(ক) সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী চরিত্র বলতে কী বুঝ? (খ) কখন দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলায় চরিত্র সংক্রান্ত সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক? (গ) পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ কী খারাপ চরিত্রের সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক? আলোচনা কর।
৪. (ক) সাক্ষ্য
আইন,
১৮৭২
অনুযায়ী চরিত্র
বলতে
কী
বুঝ?
(খ) কখন
দেওয়ানী ও
ফৌজদারী মামলায় চরিত্র
সংক্রান্ত সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক?
(গ)
পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ কী খারাপ চরিত্রের
সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক? আলোচনা কর।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী চরিত্র (Character)
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২
অনুযায়ী, “চরিত্র”
বলতে
কোনো
ব্যক্তির নৈতিক, সামাজিক বা ধর্মীয় গুণাবলী এবং আচরণের ধরণ বোঝায়,
যা
তার
বিশ্বাসযোগ্যতা বা
নির্ভরযোগ্যতার পরিমাপের জন্য
প্রাসঙ্গিক।
চরিত্র মূলত
ব্যক্তির পূর্বের আচরণ, সততা, সৎ জীবনধারা ও সামাজিক রূপ সম্পর্কিত।আদালত কখনো
কখনো
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা (credibility) বা পক্ষের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য চরিত্র বিবেচনা করে।চরিত্রকে প্রমাণের মাধ্যমে সাক্ষীর
বিশ্বাসযোগ্যতা বা অভিযুক্তের দোষ/অসততা নির্ণয় ব্যবহার করা
যায়।
উদাহরণ
সাক্ষীকে জেরা
করে
জানা
যায়
সে
সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি, তখন
তার
সাক্ষ্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে
করা
হয়।
অভিযুক্তের আগের চুরি বা প্রতারণার অভ্যাস থাকলে
তা
তার
দোষ
প্রমাণে ব্যবহার করা
যেতে
পারে।
(খ) কখন
দেওয়ানী ও
ফৌজদারী মামলায় চরিত্র
সংক্রান্ত সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক?
দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলায় চরিত্র সংক্রান্ত সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা
ভূমিকা:
সাক্ষ্য আইন,
১৮৭২
অনুযায়ী, সাধারণত চরিত্রের উপর
প্রদত্ত সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, বরং
এটি
বিশ্বাসযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি প্রভাব বা অভিযুক্তের পূর্বাচরণ যাচাই
করার
জন্য
প্রাসঙ্গিক হতে
পারে।
তবে
দেওয়ানী এবং
ফৌজদারী মামলায় চরিত্র
সংক্রান্ত সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা কিছু
শর্তের
ওপর
নির্ভর
করে।
১. দেওয়ানী মামলায় (Civil Cases)
চরিত্র সাক্ষ্যের উদ্দেশ্য:
পক্ষ
বা
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা (credibility)
যাচাই
করা।কোনও চুক্তি,
দেনা-দেনার ঘটনা বা
ক্ষতির
মামলায় পক্ষের সততা বা ন্যায়পরায়ণতা নির্ধারণ।
শর্ত:চরিত্র
সাক্ষ্য প্রসঙ্গভিত্তিক হতে হবে। উদাহরণ: পক্ষের
সততার
প্রমাণ
বা
প্রতারণার অভ্যাস
দেখানো।
উদাহরণ: চুক্তিভঙ্গ মামলায় বলা
যায়—“বাদী/প্রতিপক্ষ একজন
সৎ
ও
বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি।”এতে
আদালত
পক্ষের
বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বিচার
করতে
পারে।
২. ফৌজদারী মামলায় (Criminal Cases)
চরিত্র সাক্ষ্যের উদ্দেশ্য: অভিযুক্তের ভালো বা খারাপ চরিত্র দেখিয়ে তার
দোষ
প্রমাণের বা
নির্দোষতা প্রমাণের সহায়তা।অভিযুক্ত পূর্বে
সৎ,
নিরপেক্ষ বা
নৈতিক
ব্যক্তি হলে
তা
রক্ষণশীলভাবে নির্দোষতার পক্ষে ব্যবহার করা যেতে পারে।
শর্ত:চরিত্র
সাক্ষ্য সরাসরি দোষ প্রমাণের জন্য নয়, বরং
