Header Ads

Header ADS

সাক্ষ্য আইন প্রয়োগে প্রধান প্রধান নীতি উল্লেখ কর। (খ) দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলায় সাধারণতঃ একই সাক্ষ্য হয়-এ নীতির কোনো ব্যতিক্রম আছে কী? (গ) আদালতের মামলায় কোন কোন ঘটনার উপর সাক্ষ্য দেয়া যায়?

 




১। ক) সাক্ষ্য আইন প্রয়োগে প্রধান প্রধান নীতি উল্লেখ কর।

() দেওয়ানী ফৌজদারী মামলায় সাধারণতঃ একই সাক্ষ্য হয়- নীতির কোনো ব্যতিক্রম আছে কী?

( সাক্ষ্য আইন প্রয়োগে প্রধান প্রধান নীতি উল্লেখ কর।

ভূমিকা: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু আইন থাকলেই যথেষ্ট নয়, সেই আইন প্রয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য যুক্তিসংগত প্রমাণের প্রয়োজন হয়। বিচারিক কার্যক্রমে যে উপাদানগুলোর মাধ্যমে কোনো ঘটনার সত্যতা নির্ণয় করা হয়, সেগুলোকেই বলা হয় সাক্ষ্য। সাক্ষ্য আইন মূলত আদালতে কোন ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে, কোনটি হবে না, সাক্ষ্য কীভাবে উপস্থাপন মূল্যায়ন করা হবেএসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সাক্ষ্য আইন প্রয়োগে কিছু মৌলিক নীতি অনুসরণ করা হয়, যা বিচারকার্যকে সুশৃঙ্খল, নিরপেক্ষ ন্যায়সঙ্গত করে তোলে।

নিচে সাক্ষ্য আইন প্রয়োগের প্রধান প্রধান নীতিগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

 

. প্রাসঙ্গিকতার নীতি (Doctrine of Relevancy)

সাক্ষ্য আইনের মূল ভিত্তি হলো প্রাসঙ্গিকতা। যে তথ্য বা ঘটনা মামলার বিচার্য বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত, কেবল সেটিই প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। অপ্রাসঙ্গিক তথ্য সত্য হলেও আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীতি আদালতকে অপ্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বিরত রাখে।

. গ্রহণযোগ্যতার নীতি (Doctrine of Admissibility)

সব প্রাসঙ্গিক তথ্যই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো তথ্য প্রাসঙ্গিক হলেও যদি তা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয় বা বেআইনি উপায়ে সংগৃহীত হয়, তবে তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় না। অর্থাৎ সাক্ষ্য হতে হলে প্রাসঙ্গিকতার পাশাপাশি আইনসম্মততাও থাকতে হবে।

. সর্বোত্তম সাক্ষ্যের নীতি (Best Evidence Rule)

কোনো বিষয় প্রমাণের জন্য সর্বোত্তম মূল সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে হয়। বিশেষত লিখিত দলিলের ক্ষেত্রে মূল দলিল (Primary Evidence) আদালতে দাখিল করা আবশ্যক। গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence) কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন মূল দলিল উপস্থাপন করা অসম্ভব হয়।

. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের নীতি (Doctrine of Direct Evidence)

যে ঘটনা প্রত্যক্ষভাবে দেখা, শোনা বা অনুভব করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যই গ্রহণযোগ্য। অনুমাননির্ভর বা পরোক্ষ সাক্ষ্য সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীতি সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে।

 

. শোনা কথা বর্জনের নীতি (Rule against Hearsay)

যে সাক্ষী নিজে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেনি, বরং অন্যের কাছ থেকে শুনেছে ধরনের সাক্ষ্যকে hearsay বলা হয় এবং তা সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এতে সাক্ষ্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়। তবে মৃত্যু-উক্তি, ব্যবসায়িক নথি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।

. মৌখিক লিখিত সাক্ষ্যের নীতি

যেসব বিষয়ে লিখিত দলিল বিদ্যমান, সেসব ক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে লিখিত সাক্ষ্য অধিক গুরুত্ব পায়। লিখিত চুক্তি বা দলিলের বিষয়বস্তু মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা পরিবর্তন বা বিরোধিতা করা যায় না।

. সাক্ষীর যোগ্যতার নীতি (Competency of Witness)

আইন অনুযায়ী যে ব্যক্তি প্রশ্ন বুঝতে যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে সক্ষম, সে সাক্ষ্য দিতে পারে। সাধারণভাবে সবাই সাক্ষী হতে পারে, যদি না আইন বিশেষভাবে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করে।

. প্রমাণের ভারের নীতি (Burden of Proof)

যে পক্ষ কোনো দাবি বা অভিযোগ উত্থাপন করে, সেই পক্ষের উপর তা প্রমাণের দায়িত্ব বর্তায়। ফৌজদারি মামলায় সাধারণত অভিযোগকারী পক্ষকে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে হয়।

. অনুমান প্রতিকূল অনুমানের নীতি (Presumption and Adverse Presumption)

