Header Ads

Header ADS

ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলতে কী বুঝ? সাক্ষীকে কখন ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়? সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা কিভাবে হরণ করা যায়? কি কি কারণে একজন বিচারক এ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন। এস্টোপেল’ বলতে কী বুঝ? সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারার আলোকে প্রতিবন্ধকতা নীতির ব্যাখ্যা দাও। সাক্ষ্য আইনে প্রতিবন্ধকতা নীতির গুরুত্ব আলোচনা কর। “এস্টোপেল” কে তুমি কীভাবে “রেস-জুডিকেটা” থেকে পৃথক করবে?

 

৬ (ক) ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলতে কী বুঝ? সাক্ষীকে কখন ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়? সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা কিভাবে হরণ করা যায়? কি কি কারণে একজন বিচারক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন

ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলতে কী বুঝ?

ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading Question) বলতে বোঝায় এমন প্রশ্ন যা উত্তরদাতাকে নির্দিষ্টভাবে উত্তর দিতে নির্দেশ বা ইঙ্গিত দেয় অর্থাৎ, প্রশ্নের মধ্যে উত্তর ইতোমধ্যে নিহিত থাকে। উত্তরদাতার স্বাধীনতা কমে। সাধারণ সাক্ষীকে স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করা হয় না। সাধারণত cross-examination বা শিশু/দুর্বল সাক্ষীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ:

আপনি কি দেখেছেন অভিযুক্ত রাত ১০টায় দোকানে প্রবেশ করেছে?” এখানে প্রশ্নটি উত্তরকেহ্যাঁবানা”-তে নির্দেশ করছে।

সাক্ষীকে কখন ইঙ্গিতবাহী (Leading) প্রশ্ন করা যায়:

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী সাধারণভাবে প্রধান সাক্ষীকে স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে হবে, অর্থাৎ ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন সাধারণভাবে ব্যবহার করা যায় না। তবে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা অনুমোদিত:

 

. Cross-Examination (প্রতিপক্ষের জের)

অভিযুক্ত বা মামলার বিপরীতপক্ষের সাক্ষীকে জেরা করার সময় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন ব্যবহার করে সাক্ষীর বক্তব্যের সত্যতা বা অসঙ্গতি পরীক্ষা করা যায়

উদাহরণ:

আপনি কি দেখেছেন অভিযুক্ত দোকানে প্রবেশ করেছে?

 

. দুর্বল বা শিশু সাক্ষী

সাক্ষীর স্মৃতিশক্তি সীমিত বা শিশু হলে তাকে বোঝানোর জন্য বা তথ্য সঠিকভাবে নেয়ার জন্য ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন ব্যবহার করা যায়

উদাহরণ:

আপনি কি গতকাল স্কুলে গিয়েছিলেন?”

 

. পূর্বে দেওয়া সাক্ষ্য পুনঃনিশ্চয়তা করার জন্য

পূর্বে বলা তথ্য নিশ্চিত করার জন্য। সাক্ষীর বক্তব্যের পুনঃনিশ্চয়তা যাচাইয়ের জন্য

উদাহরণ:আপনি কি আগে বলেছিলেন দোকান রাত ৮টায় বন্ধ হয়ে গেছে?”

সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা কিভাবে হরণ করা যায়?

সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা (Credibility) হরণ করা বা কমানো বলতে বোঝায় আদালতে এমন প্রমাণ বা কৌশল দেখানো যাতে সাক্ষীর বক্তব্যের সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা হরণের সাধারণ উপায়গুলো হলো:

 

. বিরোধপূর্ণ প্রশ্ন (Contradiction)

সাক্ষীর বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি বা বিরোধ দেখানো।উদাহরণ: সাক্ষী আদালতে বলছে দোকান রাত ১০টায় বন্ধ হয়েছে, কিন্তু পূর্বে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছিল রাত ৮টায় বন্ধ হয়েছে।

 

. চরিত্র বা খারাপ রেপুটেশন (Character / Reputation)

সাক্ষীর সদাচরণ বা সততার অভাব আদালতের কাছে প্রমাণ করা।যেমন, সাক্ষী পূর্বে মিথ্যা বলার প্রবণতা বা অপরাধমূলক ইতিহাস রাখে।

 

. প্রমাণের সাথে অসঙ্গতি (Contradiction by Evidence)

সাক্ষীর বক্তব্যকে প্রমাণ বা দলিলের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ দেখানো।উদাহরণ: সাক্ষী বলছে সে ঘটনাস্থলে ছিল, কিন্তু CCTV বা ডকুমেন্ট প্রমাণ করছে সে সেখানে উপস্থিত ছিল না।

 

. ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নের মাধ্যমে হরণ (Leading Questions / Impeachment)

cross-examination বা পূর্ব বক্তব্য যাচাই করে সাক্ষীর বক্তব্যে সন্দেহ সৃষ্টি। উদাহরণ: “আপনি কি সত্যিই রাত ১০টায় দোকানে ছিলেন, নাকি পরে?”