বিশ্বাসযোগ্যতা বা দোষের সম্ভাবনা সম্পর্কে অনুমান করার জন্য। আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তের পূর্ব অপরাধের অভ্যাস বা
অসৎ কাজের ইতিহাস সীমিত
শর্তে
সাক্ষ্য হিসেবে
ব্যবহার করা
যেতে
পারে।
উদাহরণ: হত্যা মামলায় বলা
যায়—“অভিযুক্ত সাধারণত শান্ত প্রকৃতির ব্যক্তি।” এতে
আদালত
দোষ
প্রমাণের ক্ষেত্রে কিছুটা
প্রভাবিত হতে
পারে।
(গ)
পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ কী খারাপ চরিত্রের
সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক? আলোচনা কর।
ভূমিকা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী, সাধারণত চরিত্রের উপর দেওয়া সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, তবে ফৌজদারী মামলায় এটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ (previous
conviction) মানে হলো অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে আদালতে দণ্ডিত হয়েছে এমন তথ্য। আদালত সীমিত
শর্তে এটি অভিযুক্তের খারাপ চরিত্র বা অপরাধমূলক প্রবণতা প্রমাণে ব্যবহার করতে পারে।
১. পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশের সংজ্ঞা
সংজ্ঞা:
পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ হলো অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে আদালতের মাধ্যমে কোনো অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে এমন রেকর্ড।এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
জেলাদেশ, জরিমানা, শর্তসাপেক্ষ মুক্তি, হেফাজত, ইত্যাদি।এটি তার পূর্বাচরণ, সামাজিক আচরণ ও নৈতিক চরিত্র সম্পর্কে তথ্য দেয়।
২. খারাপ চরিত্রের সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিকতা
1. সরাসরি বর্তমান দোষ প্রমাণ নয়:পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ বর্তমান অপরাধের প্রমাণ সরবরাহ করে না, তবে তা অভিযুক্তের খারাপ চরিত্র বা অপরাধ প্রবণতা দেখাতে ব্যবহার করা যায়।
2.
শর্তসাপেক্ষ
ব্যবহার:
3. আদালত সাধারণত সংশ্লিষ্ট বা প্রাসঙ্গিক অপরাধের ক্ষেত্রে এই তথ্যকে প্রমাণ
হিসেবে গ্রহণ করে।উদাহরণ: চুরি মামলায় অভিযুক্তের পূর্বে চুরি করার দণ্ড প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
4. ফৌজদারী মামলায় প্রয়োগ:
পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ অভ্যাসগত বা পুনরাবৃত্ত অপরাধ প্রমাণে সহায়ক।এটি অভিযুক্তের চরিত্র যাচাই ও দোষের সম্ভাব্যতা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
5. সীমাবদ্ধতা:
আদালত পক্ষের প্রতি পক্ষপাত সৃষ্টি করতে পারে এমন তথ্য হিসেবে ব্যবহার সীমিতভাবে গ্রহণ করে।চরিত্র প্রমাণে ব্যবহারের সময় প্রাসঙ্গিকতা এবং ন্যায্যতার সীমা মেনে চলা জরুরি।
৩. উদাহরণ
1. চুরি মামলায়:
অভিযুক্ত পূর্বে একাধিক চুরির জন্য দণ্ডিত।আদালত এটি অভিযুক্তের চুরি করার প্রবণতা প্রমাণ করতে সীমিতভাবে ব্যবহার করতে পারে।
2. হত্যা মামলায়:
অভিযুক্ত পূর্বে হিংসাত্মক হামলার জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত।সরাসরি হত্যার প্রমাণ নয়, তবে চরিত্র যাচাই ও দোষের সম্ভাবনা
বোঝাতে ব্যবহারযোগ্য।
3. সীমাবদ্ধ প্রয়োগ: আদালত পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশকে শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক চরিত্র বা অভ্যাস যাচাই করার জন্য ব্যবহার করে, বর্তমান অপরাধ প্রমাণে নয়।
৪. প্রাসঙ্গিক আইন
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (Section 53):অভিযুক্তের চরিত্রের উপর প্রদত্ত সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক হলে আদালতে গ্রহণযোগ্য।পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ অভিযুক্তের খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে সীমিতভাবে প্রাসঙ্গিক।
No comments