এল এল বি ফাইনাল পরীক্ষা - ২০২৩ সাক্ষ্য আইন টিকা
সাক্ষ্য আইন টিকা
১.ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা
(সাক্ষ্য
আইন, ১৮৭২)
সাক্ষ্য আইনে ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা বলতে বোঝায়—যে ঘটনা মামলার
মূল বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং আদালতকে সত্য নির্ণয়ে সহায়তা করে। সাক্ষ্য আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো আদালতের সামনে কোন ঘটনা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনটি হবে না—তা নির্ধারণ করা।
এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫ থেকে ৫৫ পর্যন্ত কোন কোন ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও প্রমাণযোগ্য তা
নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাসঙ্গিক ঘটনা ছাড়া কোনো সাক্ষ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণের মাধ্যমে অপ্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য বর্জন করা হয় এবং বিচার
প্রক্রিয়া সুষ্ঠ ও ন্যায়সংগত হয়।
প্রাসঙ্গিক ঘটনার প্রকারভেদ
1. মূল ঘটনা (Facts in issue):
মামলার যে ঘটনা প্রমাণ
বা অপ্রমাণ করাই মূল উদ্দেশ্য।
2. একই লেনদেনের অংশ (Res Gestae) – ধারা ৬:ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সংঘটিত সংশ্লিষ্ট ঘটনা।
3. কারণ ও ফলাফল – ধারা ৭:যে ঘটনা অন্য
ঘটনার কারণ বা ফল।
4. প্রস্তুতি ও পরবর্তী আচরণ – ধারা ৮:অপরাধের আগে প্রস্তুতি বা পরে আচরণ।
5. উদ্দেশ্য, মানসিক অবস্থা – ধারা ১৪:অভিপ্রায়, জ্ঞান, সদিচ্ছা বা অসদিচ্ছা।
6. অনুরূপ ঘটনা – ধারা ১৫: একই ধরণের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ঘটনা।
২. বিদ্রোহী সাক্ষী
সাক্ষ্য আইনে
“বিদ্রোহী সাক্ষী”
বলতে
এমন
সাক্ষীকে বোঝায়,
যিনি
তাকে
যে
পক্ষ
আদালতে
হাজির
করেছে
সেই
পক্ষের
বক্তব্য সমর্থন
না
করে
পূর্বে
প্রদত্ত বক্তব্য থেকে
সরে
যান
অথবা
ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন,
বিরোধী
কিংবা
অসত্য
বক্তব্য প্রদান
করেন।
সাধারণভাবে সাক্ষীকে নিরপেক্ষ ও
সত্যবাদী হওয়ার
কথা
থাকলেও
বাস্তবে অনেক
ক্ষেত্রে সাক্ষী
ভয়,
প্রলোভন, স্বার্থ বা
চাপের
কারণে
অবস্থান পরিবর্তন করে।
এই
ধরনের
পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এ বিদ্রোহী সাক্ষী
সংক্রান্ত বিশেষ
বিধান
রাখা
হয়েছে।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি
সাপেক্ষে যে
পক্ষ
কোনো
সাক্ষীকে হাজির
করেছে,
সে
পক্ষই
প্রয়োজনে ঐ
সাক্ষীকে জেরা
করতে
পারে।
সাধারণ
নিয়ম
হলো—নিজ পক্ষের সাক্ষীকে জেরা
করা
যায়
না;
কিন্তু
সাক্ষী
যদি
বিদ্রোহী আচরণ
করে,
সত্য
গোপন
করে
বা
পূর্বের বক্তব্যের বিরোধিতা করে,
তখন
এই
ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হয়।
সাক্ষী
বিদ্রোহী কি
না,
তা
ঘোষণা
করার
ক্ষমতা
সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিবেচনার ওপর
নির্ভরশীল।
পরিশেষে
বলা যায়, বিদ্রোহী সাক্ষী সংক্রান্ত বিধান সাক্ষ্য আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বিচার প্রক্রিয়ায়
সত্য উদ্ঘাটনের পথ সুগম করে।
এই বিধানের মাধ্যমে সাক্ষী পক্ষ পরিবর্তন করে বিচারকে বিভ্রান্ত করতে পারে না এবং আদালত
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় নমনীয়তা লাভ করে।