আইন কিছু ক্ষেত্রে আদালতকে অনুমান করার ক্ষমতা প্রদান করে। যেমনস্বাভাবিক মানবিক আচরণ থেকে অনুমান। প্রয়োজনে আদালত প্রতিকূল অনুমানও গ্রহণ করতে পারে, যদি কোনো পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গোপন করে।

১০. স্বীকৃতি, স্বীকারোক্তি এস্টপেলের নীতি (Admission, Confession and Estoppel)

কোনো পক্ষের স্বীকৃতি বা স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। আবার এস্টপেল নীতির ফলে কোনো ব্যক্তি তার পূর্বের বক্তব্য বা আচরণের বিপরীত দাবি করতে পারে না, যদি তাতে অন্য পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উপসংহার সাক্ষ্য আইন প্রয়োগের এসব নীতি বিচারিক প্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। এসব নীতির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত প্রমাণের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে এবং ন্যায়সঙ্গত রায় প্রদান সম্ভব হয়।

 

() দেওয়ানী ফৌজদারী মামলায় সাধারণতঃ একই সাক্ষ্য হয়- নীতির কোনো ব্যতিক্রম আছে কী?

ভূমিকা

বিচার ব্যবস্থায় সাক্ষ্য হলো সত্য উদ্ঘাটনের প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশে প্রযোজ্য সাক্ষ্য আইন উভয় প্রকার মামলায়দেওয়ানী ফৌজদারীসমানভাবে কার্যকর। এই কারণে একটি সুপরিচিত নীতি গড়ে উঠেছে যে দেওয়ানী ফৌজদারী মামলায় সাধারণত একই সাক্ষ্য হয় অর্থাৎ সাক্ষ্যের প্রকারভেদ, প্রাসঙ্গিকতা গ্রহণযোগ্যতার মৌলিক নিয়ম উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্ন। তবে মামলার উদ্দেশ্য, পক্ষের অধিকার প্রমাণের মানের ভিন্নতার কারণে এই সাধারণ নীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থেই এসব ব্যতিক্রম স্বীকৃত।

নিচে উক্ত নীতির ব্যতিক্রমসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

সাধারণ নীতির ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইন মূলত দেওয়ানী ফৌজদারীউভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য। তাই প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, দলিল, স্বীকৃতি, পরিস্থিতিগত সাক্ষ্য ইত্যাদি উভয় মামলাতেই সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে এটিসাধারণতপ্রযোজ্যসব ক্ষেত্রে নয়।

নীতির ব্যতিক্রমসমূহ

. প্রমাণের মানে পার্থক্য (Difference in Standard of Proof)

এই নীতির সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম হলো প্রমাণের মান।

দেওয়ানী মামলায় প্রমাণের মান হলো সম্ভাবনার ভারসাম্য (Balance of Probability)

ফৌজদারী মামলায় অপরাধ প্রমাণ করতে হয় সন্দেহাতীতভাবে (Beyond Reasonable Doubt)

ফলে যে সাক্ষ্য দেওয়ানী মামলায় যথেষ্ট, তা ফৌজদারী মামলায় অপরাধ প্রমাণে অপ্রতুল হতে পারে।

 

. স্বীকারোক্তি স্বীকৃতির পার্থক্য

ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। পুলিশ হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তি সাধারণত অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু দেওয়ানী মামলায় পক্ষের স্বীকৃতি (Admission) তুলনামূলকভাবে সহজে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য।

 

. অভিযুক্তের নীরব থাকার অধিকার

ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মদোষ স্বীকারে বাধ্য নয় এবং নীরব থাকার অধিকার ভোগ করে। তার নীরবতা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। অন্যদিকে, দেওয়ানী মামলায় কোনো পক্ষ সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলে আদালত তার বিরুদ্ধে প্রতিকূল অনুমান গ্রহণ করতে পারে।

 

. চরিত্রগত সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা

ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্তের চরিত্র সাধারণত অপ্রাসঙ্গিক, যদি না তা মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হয়।
কিন্তু দেওয়ানী মামলায়, বিশেষ করে মানহানি বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলায়, চরিত্রগত সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

. প্রমাণের ভার (Burden of Proof) সংক্রান্ত ব্যতিক্রম

ফৌজদারী মামলায় প্রমাণের ভার প্রায় সম্পূর্ণরূপে অভিযোগকারী বা রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।
দেওয়ানী মামলায় প্রমাণের ভার এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের ওপর স্থানান্তরিত হতে পারে। ফলে একই সাক্ষ্যের মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে।

. বিশেষ সাক্ষ্যের প্রযোজ্যতা

কিছু সাক্ষ্য মূলত ফৌজদারী মামলায় বেশি ব্যবহৃত হয়। যেমন

মৃত্যু-উক্তি (Dying Declaration) প্রধানত ফৌজদারী মামলায় প্রাসঙ্গিক।

অন্যদিকে, চুক্তি বা মালিকানা সংক্রান্ত লিখিত দলিল দেওয়ানী মামলায় অধিক গুরুত্ব বহন করে।

