ট্রেডমার্কের সংজ্ঞা দাও? কে ট্রেডমার্কের জন্য দরখাস্ত করতে পারে? একটি আইনত ট্রেডমার্ক মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে আবেদন ও নবায়ন করার পদ্ধতি লিখ,ট্রেডমার্ক ও ট্রেড নামের মধ্যে পার্থক্য কর।
(৪) (ক) ট্রেডমার্কের
সংজ্ঞা দাও? কে ট্রেডমার্কের জন্য
দরখাস্ত করতে পারে?
(খ) একটি
আইনত ট্রেডমার্ক মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে আবেদন ও নবায়ন করার
পদ্ধতি লিখ।
(গ) ট্রেডমার্ক
ও ট্রেড নামের মধ্যে পার্থক্য কর।
ভূমিকা
বাজারে কোনো পণ্য বা সেবা চিহ্নিত
করার জন্য স্বতন্ত্র চিহ্ন থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেডমার্ক গ্রাহককে পণ্য বা সেবার উৎস শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং ব্যবসায়িক পরিচয়কে সুরক্ষা দেয়। এটি ব্যবসা বা শিল্পকে অননুমোদিত
ব্যবহার থেকে রক্ষা করে, ব্র্যান্ডের মর্যাদা বজায় রাখে এবং প্রতিযোগিতায় স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করে।
ট্রেডমার্কের সংজ্ঞা
“ট্রেডমার্ক
হলো কোনো পণ্য বা সেবার সনাক্তকরণ বা স্বতন্ত্রতা প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত প্রতীক, নাম, লোগো, চিহ্ন, শব্দ বা ডিজাইন, যা গ্রাহককে সেই পণ্য বা সেবা অন্যদের থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে।”
কে ট্রেডমার্কের
জন্য দরখাস্ত
করতে পারে?
ট্রেডমার্কের জন্য দরখাস্ত করতে পারে—
- পণ্য
বা সেবা সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান (Applicant/Owner)
- যে ব্যক্তি
বা প্রতিষ্ঠান ট্রেডমার্ক ব্যবহার করছে বা ব্যবহার করতে চায়, সে আবেদন করতে পারে।
- উদাহরণ: কোনো কোম্পানি
তার ব্র্যান্ড নাম বা লোগোর জন্য।
- কোনো
একক বা যৌথ মালিকানা (Individual or Joint Owner)
- যদি ট্রেডমার্ক
একাধিক ব্যক্তির মালিকানায় থাকে, তারা যৌথভাবে আবেদন করতে পারে।
- প্রতিনিধি
বা এজেন্ট (Authorized Agent)
- মালিকের
পক্ষ থেকে আইনানুগ প্রতিনিধি আবেদন করতে পারে, তবে লিখিত অনুমতি প্রয়োজন।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
- দরখাস্তকারী
অবশ্যই ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অধিকারী বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করার ইচ্ছুক হতে হবে।
- সৃষ্টিশীল
বা স্বতন্ত্র চিহ্ন হওয়া আবশ্যক, যা অন্যের ট্রেডমার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে না।
ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করতে পারে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যারা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে বা ব্যবহার করতে ইচ্ছুক, অথবা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধি।
(খ) একটি আইনত ট্রেডমার্ক মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে আবেদন ও নবায়ন করার পদ্ধতি লিখ
ভূমিকা
ট্রেডমার্ক হলো কোনো পণ্য বা সেবা সনাক্তকরণের
জন্য ব্যবহার করা স্বতন্ত্র চিহ্ন। একটি ট্রেডমার্ক আইনগত সুরক্ষা পেতে হলে সরকারী নিবন্ধন প্রয়োজন, যা মালিককে অননুমোদিত
ব্যবহার থেকে রক্ষা করে। ট্রেডমার্ক নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি নিয়মিত আবেদন (Application)
এবং নবায়ন (Renewal) ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
১. ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করার পদ্ধতি
ধাপ ১: প্রাথমিক প্রস্তুতি
·
নির্ধারণ
করা কোন চিহ্ন বা লোগো ট্রেডমার্ক
হিসেবে নিবন্ধন করা হবে।
·
নিশ্চিত
করা চিহ্নটি স্বতন্ত্র, অনন্য এবং আগে থেকে অন্যের ট্রেডমার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্বপূর্ণ নয়।
·
নির্ধারণ
করা ট্রেডমার্ক কোন পণ্য বা সেবা শ্রেণিতে ব্যবহার হবে (Nice Classification অনুযায়ী)।
ধাপ ২: আবেদনপত্র পূরণ
·
প্রয়োজনীয়
তথ্য:
1. আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা
2. ট্রেডমার্কের চিহ্ন বা লোগো
