রাজস্ব আইন সংক্ষিপ্ত সাজেশন অনুযায়ী টিকা এর উত্তর। এল এল বি পরীক্ষা-১ম বর্ষ- ২০২৪- পার্ট-১
রাজস্ব আইন সংক্ষিপ্ত সাজেশন অনুযায়ী টিকা এর উত্তর। এল এল বি পরীক্ষা-১ম বর্ষ- ২০২৪- পার্ট-১
১.কর বছর ও পূর্ববর্তী বছর
কর বছর (Assessment Year / Tax Year)
কর
বছর
বলতে
সেই
বছরকে
বোঝায়,
যে
বছরে
পূর্ববর্তী বছরে অর্জিত আয়ের উপর কর নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও পরিশোধ করা হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত কর
বছর
১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গণনা
করা
হয়।
উদাহরণ:
পূর্ববর্তী বছর
যদি
হয়
১
জুলাই
২০২৩
হতে
৩০
জুন
২০২৪,
তাহলে
ঐ
আয়ের
কর
নির্ধারণ হবে
১ জুলাই ২০২৪ হতে ৩০ জুন ২০২৫ কর বছরে।
পূর্ববর্তী বছর (Previous Year / Income Year)
পূর্ববর্তী বছর
হলো
সেই
বছর,
যে বছরে করযোগ্য আয় অর্জিত বা সঞ্চিত হয়। এই আয়ের
উপর
কর
পরবর্তী কর
বছরে
আরোপ
করা
হয়।
উদাহরণ:
১
জুলাই
২০২৩
থেকে
৩০
জুন
২০২৪
পর্যন্ত অর্জিত
আয়
হলো
পূর্ববর্তী বছরের আয়।
কর বছর ও পূর্ববর্তী বছরের পার্থক্য
|
বিষয় |
পূর্ববর্তী বছর |
কর বছর |
|
সংজ্ঞা |
আয় অর্জনের বছর |
আয়
মূল্যায়নের বছর |
|
সময়কাল |
১
জুলাই – ৩০
জুন |
পরবর্তী
১
জুলাই – ৩০
জুন |
|
উদ্দেশ্য |
আয়
সৃষ্টি |
কর
নির্ধারণ ও
আদায় |
২.
খেলাপী করদাতা
রাষ্ট্রের
রাজস্ব ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো কর আদায়। করদাতার
আইনগত দায়িত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না
হলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় রাজস্ব
আইনে কর পরিশোধে ব্যর্থ
করদাতাকে খেলাপী করদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে।
যে
করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, অথবা কর নির্ধারণ সত্ত্বেও
সম্পূর্ণ বা আংশিক কর
পরিশোধ করেন না, তাকে খেলাপী করদাতা বলা হয়।
কখন করদাতা খেলাপী হিসেবে গণ্য হয়
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে একজন করদাতা খেলাপী হিসেবে বিবেচিত হন—
১) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে
২) কর নির্ধারণ হওয়ার
পর নির্ধারিত সময়ে কর পরিশোধ না
করলে
৩) কিস্তিতে কর পরিশোধের শর্ত
ভঙ্গ করলে
৪) জরিমানা বা অতিরিক্ত কর
পরিশোধ না করলে
খেলাপী করদাতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
রাজস্ব আইন অনুযায়ী খেলাপী করদাতার বিরুদ্ধে—
·
জরিমানা
আরোপ
·
অতিরিক্ত
কর (সারচার্জ) ধার্য
·
ব্যাংক
হিসাব জব্দ
·
সম্পত্তি
ক্রোক ও নিলাম
·
বিদেশ
ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
·
মামলা
দায়ের করা যেতে পারে।
— প্রত্যক্ষ কর ও
পরোক্ষ কর।
রাষ্ট্রের রাজস্ব
আয়ের
প্রধান
উৎস
হলো
কর।
কর
মূলত
দুই
প্রকার—
প্রত্যক্ষ কর ও
পরোক্ষ কর। করের প্রকৃতি, আদায়ের
পদ্ধতি
ও
করের
ভার
বহনের
দিক
থেকে
এ
দুই
ধরনের
করের
মধ্যে
মৌলিক
পার্থক্য রয়েছে।
প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax)
সংজ্ঞা
যে
কর
যার উপর আরোপ করা হয়, তাকেই সরাসরি পরিশোধ করতে হয় এবং করের ভার অন্যের উপর স্থানান্তর করা যায় না, তাকে
প্রত্যক্ষ কর
বলা
হয়।
বৈশিষ্ট্য
১)
করের
ভার
স্থানান্তরযোগ্য নয়
২)
আয়ের
উপর
সরাসরি
আরোপিত
৩)
করদাতার সামর্থ্য বিবেচনায় নেওয়া
হয়
৪)
কর
ফাঁকি
দেওয়ার
প্রবণতা তুলনামূলক বেশি
উদাহরণ