 

কি কি কারণে একজন বিচারক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন বিস্তারিত

 

বিচারকের হস্তক্ষেপের কারণ

. অযাচিত বা অসঙ্গত প্রশ্ন

আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে যদি কোনো পক্ষ সাক্ষীর প্রতি এমন প্রশ্ন করে যা অপ্রাসঙ্গিক বা অবান্তরঅশ্লীল, আক্রমণাত্মক বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক

উদ্দেশ্য: আদালতের প্রক্রিয়ার ন্যায় শিষ্টাচার বজায় রাখা।

উদাহরণ: সাক্ষীকে তার ব্যক্তিগত জীবন বা পরিবার নিয়ে অযথা জিজ্ঞাসা করা।

 

. সাক্ষীর উপর প্রলোভন বা চাপ

কোনো পক্ষ যদি সাক্ষীর ওপর ভীতি, হুমকি, প্রলোভন বা চাপ প্রদর্শন করে,আদালত হস্তক্ষেপ করে যাতে সাক্ষীর স্বাধীন সঠিক উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা বজায় থাকে।উদাহরণ: আদালতে অভিযুক্ত বা তার পক্ষের কেউ সাক্ষীর কাছে হুমকি দেয় বা প্রলোভন দেয়।

 

. প্রক্রিয়ার সুষ্ঠুতা বজায় রাখা

বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ বা স্মৃতিশক্তি কম সাক্ষীর ক্ষেত্রে:আদালত প্রশ্নের ধরন বা উপস্থাপনের উপায় পরিবর্তন করতে পারে। উদ্দেশ্য হলসাক্ষীর বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী বোঝানো এবং সঠিক তথ্য নেওয়া।

 

. আইনের লঙ্ঘন রোধ করা

যদি কোনো প্রশ্ন বা জেরা সাক্ষ্য আইন, প্রমাণ আইন বা আদালতের নিয়ম লঙ্ঘন করে,বিচারক হস্তক্ষেপ করে এবং প্রশ্ন বাতিল বা সংশোধনের নির্দেশ দেন।উদাহরণ: সাক্ষীকে পুলিশ বা আদালতের অনুমতি ছাড়া কিছু অভিযোগের বিষয়ে বাধ্য করা।

 

. সাক্ষীকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা

·         প্রশ্নের প্রক্রিয়া এমন হলে যে সাক্ষী বিভ্রান্ত হতে পারে, বিচারক হস্তক্ষেপ করে পরিষ্কারভাবে বোঝানো বা পুনঃপ্রশ্ন করার ব্যবস্থা নেন।উদ্দেশ্য: সঠিক নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য নিশ্চিত করা।

 

. সাক্ষীর প্রতি অযাচিত পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ

যদি পক্ষপক্ষান্তর করে একই প্রশ্ন বারবার করতে চায়,আদালত হস্তক্ষেপ করে সাক্ষীর উপর অযথা চাপ বা ক্লান্তি প্রতিরোধ করে।

 

(খ) প্রশ্ন আইনসম্মত প্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও কখন সাক্ষীকে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা যায় না?

 

. ভূমিকা

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে আদালত সাক্ষীর কাছে আইনসম্মত এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারে, কিন্তু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সাক্ষীকে উত্তর দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যায় না, কারণ এখানে সাক্ষীর স্বতন্ত্র অধিকার, সম্পর্ক বা নৈতিক দিক বিবেচনা করা হয়।

অর্থাৎ, প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক হলেও কিছু বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে যা সাক্ষীকে নির্দিষ্ট উত্তর দিতে বাধ্য করে না।

 

. মূল কারণে সাক্ষীকে উত্তর দিতে বাধ্য করা যায় না

() আত্ম-অভিযোগ বা নিজেকে দোষী প্রমাণ করার সম্ভাবনা (Protection against self-incrimination)

কোনো সাক্ষীকে **নিজের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা যায় না।

উদাহরণ: অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে যে সে চুরি করেছে কি নাসাক্ষীকে নিজেকে দোষী প্রমাণ করার জন্য বাধ্য করা যাবে না।

() ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে (Privileged Relationships)

কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনগত গোপনীয়তা বা বিশেষ সুরক্ষা থাকে।সাক্ষীকে উত্তর দিতে বাধ্য করা যাবে না।

উদাহরণ:

1.      স্বামীস্ত্রী সম্পর্কস্বামী বা স্ত্রীকে অপরাধমূলক সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যায় না।