৩. চিকিৎসা বিষয়ক সাক্ষ্য
চিকিৎসা বিষয়ক
সাক্ষ্য বলতে
সেই
ধরনের
সাক্ষ্যকে বোঝায়,
যা
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষ
জ্ঞান
ও
অভিজ্ঞতার ওপর
ভিত্তি
করে
আদালতে
উপস্থাপন করা
হয়।
যেসব
বিষয়ে
সাধারণ
মানুষের জ্ঞান
সীমিত—যেমন আঘাতের প্রকৃতি, মৃত্যুর কারণ,
বিষক্রিয়া, ধর্ষণের আলামত,
মানসিক
অবস্থা
ইত্যাদি—সেসব
ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিষয়ক
সাক্ষ্যের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
এই
কারণে
চিকিৎসককে সাক্ষ্য আইনে
বিশেষজ্ঞ সাক্ষী
হিসেবে
স্বীকৃতি দেওয়া
হয়েছে।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ৪৫
অনুযায়ী, চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে
বিশেষ
দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তির মতামত
আদালতে
প্রাসঙ্গিক ও
গ্রহণযোগ্য। একজন
নিবন্ধিত চিকিৎসক যখন
আহত
ব্যক্তির পরীক্ষা করেন,
মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন
অথবা
রোগ
নির্ণয় ও
চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামত
প্রদান
করেন,
তখন
তা
চিকিৎসা বিষয়ক
সাক্ষ্য হিসেবে
গণ্য
হয়।
এই
সাক্ষ্য আদালতকে বৈজ্ঞানিক ও
কারিগরি সহায়তা প্রদান
করে।
চিকিৎসা বিষয়ক
সাক্ষ্য সাধারণত লিখিত
ও
মৌখিক—এই দুই রূপে
উপস্থাপিত হয়।
চিকিৎসা সনদ,
ইনজুরি
রিপোর্ট, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, এক্স-রে ও ল্যাব
রিপোর্ট লিখিত
সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে চিকিৎসক স্বয়ং
আদালতে
হাজির
হয়ে
তাঁর
পর্যবেক্ষণ ও
মতামত
ব্যাখ্যা করলে
তা
মৌখিক
চিকিৎসা সাক্ষ্য হিসেবে
বিবেচিত হয়।
প্রয়োজনে এই
সাক্ষ্যকে জেরার
মাধ্যমে যাচাই
করা
যায়।
তবে
চিকিৎসা বিষয়ক
সাক্ষ্য চূড়ান্ত বা
বাধ্যতামূলক নয়;
এটি
মূলত
সহায়ক
প্রমাণ। আদালত
অন্যান্য প্রত্যক্ষ ও
পারিপার্শ্বিক প্রমাণের সঙ্গে
সামঞ্জস্য রেখে
এই
সাক্ষ্যের মূল্যায়ন করে।
যদি
চিকিৎসা সাক্ষ্য ও
প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মধ্যে
গুরুতর
বিরোধ
দেখা
দেয়,
তবে
আদালত
বিশেষ
সতর্কতার সঙ্গে
বিষয়টি বিবেচনা করে।
অতএব,
চিকিৎসা বিষয়ক
সাক্ষ্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি
গুরুত্বপূর্ণ ও
কার্যকর প্রমাণ,
যা
ঘটনার
প্রকৃতি ও
সত্য
উদ্ঘাটনে আদালতকে সহায়তা করে
এবং
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন
করে।
৪.জুডিসিয়াল নোটিশ
জুডিসিয়াল নোটিশ
বলতে
এমন
কিছু
সুপরিচিত, সর্বজনবিদিত বা
আইন
দ্বারা
স্বীকৃত বিষয়কে বোঝায়,
যেগুলো
প্রমাণের জন্য
আলাদা
করে
সাক্ষ্য উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়
না।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ৫৬
অনুযায়ী, যেসব
বিষয়ে
আদালত
জুডিসিয়াল নোটিশ
গ্রহণ
করে,
সেসব
বিষয়
প্রমাণ
করার
দরকার
নেই।
আবার
ধারা
৫৭-এ কোন কোন
বিষয়ে
আদালত
জুডিসিয়াল নোটিশ
গ্রহণ
করবে
তার
তালিকা
দেওয়া
হয়েছে।
এই
বিধানের মূল
উদ্দেশ্য হলো
বিচার
প্রক্রিয়াকে সহজ,
দ্রুত
ও
কার্যকর করা।
যেমন—বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, রাষ্ট্রপতির পদ,
আদালতের এখতিয়ার, সরকারি
ছুটির
দিন
বা
প্রাকৃতিক নিয়মাবলি ইত্যাদি বিষয়
আদালত
স্বতঃপ্রণোদিতভাবে গ্রহণ
করে।
ফলে
এসব
বিষয়ে
সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে সময়
ও
শ্রম
অপচয়
রোধ
হয়
এবং
ন্যায়বিচার দ্রুত
সম্পন্ন হয়।
৫. বাধ্যগত করা
“বাধ্যগত করা”
বলতে
কাউকে
আইনগত
ক্ষমতা
বা
কর্তৃত্বের মাধ্যমে কোনো
কাজ
করতে
বা
না
করতে
বাধ্য
করাকে
বোঝায়। সাধারণত আদালত,
প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বা
আইন
প্রয়োগকারী সংস্থা
আইন
অনুসারে কাউকে
নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন,
আদেশ
মান্য
করা
বা
নিষিদ্ধ কাজ
থেকে
বিরত
থাকার
নির্দেশ দিলে
তাকে
বাধ্যগত করা
বলা
হয়।
আইনগত
প্রেক্ষাপটে বাধ্যগত করার
উদ্দেশ্য হলো
আইন
মান্য
করা
নিশ্চিত করা
এবং
ন্যায়বিচার কার্যকর করা।
আদালতের আদেশ
অমান্য
করলে
শাস্তি
বা
আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান
থাকায়
বাধ্যগত করার
মাধ্যমে আইনের
শাসন
প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬.এসটোপেল (Estoppel)
এসটোপেল বলতে
এমন
একটি
আইনগত
নীতিকে
বোঝায়,
যার
মাধ্যমে কোনো
ব্যক্তি তার
পূর্ববর্তী বক্তব্য, আচরণ
বা
প্রতিনিধিত্বের বিপরীতে পরবর্তীতে ভিন্ন
দাবি
করতে
বাধাপ্রাপ্ত হয়,
যদি
সেই
বক্তব্য বা
আচরণের
ওপর
নির্ভর
করে
অন্য
ব্যক্তি কোনো
কাজ
করে
থাকে
বা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে
থাকে।
অর্থাৎ,
একজন
ব্যক্তি একবার
কোনো
বিষয়ে
একটি
অবস্থান গ্রহণ
করলে,
ন্যায়ের স্বার্থে তাকে
তার
বিপরীত
অবস্থান নিতে
দেওয়া
হয়
না।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ১১৫-এ
এসটোপেল নীতির
উল্লেখ
রয়েছে। এই
বিধানের উদ্দেশ্য হলো
প্রতারণা ও
অসততা
প্রতিরোধ করা
এবং
লেনদেন
ও
আইনগত
সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা
করা।
এসটোপেল নীতি
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন
করে,
কারণ
এটি
ব্যক্তিকে তার
নিজের
কথার
সঙ্গে
সামঞ্জস্য বজায়
রাখতে
বাধ্য
করে।
৭.বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত যোগাযোগ
বিশেষ
সুবিধা
প্রাপ্ত যোগাযোগ বলতে
এমন
কিছু
যোগাযোগ বা
কথোপকথনকে বোঝায়,
যেগুলো
জনস্বার্থ ও
পেশাগত
গোপনীয়তার কারণে
আদালতে
প্রকাশ
বা
প্রমাণ
হিসেবে
উপস্থাপন করা
থেকে
আইনের
দ্বারা
সুরক্ষিত। সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এ এই ধরনের
যোগাযোগকে বিশেষ
মর্যাদা দেওয়া
হয়েছে,
যাতে
নির্দিষ্ট পেশাগত
বা
সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে
গোপনীয়তা রক্ষা
পায়।
সাক্ষ্য আইন
অনুযায়ী আইনজীবী ও
মক্কেলের মধ্যে
যোগাযোগ, বিচারকের বিচারিক কার্যসম্পর্কিত তথ্য,
এবং
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহকালীন যোগাযোগ বিশেষ
সুবিধা
প্রাপ্ত যোগাযোগের অন্তর্ভুক্ত। এসব
ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি
ছাড়া
আদালতে
সে
তথ্য
প্রকাশ
করা
যায়
না।
এই
বিধানের মূল
উদ্দেশ্য হলো
বিশ্বাস, নৈতিকতা ও
ন্যায়বিচার সুরক্ষা করা
এবং
পেশাগত
সম্পর্কের স্বাভাবিকতা বজায়
রাখা।
৮.জবানবন্দি
জবানবন্দি বলতে
কোনো
ব্যক্তির স্বেচ্ছায়, লিখিত বা মৌখিকভাবে পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া তথ্য বা বিবৃতিকে বোঝায়,
যা
কোনো
ঘটনার
বিবরণ,
অভিযোগ
বা
ঘটনার
পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া
হয়।
সাধারণত এটি
অপরাধ
তদন্তে
প্রাথমিক প্রমাণ
হিসেবে