- আয়কর
- কর্পোরেট
কর
- সম্পত্তি
কর
- উত্তরাধিকার
কর
পরোক্ষ কর (Indirect Tax)
সংজ্ঞা
যে
কর
এক ব্যক্তি পরিশোধ করলেও প্রকৃত করের ভার অন্য ব্যক্তির উপর পড়ে, তাকে
পরোক্ষ
কর
বলা
হয়।
বৈশিষ্ট্য
১)
করের
ভার
স্থানান্তরযোগ্য
২)
পণ্য
ও
সেবার
উপর
আরোপিত
৩)
আদায়
সহজ
৪)
ভোক্তাই শেষ
পর্যন্ত কর
বহন
করে
উদাহরণ
- মূল্য সংযোজন কর
(VAT)
- শুল্ক
(Customs Duty)
- আবগারি শুল্ক
- বিক্রয় কর
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের পার্থক্য
|
বিষয় |
প্রত্যক্ষ কর |
পরোক্ষ কর |
|
কর
আরোপ |
ব্যক্তির আয়ের
উপর |
পণ্য
ও
সেবার উপর |
|
কর
পরিশোধকারী |
যে
কর
দেয়,
সেই
বহন
করে |
একজন
দেয়,
অন্যজন বহন
করে |
|
করের
ভার |
স্থানান্তরযোগ্য নয় |
স্থানান্তরযোগ্য |
|
ফাঁকি |
তুলনামূলক বেশি |
তুলনামূলক কম |
|
ন্যায্যতা |
বেশি
ন্যায়সংগত |
তুলনামূলক কম |
৪. লোকসান পূরণ ও লোকসানের জের টানা
১) লোকসান পূরণ (Set-off of Loss)
এক
করবর্ষে করদাতার কোনো
উৎসে
লোকসান
হলে,
সেই
একই
করবর্ষে অন্য
উৎসে
অর্জিত
আয়ের
সঙ্গে
ওই
লোকসান
সমন্বয় করাকে
লোকসান পূরণ বলা
হয়।
ধরন
- অভ্যন্তরীণ
পূরণ (Intra-head set-off): একই আয়ের খাতের ভেতরে (যেমন ব্যবসার এক শাখার লোকসান অন্য শাখার লাভের সাথে)।
- আন্তঃখাত
পূরণ (Inter-head set-off): এক খাতের লোকসান অন্য খাতের আয়ের সাথে (আইনে নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে)।
উদাহরণ:
ব্যবসায় লোকসান
৫০,০০০ টাকা, চাকরি
থেকে
আয়
১,২০,০০০ টাকা
→ অনুমোদিত হলে
৫০,০০০ টাকা সমন্বয় করে
করযোগ্য আয়
হবে
৭০,০০০ টাকা।
২) লোকসানের জের টানা (Carry Forward of Loss)
যে
লোকসান
একই
করবর্ষে পূরণ
করা
যায়
না,
তা
পরবর্তী করবর্ষ/বর্ষগুলোতে বহন করে নিয়ে
গিয়ে
ভবিষ্যৎ আয়ের
সাথে
সমন্বয় করাকে
লোকসানের জের টানা বলা
হয়।
মূল বৈশিষ্ট্য
- নির্দিষ্ট
সময়সীমা পর্যন্তই জের টানা যায় (আইনে নির্ধারিত বছরসংখ্যা)।
- সাধারণত একই
খাতের ভবিষ্যৎ আয়ের সাথেই সমন্বয় করা যায়।
- লোকসান জের টানতে হলে সাধারণত সময়মতো
রিটার্ন দাখিল শর্ত থাকে।
উদাহরণ:
চলতি
বছরে
ব্যবসায় লোকসান
১,০০,০০০ টাকা;
পূরণ
সম্ভব
নয়
→ পরের
বছরে
ব্যবসায় লাভ
১,৫০,০০০ টাকা
হলে
১,০০,০০০ টাকা
সমন্বয় করে
করযোগ্য লাভ
হবে
৫০,০০০ টাকা।
সংক্ষেপে পার্থক্য
|
বিষয় |
লোকসান পূরণ |
লোকসানের জের টানা |
|
সময় |
একই
করবর্ষ |
পরবর্তী করবর্ষ/বর্ষসমূহ |
|
লক্ষ্য |
তাৎক্ষণিক সমন্বয় |
ভবিষ্যৎ আয়ের সাথে
সমন্বয় |
|
শর্ত |
খাতভিত্তিক বিধিনিষেধ |
সময়সীমা ও
রিটার্ন শর্ত |
ধারা ৮২বিবি অনুযায়ী সর্বজনীন স্বনির্ধারণী
আয়কর প্রশাসনকে সহজ, দ্রুত ও করদাতাবান্ধব করার
লক্ষ্যে আয়কর আইনে ধারা ৮২বিবি সংযোজন করা হয়। এ ধারার মাধ্যমে
বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বনির্ধারণী কর নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু হয়, যেখানে করদাতা নিজেই তার করযোগ্য আয় ও কর নির্ধারণ
করে রিটার্ন দাখিল করে।
সর্বজনীন
স্বনির্ধারণী কর নির্ধারণের সংজ্ঞা
ধারা ৮২বিবি অনুযায়ী সর্বজনীন স্বনির্ধারণী কর নির্ধারণ হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে করদাতা নিজ দায়িত্বে তার আয় হিসাব করে কর নির্ধারণ করে রিটার্ন দাখিল করে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কর কর্তৃপক্ষ তা প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে।