2.      আইনজীবীক্লায়েন্ট সম্পর্কক্লায়েন্টের গোপন তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না।

3.      চিকিৎসকরোগী সম্পর্করোগীর গোপন স্বাস্থ্য তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়।

4.      পুরোহিতধর্মীয় পরামর্শপ্রদান সম্পর্কধর্মীয় বা পরামর্শমূলক তথ্য প্রকাশ বাধ্য নয়।

() শিশু, অসুস্থ বা মানসিকভাবে অক্ষম সাক্ষী

যদি সাক্ষীর বয়স, শারীরিক বা মানসিক অবস্থা তাকে উত্তর দিতে অক্ষম করে, আদালত তাকে বাধ্য করতে পারে না।

উদাহরণ: শিশু, মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি।

() প্রমাণ আইন দ্বারা সুরক্ষিত অন্যান্য তথ্য

গোপন চিঠি, লিপি বা নথি যা বিশেষভাবে সুরক্ষিত।সাক্ষীকে এগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

 

 

উপসংহার:

এমন পরিস্থিতিতে যেখানে সাক্ষীর স্বাধীনতা, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ব্যক্তিগত অধিকার বা বিশেষ সুরক্ষা লঙ্ঘন হতে পারে, সাক্ষীকে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা যায় না। এর ফলে সাক্ষীর প্রতি ন্যায্যতা এবং আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

৭. এস্টোপেলবলতে কী বুঝ? সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারার আলোকে প্রতিবন্ধকতা নীতির ব্যাখ্যা দাও। সাক্ষ্য আইনে প্রতিবন্ধকতা নীতির গুরুত্ব আলোচনা কর।এস্টোপেলকে তুমি কীভাবেরেস-জুডিকেটাথেকে পৃথক করবে?

এস্টোপেলবলতে কী বুঝ?

এস্টোপেল (Estoppel) সংজ্ঞা:

এস্টোপেল হলো এমন একটি নীতি যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি নিজের পূর্ববর্তী বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি বা আচরণের কারণে, যা অন্যকে নির্ভর করতে বাধ্য করেছে, পরে সেই বক্তব্য বা অবস্থানের বিপরীতে যেতে পারে না।

সহজভাবে বললে, কেউ যদি কোনো কথা বা আচরণের মাধ্যমে অন্যকে নির্ভর করতে বাধ্য করে, তাহলে পরে সে সেই কথার বিপরীতে আদালতে বা আইনের দিক থেকে বিরোধিতা করতে পারবে না।

উদাহরণ:

ব্যক্তি A বলে তার জমি বিক্রি হয়েছে। B সেই বিশ্বাসে জমিতে বিনিয়োগ করে। পরে A বললে জমি বিক্রি হয়নি, আদালত Estoppel নীতি অনুযায়ী A-কে বিরোধিতা করতে বাধা দিতে পারে।

 

সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারার আলোকে প্রতিবন্ধকতা নীতির ব্যাখ্যা দাও।

প্রতিবন্ধকতা নীতি (Rule of Bar / Doctrine of Estoppel) – সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১১৫ ধারা

ধারা ১১৫ অনুযায়ী:

কোন ব্যক্তিকে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না যদি সে পূর্বে কোনো চুক্তি, প্রতিশ্রুতি বা কার্যকলাপ দিয়ে অন্য পক্ষকে নির্ভর করতে বাধ্য করে, এবংএখন সে সেই পূর্ববর্তী বক্তব্যের বিপরীতে অবস্থান করছে।

 

ধারা ১১৫-এর মূল বক্তব্য

ধারা ১১৫ অনুযায়ী আদালত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের সময় প্রতিবন্ধকতা নীতি প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ, পূর্বে দেওয়া বক্তব্য, চুক্তি বা আচরণের কারণে কোনো ব্যক্তি নিজের পূর্ববর্তী অবস্থানের বিপরীতে সাক্ষ্য দিতে পারবে না।

 

 

উদাহরণ:ব্যক্তি A বারবার বলে যে তার জমি বিক্রি হয়েছে।B সেই বিশ্বাসে জমিতে বিনিয়োগ বা উন্নয়ন করে। পরে A বললে জমি বিক্রি হয়নি, আদালত A-কে বিরোধিতা করতে Estoppel নীতি অনুযায়ী বাধা দেয়।

সাক্ষ্য আইনে প্রতিবন্ধকতা নীতির গুরুত্ব

. ন্যায্যতা রক্ষা

নীতি নিশ্চিত করে যে কেউ নিজের পূর্ববর্তী বক্তব্য বা আচরণের বিপরীতে অন্যকে ক্ষতি করতে পারবে না। এটি আদালতের পক্ষকে সঠিক ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক।