ব্যবহৃত হয়।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী, পুলিশ
কর্মকর্তার নোট
করা
জবানবন্দি আদালতে
প্রাথমিক প্রমাণ
হিসেবে
গ্রহণযোগ্য হলেও
সরাসরি
সাক্ষ্য হিসেবে
সর্বদা
সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়।
আদালত
জবানবন্দির সত্যতা
ও
প্রাসঙ্গিকতা যাচাই
করতে
পারে
এবং
প্রয়োজনে সাক্ষীকে জেরা
করে
যাচাই
করা
হয়।
মূল
উদ্দেশ্য হলো
অপরাধের ঘটনা
সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য
সংগ্রহ
করা
এবং
তদন্তে
সহায়তা প্রদান
করা।
জবানবন্দি স্বতঃসিদ্ধ প্রমাণ
নয়,
তবে
অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে
মিলিয়ে আদালতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন
করে।
৯.মৌখিক সাক্ষ্য
মৌখিক
সাক্ষ্য বলতে
আদালতে
কোনো
ব্যক্তির মুখে
মুখে
প্রদত্ত তথ্য
বা
বিবৃতিকে বোঝায়,
যা
ঘটনার
সত্য
উদ্ঘাটন বা
প্রমাণের জন্য
উপস্থাপন করা
হয়।
এটি
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর বিধান অনুযায়ী আদালতে
গ্রহণযোগ্য প্রমাণের একটি
প্রধান
রূপ।
মৌখিক
সাক্ষ্য সাধারণত দুই
প্রকার—প্রত্যক্ষদর্শীর
সাক্ষ্য, যেখানে
ব্যক্তি নিজ
চোখে
দেখা
বা
শোনা
ঘটনা
বর্ণনা
করেন,
এবং
বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য, যেখানে
চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা
অন্য
বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিক বা
কারিগরি মতামত
প্রদান
করেন।
মৌখিক
সাক্ষ্যের প্রধান
বৈশিষ্ট্য হলো
এটি
সরাসরি আদালতে উপস্থিত হয়ে মুখে মুখে প্রদান করা হয় এবং
স্বেচ্ছায় দেওয়া
আবশ্যক। জোরপূর্বক বা
প্রভাবিত করে
দেওয়া
সাক্ষ্যকে গ্রহণযোগ্য মনে
করা
হয়
না।
মৌখিক
সাক্ষ্যের উদ্দেশ্য হলো
ঘটনার
প্রকৃত
চিত্র
আদালতের সামনে
তুলে
ধরা,
লিখিত
প্রমাণের সঙ্গে
মিলিয়ে সত্য
উদ্ঘাটন করা
এবং
ন্যায়বিচারের সঠিক
সিদ্ধান্ত গ্রহণে
সহায়তা করা।
১০.সরকারি দলিল
সরকারি
দলিল
বলতে
এমন
কোনো
দলিল
বা
নথিকে
বোঝায়,
যা
সরকারি কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তার কর্তৃত্বে প্রস্তুত বা প্রকাশিত হয় এবং
যার
মধ্যে
সরকারী
কার্যক্রম, আদেশ,
রেজিস্ট্রি, সার্টিফিকেট বা
নথিপত্র অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ৭৭–৭৮ অনুযায়ী, সরকারি
দলিলের
সত্যতা
সাধারণত আদালতে
স্বতঃসিদ্ধ বা জুডিসিয়াল নোটিশের মাধ্যমে স্বীকৃত হয়।
অর্থাৎ,
এগুলোকে প্রমাণের জন্য
আলাদা
করে
সাক্ষ্য প্রমাণ
আনা
প্রয়োজন হয়
না,
তবে
যেকোনো
ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি
কর্মকর্তা বা
স্বাক্ষীর মাধ্যমে যাচাই
সম্ভব।
সরকারি
দলিল
সাধারণত নির্ভুলতা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে
গণ্য
হয়
এবং
আদালতে
প্রমাণ
হিসেবে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন
করে।
উদাহরণস্বরূপ: জন্ম
ও
মৃত্যু
সনদ,
নাগরিকত্ব সনদ,
রেজিস্ট্রি, সরকারি
আদেশ
বা
নোটিফিকেশন ইত্যাদি।
১১.মৃত্যুকালীন
ঘোষণা
মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর আগে প্রদত্ত বিবৃতি বা ঘোষণা, যা তার মৃত্যুর
কারণ, নিজের বা অন্যের স্বাস্থ্য
সংক্রান্ত তথ্য বা ঘটনার সত্যতা
সম্পর্কে থাকে, আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি আর আদালতে উপস্থিত
থাকতে না পারার কারণে
তার মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তবে এই ঘোষণা দেওয়া