ধারা ৮২বিবি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য
·
কর
ব্যবস্থাকে সহজ ও স্বচ্ছ করা
·
করদাতার
উপর হয়রানি কমানো
·
কর
প্রশাসনের কাজের চাপ হ্রাস
·
স্বেচ্ছায়
কর পরিশোধে উৎসাহ সৃষ্টি
·
কর
আদায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি
ধারা ৮২বিবির আওতায় কর নির্ধারণের পদ্ধতি
1. করদাতা নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করবে
2. নিজে নিজে করযোগ্য আয় গণনা করবে
3. প্রযোজ্য হারে কর নির্ধারণ ও পরিশোধ করবে
4. শর্ত পূরণ হলে কর কর্তৃপক্ষ রিটার্ন গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করবে
ধারা
৮২বিবির মাধ্যমে চালু হওয়া সর্বজনীন স্বনির্ধারণী কর নির্ধারণ ব্যবস্থা
বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় একটি
যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি করদাতা ও কর প্রশাসনের
মধ্যে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করে এবং আধুনিক কর ব্যবস্থার সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৬.
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) হলো বাংলাদেশের
সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রশাসনিক সংস্থা, যা আয়কর, ভ্যাট
ও কাস্টমস শুল্ক আরোপ, আদায় ও তদারকির দায়িত্ব
পালন করে। ১৯৭২ সালে National Board of Revenue Order, 1972
অনুযায়ী এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীনে কাজ করে। NBR-এর নেতৃত্বে থাকে
চেয়ারম্যান এবং বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা, যারা আয়কর, ভ্যাট, কাস্টমস, আইন ও প্রশাসন নিয়ে
কাজ করে। এর প্রধান লক্ষ্য
হলো দেশের রাজস্ব সংগ্রহ, কর প্রশাসন আধুনিকীকরণ,
করদাতাবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার মেরুদন্ড । সুশাসন, স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তি
ব্যবহারের মাধ্যমে এনবিআর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
৭. কর অবকাশ স্কীম
কর
অবকাশ
স্কীম
হলো
এমন
একটি
রাজস্ব নীতিগত সুবিধা, যার
মাধ্যমে সরকার
নির্দিষ্ট শর্ত
সাপেক্ষে কোনো
শিল্প,
খাত
বা
বিনিয়োগকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আয়কর থেকে সম্পূর্ণ বা আংশিক অব্যাহতি প্রদান
করে।
এর
মূল
উদ্দেশ্য হলো
শিল্পায়ন, বিদেশি
ও
দেশীয়
বিনিয়োগ বৃদ্ধি,
কর্মসংস্থান সৃষ্টি
এবং
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
কর অবকাশ স্কীমের উদ্দেশ্য
- নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে উৎসাহ প্রদান
- অনুন্নত বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে বিনিয়োগ
আকর্ষণ
- রপ্তানিমুখী
শিল্প ও
অগ্রাধিকার খাত উন্নয়ন
- বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি
- কর্মসংস্থান
সৃষ্টি ও
প্রযুক্তি উন্নয়ন
কর অবকাশ স্কীমের বৈশিষ্ট্য
- নির্দিষ্ট
সময়সীমা: সাধারণত ৫,
৭
বা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে
- নির্দিষ্ট
খাতভিত্তিক: যেমন—আইটি, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রপ্তানিমুখী শিল্প ইত্যাদি
- শর্তসাপেক্ষ:
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু, নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ, হিসাব সংরক্ষণ ইত্যাদি
- আংশিক
