3. চুক্তির মাধ্যমে করা হয়
o
স্বত্বনিয়োগ
লিখিত চুক্তি বা আইনগত দস্তাবেজের
মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
o
চুক্তিতে
অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
§ অধিকার হস্তান্তরের পরিমাণ ও সময়কাল
§ ব্যবহার সীমাবদ্ধতা
§ অর্থ বা রয়্যালটির শর্ত
4. আইনি প্রভাব
o
স্বত্বনিয়োগের
পর মালিক আর সেই কপিরাইট
ব্যবহার বা বিক্রয়ের অধিকার
রাখেন না (যদি পূর্ণ স্বত্বনিয়োগ হয়)।
o
আদালত
চুক্তি অনুযায়ী অধিকার রক্ষা করে।
কপিরাইটের
স্বত্বনিয়োগ
হলো
মালিকের
কপিরাইট
অন্যকে
হস্তান্তর
বা বিক্রির প্রক্রিয়া, যা চুক্তির মাধ্যমে
নির্ধারিত এবং আইনি স্বীকৃত।
স্বত্বনিয়োগ কিভাবে করতে হয়
নিচে কপিরাইটের স্বত্বনিয়োগ কীভাবে করা হয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো—
১. চুক্তি তৈরি করা (Drafting an
Agreement)
·
স্বত্বনিয়োগের
জন্য লিখিত চুক্তি তৈরি করতে হয়।
·
চুক্তিতে
অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে:
1. কোন কাজের কপিরাইট হস্তান্তর করা হচ্ছে
2. হস্তান্তরের পরিমাণ (পূর্ণ বা আংশিক)
3. সময়কাল বা সীমাবদ্ধতা
4. অর্থ বা রয়্যালটির শর্ত
২. চুক্তি পার্টি নির্ধারণ করা
·
স্বত্বনিয়োগের
চুক্তিতে অন্তত দুই পক্ষ থাকে:
1. মালিক/স্রষ্টা (Assignor)
– যিনি কপিরাইট হস্তান্তর করছেন
2. গ্রহীতা (Assignee)
– যিনি কপিরাইট গ্রহণ করছেন
৩. স্বাক্ষর ও সীলমোহর (Execution)
·
উভয়
পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।
·
প্রয়োজনে
সাক্ষীর স্বাক্ষর বা নোটারি স্বীকৃতি
প্রয়োজন হতে পারে।
৪. নথিভুক্তি (Optional
Registration)
·
অনেক
দেশে স্বত্বনিয়োগ চুক্তি আইনগতভাবে স্বীকৃত হলেও, স্বত্বনিয়োগের নিবন্ধন (Registration) করানো সুবিধাজনক, যাতে পরে কোনো বিরোধে আইনি প্রমাণ থাকে।
·
নিবন্ধন
করলে আদালত চুক্তি সহজে গ্রহণ করে।
৫. অধিকার হস্তান্তর (Transfer of
Rights)
·
চুক্তি
কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, স্বত্বনিয়োগের শর্ত অনুযায়ী কপিরাইটের মালিকানা গ্রাহকের কাছে চলে যায়।
·
মালিক
(Assignor) আর সেই অধিকার ব্যবহার করতে পারে না (যদি পূর্ণ স্বত্বনিয়োগ হয়)।
৬. শর্ত ও সীমাবদ্ধতা অনুসরণ
·
স্বত্বনিয়োগের
শর্তাবলি অনুসারে, অধিকার শুধুমাত্র চুক্তিতে উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
·
উদাহরণ:
“বিক্রয় অধিকার দেওয়া হলো, কিন্তু অনুকরণ বা রিমেক অধিকার
মালিকের কাছে থাকবে।”
স্বত্বনিয়োগ ও লাইসেন্সের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
নিচে
কপিরাইটে স্বত্বনিয়োগ (Assignment) এবং লাইসেন্স (License) এর মধ্যে পার্থক্য
|
ক্র.সং. |
বিষয় |
স্বত্বনিয়োগ (Assignment) |
লাইসেন্স (License) |
|
১ |
অধিকার হস্তান্তর |
কপিরাইটের মালিকানা পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্থায়ীভাবে হস্তান্তরিত হয় |
মালিক কপিরাইটের ব্যবহার করার
অনুমতি দেয়, কিন্তু মালিকানা থাকে
তার
কাছে |
|
২ |
স্বত্বের সীমা |
হস্তান্তরিত অধিকার অনুযায়ী মালিক আর
কপিরাইট ব্যবহার করতে
পারে
না
(পূর্ণ হলে) |
মালিক অধিকার রক্ষা করে;
ব্যবহারকারী শুধুমাত্র লাইসেন্স শর্ত
অনুযায়ী ব্যবহার করতে
পারে |
|
৩ |
চুক্তির ধরন |
লিখিত চুক্তি প্রয়োজনীয় এবং বাধ্যতামূলক |
মৌখিক বা
লিখিত হতে
পারে;
লিখিত হওয়া সুবিধাজনক |
|
৪ |
অর্থনৈতিক লেনদেন |
সাধারণত স্থায়ী বিক্রয় বা
রয়্যালটি শর্তে লেনদেন |
সাধারণত নির্দিষ্ট সময়
বা
নির্দিষ্ট ব্যবহারের জন্য
অনুমতি, কয়েকটি রয়্যালটি বা
ফি
শর্তে |
|
৫ |
নিবন্ধন (Registration) |
নিবন্ধন করলে
আইনি
প্রমাণ শক্তিশালী হয় |
সাধারণত নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়,
তবে
সুবিধাজনক |
|
৬ |
ব্যবহার উদাহরণ |
লেখক
তার
বইয়ের কপিরাইট প্রকাশককে বিক্রি করে |
লেখক
প্রকাশককে বই
বিক্রি বা
বিতরণের জন্য
অনুমতি দেয়,
কিন্তু কপিরাইট নিজের কাছে
রাখে |
|
৭ |
স্থায়িত্ব |
স্থায়ী (Permanent) বা চুক্তিতে নির্দিষ্ট |
সাধারণত সীমিত সময়
বা
শর্তসাপেক্ষ |
No comments