সময় ব্যক্তি সচেতন, স্বেচ্ছায় ও বিবেচনাশীল অবস্থায় থাকতে হবে। মৃত্যুকালীন ঘোষণার
উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনা বা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা
আদালতের কাছে তুলে ধরা, যাতে সত্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করা যায়। এটি বিশেষত মৃত্যুর কারণ নির্ণয়, চিকিৎসা, বা অপরাধমূলক ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১২.সাক্ষী হিসাবে ছয় বছরের শিশু
সাক্ষ্য আইন
অনুযায়ী, ছয়
বছরের
শিশু
যদি
কোনো
ঘটনার
সত্য-মিথ্যা পার্থক্য বোঝার
ক্ষমতা
রাখে,
তবে
তাকে
সাক্ষী
হিসেবে
আদালতে
গ্রহণ
করা
যায়।
অর্থাৎ
বয়স কোনো বাধা নয়, মূল
বিষয়
হলো
শিশুর
বুদ্ধিমত্তা, সচেতনতা ও বোঝাপড়ার ক্ষমতা।
শিশুর
সাক্ষ্য প্রায়শই অপরাধ
বা
ঘটনার
প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি
শিশু
নিজ চোখে কোনো ঘটনার দৃশ্য দেখেছে বা শুনেছে, সে
তার
অভিজ্ঞতা আদালতে
বর্ণনা
করতে
পারে।
শিশু
সাক্ষ্য গ্রহণের সময়
আদালত
বিশেষভাবে সতর্ক
থাকে।
শিশুকে
সহজ
ও
সরল
ভাষায়
প্রশ্ন
করা
হয়,
যাতে
সে
ভয় বা প্রভাব ছাড়াই সত্য বলতে পারে।
শিশুর
সাক্ষ্য প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষ্যের মতোই
গুরুত্বপূর্ণ, তবে
তার
বক্তব্য বিশ্লেষণ ও যাচাই আরও সতর্কভাবে করতে
হয়।
আদালত
শিশুর
সাক্ষ্যকে অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে
মিলিয়ে তার
গুরুত্ব নির্ধারণ করে।
শিশুর
সাক্ষ্য মূলত
ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
সংক্ষেপে, ছয়
বছরের
শিশু
সাক্ষী
হতে
পারে,
যদি
সে
ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা বোঝে ও সত্যনিষ্ঠ তথ্য দিতে পারে, এবং
তার
সাক্ষ্যকে আদালত
প্রয়োজনীয় সতর্কতার সঙ্গে
গ্রহণ
ও
মূল্যায়ন করে।
১৩.চূড়ান্ত প্রমাণ
চূড়ান্ত প্রমাণ
বলতে
সেই
ধরনের
প্রমাণকে বোঝায়,
যা
কোনো
বিষয়ে
সন্দেহের অবকাশ ছাড়াই সত্য প্রতিষ্ঠা করে এবং
আদালতের সিদ্ধান্তে নির্ধারক ভূমিকা
রাখে।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর আলোকে, চূড়ান্ত প্রমাণ
সাধারণত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, লিখিত দলিল বা বিশেষজ্ঞের মতামতের মাধ্যমে আসে।
চূড়ান্ত প্রমাণের বৈশিষ্ট্য হলো—এটি বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য, এবং
কোনো
সমালোচনা বা
সন্দেহের অবকাশ
না
রেখে
সিদ্ধান্ত গ্রহণে
ব্যবহার করা
যায়।
আদালত
চূড়ান্ত প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে
বিচার
প্রক্রিয়ায় গ্রহণ
করে
এবং
অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে
মিলিয়ে মামলার
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। উদাহরণস্বরূপ, মৃত্যুর ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, চুরি
বা
অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, এবং
সম্পত্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে নথিভুক্ত দলিল
চূড়ান্ত প্রমাণ
হিসেবে
গণ্য
হয়।
১৪.স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি
স্বীকৃতি (Admission)
হলো
কোনো
ব্যক্তি বা
পক্ষের
পক্ষ
থেকে
দেওয়া
এমন
বক্তব্য বা
আচরণ,
যা
তার বিরুদ্ধে বা বিষয়ে প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে
পারে।
এটি
সাধারণত মামলার
পক্ষগুলোর মধ্যে
ঘটনার
সত্যতা
স্বীকার করার
উদ্দেশ্যে প্রদান
করা
হয়।
স্বীকৃতিকে আদালত
প্রমাণের সহায়ক
হিসেবে
গ্রহণ
করতে
পারে,
যদিও
এটি
চূড়ান্ত প্রমাণ
নয়।
স্বীকারোক্তি (Confession)
হলো
অপরাধী
বা
অভিযুক্তের নিজস্ব, স্পষ্ট ও স্বেচ্ছায় দেওয়া বক্তব্য, যা
তার
অপরাধ সম্পাদনের প্রমাণ হিসেবে
গ্রহণযোগ্য। স্বীকারোক্তি সাধারণত অপরাধ
তদন্ত
ও
দণ্ডনীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
তবে
আইন
অনুযায়ী স্বীকারোক্তি জোরপূর্বক, প্রলোভন বা প্রভাবিতভাবে গ্রহণ করা যায় না, এবং
এর
প্রমাণযোগ্যতা যাচাই
করা
অপরিহার্য।
সংক্ষেপে, স্বীকৃতি সাধারণত পক্ষের বিরোধিতা বা সত্যতার স্বীকার, আর
স্বীকারোক্তি হলো
অপরাধী বা অভিযুক্তের নিজস্ব অপরাধের স্বীকার, উভয়ই
আদালতে
প্রমাণ
হিসেবে
গুরুত্বপূর্ণ, তবে
সতর্কতার সঙ্গে
যাচাই
ও
মূল্যায়ন করতে
হয়।
১৫.প্রমাণের দায়িত্ব
প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of Proof) বলতে সেই
আইনগত
বাধ্যবাধকতাকে বোঝায়,
যার
মাধ্যমে কোনো
পক্ষকে
আদালতে তার দাবি বা অভিযোগ প্রমাণ করার দায়িত্ব নেয়া
হয়।
সাধারণ
নিয়ম
অনুযায়ী, যে
পক্ষ
কোনো
মামলা
দায়ের
করে
বা
কোনো
দাবি
করে,
সেই
পক্ষই
তার
দাবির
সমর্থনে প্রমাণ
উপস্থাপন করবে।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ১০
থেকে
১১
অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো
অপরাধের দোষ
প্রমাণ
করা,
আর
দেওয়ানি মামলায় দাবিকারীর দায়িত্ব হলো
তার
দাবির
সমর্থন
প্রমাণ
করা।
প্রমাণের দায়িত্ব শুধুমাত্র প্রাথমিক স্তরে
নয়,
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্যও
গুরুত্বপূর্ণ। আদালত
প্রমাণের অভাব
থাকলে
সংশ্লিষ্ট দাবিকে
বাতিল
বা
প্রত্যাখ্যান করতে
পারে।
সংক্ষেপে, প্রমাণের দায়িত্ব হলো
পক্ষকে তার বক্তব্য বা অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা, যা
ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা ও
সঠিকতা
নিশ্চিত করে।
১৬.প্রতিবন্ধ
প্রতিবন্ধ বলতে
আদালতে
কোনো
পক্ষের
সাক্ষ্য, প্রমাণ বা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত কারণে আপত্তি তোলা বোঝায়। এটি
মূলত
বিচার
প্রক্রিয়ায় অবৈধ বা অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণ গ্রহণের প্রতিবিধান হিসেবে
ব্যবহৃত হয়।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর বিধান অনুযায়ী, কোনো
পক্ষ
মনে
করলে
যে
কোনো
সাক্ষ্য বা
প্রমাণ
প্রাসঙ্গিক নয়, অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা আইনবিরুদ্ধ, সেই
বিষয়ে
আদালতে
প্রতিবন্ধ তোলার
অধিকার
রাখে।
প্রতিবন্ধের উদ্দেশ্য হলো
ন্যায়বিচারে পক্ষপাত ও ভুল প্রভাব রোধ করা এবং
শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক ও
বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ
আদালতে
গ্রহণযোগ্য করা।
আদালত
প্রতিবন্ধ বিবেচনা করে,
প্রমাণ
গ্রহণ
বা
প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয়।
উদাহরণস্বরূপ, অপরাধ
সংক্রান্ত মামলায় যদি
কোন
প্রমাণ
বিপরীত নিয়মে সংগৃহীত হয়, তবে
তা
গ্রহণযোগ্য নয়
এবং
পক্ষ
সেটির
বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধ তুলতে
পারে।
১৭. মেডিক্যাল এভিডেন্স
মেডিক্যাল এভিডেন্স বলতে
চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণকে বোঝায়,
যা
আদালতে
ঘটনার প্রকৃতি, আঘাত, মৃত্যুর কারণ, রোগ বা মানসিক অবস্থা নির্ধারণের জন্য উপস্থাপন করা
হয়।
এটি
মূলত
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ল্যাব রিপোর্ট বা চিকিৎসা নথি আকারে
থাকে।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২-এর ধারা ৪৫
অনুযায়ী, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ যে
তথ্য
বা
মতামত
প্রদান
করেন,
তা
প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে
বিবেচিত হয়।
মেডিক্যাল এভিডেন্সের মাধ্যমে আদালত
ঘটনার
প্রকৃতি নির্ধারণ, অপরাধের ধরন
চিহ্নিত করা
এবং
নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা
ঘটনার
সঙ্গে
সংশ্লিষ্টতা প্রতিষ্ঠা করতে
পারে।
মূল
বৈশিষ্ট্য হলো:
১.এটি বৈজ্ঞানিক ও নির্ভরযোগ্য।
২.বিচারককে সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারে সহায়তা করে।
৩. অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে
মিলিয়ে মামলার
সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
উদাহরণস্বরূপ: আহত
ব্যক্তির চিকিৎসা রিপোর্ট, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, বিষক্রিয়ার পরীক্ষার ফলাফল,
মানসিক
অবস্থা
নির্ণয় ইত্যাদি মেডিক্যাল এভিডেন্সের অন্তর্ভুক্ত।
১৮. জনশ্রুতিমূলক সাক্ষ্য (Hearsay Evidence)
জনশ্রুতিমূলক সাক্ষ্য বলতে
সেই
ধরনের
সাক্ষ্যকে বোঝায়,
যা
কোনো
ব্যক্তি নিজ চোখে না দেখেও বা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না রেখেই অন্যের
কথাকে
আদালতে
উপস্থাপন করে।
অর্থাৎ,
একজন
ব্যক্তি যা
শুনেছে
সেটি
প্রমাণ
হিসেবে
বলা।
সাধারণ
নিয়ম
অনুযায়ী, সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া
হয়,
আর
জনশ্রুতিমূলক সাক্ষ্যকে সীমিত
ক্ষেত্রে বা
অতিরিক্ত যাচাইয়ের সঙ্গে
গ্রহণ
করা
হয়।
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২
অনুযায়ী, জনশ্রুতিমূলক সাক্ষ্য মূলত প্রাসঙ্গিক হলেও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ
এতে
সত্যতা
যাচাই
করা
কঠিন।
তবে
নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমে—যেমন
মৃত্যু
বা
অনুপস্থিত সাক্ষীর পূর্ববর্তী বিবৃতি,
বা
জরুরি
পরিস্থিতিতে—এটি
গ্রহণযোগ্য হতে
পারে।
জনশ্রুতিমূলক সাক্ষ্যের উদ্দেশ্য হলো
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরা, তবে
আদালত
তার
বিশ্বাসযোগ্যতা ও
প্রাসঙ্গিকতা যাচাই
করে।
১৯.বিশেষজ্ঞের
সাক্ষ্য
বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য বলতে সেই ধরনের সাক্ষ্যকে বোঝায়, যা কোনো বিশেষ
জ্ঞান,
দক্ষতা
বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয় এবং সাধারণ ব্যক্তির ক্ষমতার বাইরে থাকা বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞের মতামত প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা যায়।
বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্যের উদাহরণ হলো চিকিৎসক দ্বারা আঘাত বা মৃত্যুর কারণ
নির্ণয়, প্রকৌশলী দ্বারা দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা, বা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ
দ্বারা নথির সত্যতা যাচাই। আদালত বিশেষজ্ঞের মতামতকে প্রধান প্রমাণ নয়, বরং সহায়ক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে এবং অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে সত্যতা নির্ধারণ করে।
মূল বৈশিষ্ট্য হলো:
১.বিশেষজ্ঞ
তার পেশাগত বা বৈজ্ঞানিক দক্ষতার ভিত্তিতে মতামত প্রদান করে।
২.সাক্ষ্য
প্রাসঙ্গিক ও স্বতঃসিদ্ধ নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রমাণ।
৩.আদালত
বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ যাচাই
করে সিদ্ধান্ত নেয়।
এর মাধ্যমে আদালত প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক তথ্য বোঝার সুবিধা পায় এবং ন্যায়বিচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
২০.অনুমান
অনুমান বলতে আদালত কর্তৃক কোনো বিষয়কে সত্য বা বাস্তব হিসেবে গ্রহণ করা, যদিও তা সরাসরি প্রমাণিত
হয়নি। এটি মূলত আইন বা যুক্তির ভিত্তিতে স্বাভাবিক বা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হয়। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪৫–৪৭ অনুযায়ী, অনুমানকে
প্রমাণের জন্য সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
অনুমান দুই ধরনের হতে পারে:
১.আইনগত
অনুমান:
আইন স্পষ্টভাবে কোনো বিষয়ে সত্যতা ধরে নেয়, যেমন বিবাহিত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে
পরিচয়।
২.প্রকৃতিগত
অনুমান:
যৌক্তিক বিবেচনা বা সাধারণ অভিজ্ঞতার
ওপর ভিত্তি করে আদালত কোনো বিষয় সত্য হিসেবে ধরে নেয়, যেমন আগুনের ধোঁয়া দেখা মানেই আগুন লেগেছে।
মূল উদ্দেশ্য হলো প্রমাণের বোঝা কমানো এবং বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সহজ করা। আদালত অনুমানকে অন্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এটি চূড়ান্ত নয়, বরং
২১. বৈরি সাক্ষ্য —
যে
সাক্ষী তাকে যে পক্ষ আদালতে
উপস্থাপন করেছে, সেই পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করে অথবা পূর্বে প্রদত্ত বক্তব্য থেকে সরে এসে বিপরীত বক্তব্য প্রদান করে, তাকে বৈরি সাক্ষী বলা হয়। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪
অনুযায়ী আদালতের অনুমতিক্রমে যে পক্ষ সাক্ষীকে
হাজির করেছে, সেই পক্ষও নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। তবে বৈরি সাক্ষীর সাক্ষ্য সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য নয়; আদালত সাক্ষ্যের যে অংশ সত্য,
বিশ্বাসযোগ্য ও অন্যান্য প্রমাণ
দ্বারা সমর্থিত, সেই অংশ গ্রহণ করতে পারে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আদালত বৈরি সাক্ষ্যের প্রমাণমূল্য সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করে।
ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন
যে
প্রশ্নের মধ্যেই উত্তরটির ইঙ্গিত বা সুপারিশ নিহিত
থাকে, তাকে ইঙ্গিতবাহী
প্রশ্ন
(Leading Question) বলা
হয়। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪১
অনুযায়ী এ ধরনের প্রশ্ন
সাধারণত জেরার (cross-examination) সময় করা যায়। ধারা ১৪২ অনুযায়ী প্রধান জিজ্ঞাসায়
(examination-in-chief) ইঙ্গিতবাহী
প্রশ্ন করা যাবে না, তবে আদালতের অনুমতি থাকলে করা যেতে পারে। ধারা ১৪৩ অনুযায়ী জেরার সময় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বৈধ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন নিয়ন্ত্রণ করে।
No comments