বা পূর্ণ করমুক্তি: প্রথম কয়েক বছর পূর্ণ অব্যাহতি, পরবর্তী বছরগুলোতে আংশিক অব্যাহতি থাকতে পারে
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
বাংলাদেশে কর
অবকাশ
স্কীম
আয়কর আইন অনুযায়ী প্রদান
করা
হয়
(বর্তমানে আয়কর
আইন,
২০২৩
প্রযোজ্য)।
সরকার
সময়ে
সময়ে
এসআরও (Statutory Regulatory Order) বা
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোন
খাত
ও
কোন
সময়ের
জন্য
কর
অবকাশ
প্রযোজ্য হবে
তা
নির্ধারণ করে।
কর অবকাশ স্কীমের সুফল
- বিনিয়োগকারীর
করভার হ্রাস
- শিল্প স্থাপনের
ঝুঁকি কমে
- দেশের সামগ্রিক
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি
সীমাবদ্ধতা / সমালোচনা
- সরকারের রাজস্ব আয় সাময়িকভাবে
কমে যেতে পারে
- অপব্যবহারের
সম্ভাবনা
- সব সময় কাঙ্ক্ষিত
শিল্পায়ন নিশ্চিত নাও হতে পারে
কর
অবকাশ
স্কীম
রাজস্ব
আইনের
একটি
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান,
যা
সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে
অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা
রাখতে
পারে।
তবে
জাতীয়
স্বার্থ রক্ষায় এটি
সুষম ও নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রয়োগ করা
জরুরি
৮.উৎসে কর কর্তন
উৎসে কর কর্তন হলো
এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন
কোনো অর্থ প্রদান করে, তখন পরিশোধের উৎসেই নির্ধারিত হারে আয়কর কেটে নিয়ে সরকারকে জমা দেয়। এটি রাজস্ব
আহরণের একটি কার্যকর পদ্ধতি।
উৎসে কর কর্তনের উদ্দেশ্য
1. কর ফাঁকি রোধ
করা
2. সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা
3. কর সংগ্রহ প্রক্রিয়া
সহজ ও নিয়মিত করা
4. করদাতাকে কর পরিশোধে উৎসাহিত
করা
উৎসে কর কর্তনের বৈশিষ্ট্য
·
অগ্রিম
কর আদায়ের পদ্ধতি
·
নির্দিষ্ট
ব্যক্তি ও লেনদেনের ক্ষেত্রে
প্রযোজ্য
·
নির্ধারিত
হারে কর্তন করা হয়
·
কর্তনকারী
সরকার কর্তৃক এজেন্ট (Tax Withholding
Agent) হিসেবে
কাজ করে
উৎসে কর কর্তনের প্রযোজ্য
ক্ষেত্র (উদাহরণ)
·
বেতন
ও ভাতা
·
পেশাগত
ফি ও কারিগরি সেবা
ফি
·
ভাড়া
(বাড়ি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি)
·
ঠিকাদারি
বিল
·
কমিশন
ও ব্রোকারেজ
·
ব্যাংক
আমানতের সুদ
·
আমদানি
ও রপ্তানি লেনদেন
উৎসে
কর কর্তন রাজস্ব আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সরকার ও
করদাতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে। সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে এটি কার্যকর কর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত
করে।
দান কর (Gift Tax) –
দান করের সংজ্ঞা
দান কর হলো এমন
এক প্রকার কর, যা কোনো ব্যক্তি
যদি বিনা প্রতিদানে বা নামমাত্র প্রতিদানে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তাহলে সেই দানের উপর আরোপিত হয়। এই কর মূলত
দাতা (Donor)
এর উপর ধার্য হয়।
দান করের আওতাভুক্ত সম্পত্তি
·
নগদ
অর্থ
·
জমি,
ভবন
·
স্বর্ণালংকার
·
শেয়ার,
বন্ড
·
যানবাহন
·
যেকোনো
মূল্যবান সম্পদ
করমুক্ত দান (সাধারণভাবে)
·
নিকট
আত্মীয় (স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তান)
·
ধর্মীয়
ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান
·
সরকার
কর্তৃক নির্ধারিত সীমার মধ্যে দান
দান করের উদ্দেশ্য
1. আয় গোপন করে সম্পদ হস্তান্তর রোধ
2. কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করা