উদাহরণ: ব্যক্তি A পূর্বে বলে জমি বিক্রি হয়েছে। B সেই বিশ্বাসে বিনিয়োগ করে। পরে A বললে জমি বিক্রি হয়নি, আদালত Estoppel প্রয়োগ করে ন্যায্যতা রক্ষা করে।

 

. আইনি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা

পূর্ববর্তী বক্তব্য আচরণের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। এতে আদালতে মামলার প্রক্রিয়া এবং আইনি সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকে।

 

. প্রতারণা প্রতিরোধ

কেউ স্বার্থবশত মিথ্যা বা পরিবর্তনশীল বক্তব্য ব্যবহার করতে পারবে না। এটি আইনগত প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য সুষ্ঠু রাখে।

 

. সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি: আদালত পূর্ববর্তী বক্তব্য বা আচরণের ভিত্তিতে সাক্ষীর বক্তব্য যাচাই করতে পারে।ফলে, আদালতে প্রমাণের গুণমান এবং নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

 

. মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি: Estoppel নীতি ব্যবহার করলে একই বিষয় বা বক্তব্য নিয়ে বিরোধ না করে, মামলার সময় সাশ্রয়ী হয়।

 

 

এস্টোপেলকে তুমি কীভাবেরেস-জুডিকেটাথেকে পৃথক করবে?

সংজ্ঞা অনুসারে

এস্টোপেল (Estoppel)

·         এটি একটি ন্যায়শাস্ত্রীয় নীতি (equitable doctrine)।অর্থ: কেউ যদি পূর্বে কোনো বক্তব্য, আচরণ বা নিশ্চয়তার মাধ্যমে অন্যকে বিশ্বাস করাতে সাহায্য করে, তাহলে পরে সেই বক্তব্য বা আচরণের বিপরীতে আইন অনুযায়ী যেতে পারবে না।

·         মূল উদ্দেশ্য: ন্যায়সঙ্গত নির্ভরতা এবং প্রতারণা প্রতিরোধ

রেস-জুডিকেটা (Res Judicata)

·         এটি একটি আইনি নীতি (legal doctrine)

·         অর্থ: একবার আদালত কোনো মামলায় চূড়ান্ত রায় দিলে, একই পক্ষ বা পক্ষগুলির মধ্যে একই বিষয় নিয়ে পুনরায় মামলা করা যাবে না।

·         মূল উদ্দেশ্য: আইনগত স্থিতিশীলতা এবং মামলার পুনরাবৃত্তি রোধ।

 

২উৎপত্তি ও উৎস

বিষয়

এস্টোপেল

রেস-জুডিকেটা

উৎস

Equity (ন্যায়শাস্ত্র)

Common law / Statutory law

কেন্দ্রীয় ভিত্তি

ন্যায় ন্যায্যতার মূলনীতি

আদালতের চূড়ান্ত রায়ের প্রভাব

লক্ষ্য

প্রতারণা রোধ নির্ভরতা রক্ষা

একবার রায় হলে পুনরায় মামলা আটকানো

 

প্রয়োগ ক্ষেত্র

এস্টোপেল:

1.      Promissory Estoppel: কেউ কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে, এবং অন্য ব্যক্তি সেই প্রতিশ্রুতিতে নির্ভর করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে।

2.      Estoppel by Conduct: কোনো ব্যক্তির আচরণের উপর অন্য ব্যক্তি নির্ভর করলে।

3.      Estoppel by Record / Deed: রেকর্ড বা আইনগত দলিলের কারণে বাধ্যতা।

রেস-জুডিকেটা: শুধুমাত্র চূড়ান্ত রায়ের পরে প্রযোজ্য।

·         ধরন:

1.      Claim Preclusion: একই দাবি পুনরায় করা যাবে না।

2.      Issue Preclusion (Collateral Estoppel): একই ইস্যু পুনরায় বিবেচনা করা যাবে না, যদিও দাবি ভিন্ন হতে পারে।

 

বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য

এস্টোপেল

রেস-জুডিকেটা

উদ্দেশ্য

নির্ভরতা ন্যায় রক্ষা

আইনি স্থিতিশীলতা, মামলা পুনরাবৃত্তি রোধ

প্রভাব

শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক

নতুন মামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ভিত্তি

equitable principles

judicial decision / statutory law

প্রযোজ্য সময়

আদালতের রায়ের আগে বা পরে

শুধুমাত্র চূড়ান্ত রায়ের পরে

উদাহরণ

কেউ বলে জমি তার নয়, অন্য ব্যক্তি নির্ভর করেপরে সে দাবি করলে বাধা

জমি মামলা শেষ হয়েছেএকই জমি নিয়ে নতুন মামলা নিষিদ্ধ

No comments

Powered by Blogger.