. সাজা পরিণতির পার্থক্যজনিত সতর্কতা

ফৌজদারী মামলার রায়ে অভিযুক্তের স্বাধীনতা বা জীবন পর্যন্ত জড়িত থাকতে পারে। তাই আদালত সাক্ষ্য মূল্যায়নে অত্যন্ত সতর্ক থাকে।
দেওয়ানী মামলায় আর্থিক বা দেওয়ানি অধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়, তাই সাক্ষ্যের মানদণ্ড তুলনামূলকভাবে নমনীয়।

 

উপসংহার :যদিও নীতিগতভাবে বলা হয় যে দেওয়ানী ফৌজদারী মামলায় সাধারণত একই সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য, তবুও প্রমাণের মান, অভিযুক্তের অধিকার, স্বীকারোক্তির বিধান মামলার উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে এই নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। এসব ব্যতিক্রম সাক্ষ্য আইনের নমনীয়তা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

 

() আদালতের মামলায় কোন কোন ঘটনার উপর সাক্ষ্য দেয়া যায়?

ভূমিকা

আদালতের কোনো মামলায় বিচারকার্য পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা। এই সত্য উদ্ঘাটনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সাক্ষ্য তবে আদালতে যেকোনো ঘটনা বা তথ্যের ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায় না। সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কেবল সেই সব ঘটনা তথ্যের ওপরই সাক্ষ্য দেওয়া যায়, যেগুলো মামলার বিচার্য বিষয়ের সঙ্গে আইনগতভাবে সম্পর্কিত। কোন কোন ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যাবে বিষয়টি সাক্ষ্য আইনের প্রাসঙ্গিকতা (Relevancy) নীতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

নিচে আদালতের মামলায় কোন কোন ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায় তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

 

আদালতের মামলায় যে সব ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায়

. বিচার্য ঘটনা (Facts in Issue)

যেসব ঘটনা প্রমাণ বা অপ্রমাণের ওপর মামলার রায় নির্ভর করে, সেগুলোকে বিচার্য ঘটনা বলা হয়। এসব ঘটনার ওপর সরাসরি সাক্ষ্য দেওয়া যায়।
উদাহরণ: চুরি মামলায় চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে কি না।

 

. বিচার্য ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা (Relevant Facts)

যে ঘটনাগুলো বিচার্য ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং বিচার্য ঘটনাকে ব্যাখ্যা, সমর্থন বা অস্বীকার করেসেসব ঘটনার ওপর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।
উদাহরণ: ঘটনার আগে বা পরে অভিযুক্তের আচরণ।

. একই লেনদেনের অংশভুক্ত ঘটনা (Facts forming part of the same transaction – Res Gestae)

যে ঘটনাগুলো একই ঘটনার ধারাবাহিক অংশ এবং সময়, স্থান উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্তসেসব ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায়।
উদাহরণ: আঘাতের সময় ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক চিৎকার।

 

. উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি পরবর্তী আচরণ (Motive, Preparation and Conduct)

অপরাধ সংঘটনের পেছনে উদ্দেশ্য, অপরাধের প্রস্তুতি এবং অপরাধের পর অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কিত ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায়।
উদাহরণ: হত্যার আগে হুমকি প্রদান।

. ঘটনা ব্যাখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা

যে ঘটনাগুলো বিচার্য ঘটনাকে বোঝাতে বা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, সেগুলোর ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায়।
উদাহরণ: ঘটনার স্থান পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্য।

 

. একই ধরনের অন্যান্য ঘটনা (Similar Facts)

কিছু ক্ষেত্রে একই ধরনের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ঘটনার ওপর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি তা উদ্দেশ্য, জ্ঞান বা অভ্যাস প্রমাণে সহায়ক হয়।
উদাহরণ: প্রতারণার ধারাবাহিকতা প্রমাণে পূর্ববর্তী প্রতারণার ঘটনা।

. স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি (Admissions and Confessions)

কোনো পক্ষের স্বীকৃতি বা অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি সম্পর্কিত ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায়, যদি তা আইনসম্মতভাবে প্রাপ্ত হয়।

. চরিত্র সংক্রান্ত ঘটনা

বিশেষ পরিস্থিতিতে পক্ষ বা অভিযুক্তের চরিত্র সংক্রান্ত ঘটনার ওপর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।
উদাহরণ: মানহানি মামলায় বাদীর চরিত্র।

. বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতাসম্পন্ন ঘটনার ওপর মতামত (Expert Opinion)

বিজ্ঞান, চিকিৎসা, হস্তলিপি, আঙুলের ছাপ ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সম্পর্কিত ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায়।

১০. রীতি, প্রথা ব্যবহার সংক্রান্ত ঘটনা

যেসব ঘটনা কোনো অধিকার বা দায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করেযেমন সামাজিক বা ব্যবসায়িক প্রথাসেসব বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যায়।

উপসংহার

আদালতের মামলায় কেবল বিচার্য ঘটনা নয়, বরং বিচার্য ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ঘটনার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যায়। সাক্ষ্য আইনের এসব বিধান আদালতকে সত্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করে এবং অপ্রাসঙ্গিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিচারকার্যকে রক্ষা করে।

 

No comments

Powered by Blogger.