3. সম্পদের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা
4. রাজস্ব আয় বৃদ্ধি
গুরুত্ব
দান কর কর ব্যবস্থাকে
স্বচ্ছ করে এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(১০) স্পট
স্পট এসেসমেন্টের সংজ্ঞা
স্পট এসেসমেন্ট হলো এমন একটি তাৎক্ষণিক কর নির্ধারণ পদ্ধতি, যেখানে কর কর্মকর্তা কোনো
ব্যবসা বা আয়ের উৎস
সরেজমিনে পরিদর্শন করে সঙ্গে সঙ্গে কর নির্ধারণ ও আদায় করেন।
স্পট এসেসমেন্টের প্রযোজ্য ক্ষেত্র
·
অস্থায়ী
ও মৌসুমি ব্যবসা
·
মেলা,
উৎসব, প্রদর্শনী
·
ভ্রাম্যমাণ
দোকান
·
স্বল্প
সময়ের ঠিকাদারি কাজ
·
অনিবন্ধিত
বা অনিয়মিত ব্যবসা
বৈশিষ্ট্য
·
পূর্ব
নোটিশের প্রয়োজন নেই
·
সরল
ও দ্রুত পদ্ধতি
·
কর
নির্ধারণ তাৎক্ষণিক
·
রাজস্ব
আদায় নিশ্চিত
·
আপিলের
সুযোগ সীমিত
স্পট এসেসমেন্টের উদ্দেশ্য
1. দ্রুত রাজস্ব আদায়
2. অস্থায়ী ব্যবসাকে করের আওতায় আনা
3. কর ফাঁকি রোধ
4. প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস
সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা:
·
সময়
ও খরচ সাশ্রয়
·
তাৎক্ষণিক
রাজস্ব সংগ্রহ
অসুবিধা:
·
করদাতার
আপত্তি জানানোর সুযোগ কম
·
ক্ষমতার
অপব্যবহারের আশঙ্কা
(১১) কর রেয়াত (Tax Rebate)
কর রেয়াতের সংজ্ঞা
কর রেয়াত হলো এমন একটি কর সুবিধা, যার
মাধ্যমে করদাতার মোট কর দায় থেকে নির্দিষ্ট হারে কর কমিয়ে দেওয়া হয়। এটি করমুক্ত
আয় নয়, বরং কর হিসাবের শেষ
ধাপে প্রযোজ্য।
কর রেয়াতের ক্ষেত্রসমূহ
·
জীবন
বীমা প্রিমিয়াম
·
প্রভিডেন্ট
ফান্ডে চাঁদা
·
সঞ্চয়পত্রে
বিনিয়োগ
·
শেয়ার
ও ডিবেঞ্চার
·
দাতব্য
ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে অনুদান
·
জাকাত
ও ধর্মীয় দান (নির্দিষ্ট শর্তে)
কর রেয়াতের বৈশিষ্ট্য
·
নির্দিষ্ট
সীমা ও শতকরা হারে
প্রদান
·
মোট
কর থেকে সরাসরি বিয়োগ করা হয়
·
করদাতাকে
বিনিয়োগে উৎসাহিত করে
·
সরকার
ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তনশীল
কর রেয়াতের উদ্দেশ্য
1. সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
2. সামাজিক কল্যাণে উৎসাহ
3. করদাতার করভার হ্রাস
4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা
১২. কর নিরীক্ষা
কর নিরীক্ষার সংজ্ঞা
কর নিরীক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কর কর্তৃপক্ষ করদাতার দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন, হিসাবপত্র ও আর্থিক নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে করের সঠিকতা যাচাই করে।
কর নিরীক্ষার উদ্দেশ্য
1. রিটার্নে প্রদত্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই
2. আয় গোপন বা ভ্রান্ত তথ্য
সনাক্ত করা
3. কর ফাঁকি প্রতিরোধ
4. সঠিক কর নির্ধারণ নিশ্চিত
করা
5. রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি
কর নিরীক্ষার প্রকারভেদ
1. ডেস্ক অডিট – অফিসে বসে নথিপত্র পরীক্ষা
2. ফিল্ড অডিট – সরেজমিনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন
3. বিশেষ নিরীক্ষা – জটিল বা সন্দেহজনক ক্ষেত্রে
কর নিরীক্ষার আওতাভুক্ত নথি
·
হিসাব
বই
·
ভাউচার
ও চালান
·
ব্যাংক
স্টেটমেন্ট
·
চুক্তিপত্র
·
মজুদ
তালিকা
গুরুত্ব
কর নিরীক্ষা কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা
ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে।
No comments