3. পণ্য বা সেবার বর্ণনা
4. ব্যবহার শুরু করার তারিখ (যদি ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হয়)
ধাপ ৩: ফি প্রদান
·
আবেদন
জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হয়।
ধাপ ৪: সরকারী যাচাই
(Examination)
·
ট্রেডমার্ক
অফিস চিহ্নটি পরীক্ষা করে:
o
অন্য
কোন ট্রেডমার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে কিনা
o
আইন
অনুযায়ী স্বীকৃতযোগ্য কিনা
ধাপ ৫: প্রকাশ (Publication)
·
পরীক্ষার
পর ট্রেডমার্ক সরকারি জার্নালে প্রকাশিত হয়, যাতে কেউ আপত্তি জানাতে পারে।
ধাপ ৬: আপত্তি নিষ্পত্তি
·
কোনো
তৃতীয় পক্ষ আপত্তি জানালে তা আদালত বা ট্রেডমার্ক অফিসের মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
ধাপ ৭: মঞ্জুরি (Registration)
·
কোনো
আপত্তি না থাকলে ট্রেডমার্ক
আইনত নিবন্ধিত হয় এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
২. ট্রেডমার্ক নবায়ন (Renewal) পদ্ধতি
ধাপ ১: মেয়াদ নির্ধারণ
·
সাধারণত
ট্রেডমার্কের নিবন্ধন ১০ বছর পর্যন্ত বৈধ হয়।
ধাপ ২: নবায়ন আবেদন
জমা
·
মেয়াদ
শেষ হওয়ার আগে মালিককে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
ধাপ ৩: নবায়ন ফি
প্রদান
·
নির্ধারিত
নবায়ন ফি পরিশোধ করতে হয়।
ধাপ ৪: নবায়ন অনুমোদন
·
সরকারি
অফিস আবেদন যাচাই করে এবং বৈধ হলে নতুন ১০ বছরের জন্য ট্রেডমার্ক নবায়ন করে।
উপসংহার
ট্রেডমার্ক নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া
নিশ্চিত করে যে—
·
মালিকের
স্বতন্ত্র চিহ্ন আইনগতভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
·
অন্যরা
অননুমোদিত ব্যবহার করতে পারবে না।
·
ট্রেডমার্কের
বৈধতা নিয়মিত নবায়ন করে মালিক দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক সুবিধা পায়।
(গ) ট্রেডমার্ক ও ট্রেড নামের
মধ্যে পার্থক্য
ভূমিকা
বাজারে কোনো ব্যবসা বা পণ্য সনাক্ত
করার জন্য ট্রেডমার্ক (Trademark)
এবং ট্রেড নাম (Trade Name) দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যদিও দুটোর উদ্দেশ্যই পরিচয় প্রদানের, তবুও এদের কার্যকারিতা, আইনি সুরক্ষা ও ব্যবহার ক্ষেত্রে
পার্থক্য রয়েছে। ব্যবসায়িক এবং আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই পার্থক্য জানা
গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বাজারে প্রতিযোগিতা ও কপিরাইট/আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
ট্রেডমার্ক ও ট্রেড নামের
মধ্যে পার্থক্য
|
ক্র.সং. |
বিষয় |
ট্রেডমার্ক (Trademark) |
ট্রেড নাম (Trade Name) |
|
১ |
সংজ্ঞা |
কোনো
পণ্য বা সেবার স্বতন্ত্রতা চিহ্ন, লোগো, শব্দ বা ডিজাইন যা গ্রাহককে উৎস শনাক্ত করতে সাহায্য করে |
কোনো
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের আইনগত নাম যা ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহার হয় |
|
২ |
উদ্দেশ্য |
পণ্য
বা সেবা অন্যদের থেকে আলাদা করা |
ব্যবসা
বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রদর্শন করা |
|
৩ |
আইনগত সুরক্ষা |
নিবন্ধিত
ট্রেডমার্ক আইনি সুরক্ষা পায় |
ট্রেড
নামও আইনিভাবে সুরক্ষিত হতে পারে, তবে পণ্য বা সেবা চিহ্নের মতো শক্তিশালী নয় |
|
৪ |
প্রয়োগ ক্ষেত্র |
পণ্য,
সেবা, লোগো, প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন |
কোম্পানি
বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নাম, চিঠিপত্র, চালান, চুক্তি ইত্যাদিতে |
|
৫ |
নিবন্ধন প্রক্রিয়া |
ট্রেডমার্ক
অফিসে আবেদন ও নিবন্ধন প্রয়োজন |
কোম্পানি/ব্যবসা নিবন্ধন অফিসে আবেদন ও নিবন্ধন প্রয়োজন |
|
৬ |
ব্যবহার উদাহরণ |
Nike swoosh, Coca-Cola নাম
ও লোগো |
“Samsung Electronics Ltd.”, “Grameen Bank” |
|
৭ |
সুরক্ষার সময়কাল |
সাধারণত
১০ বছর, নবায়নযোগ্য |
ব্যবসার
আইনি অস্তিত্ব পর্যন্ত, প্রয়োজনে নাম পরিবর্তন বা নবায়নযোগ্য |
অথবা
একটি ভাল ট্রেডমার্কের বৈশিষ্ট্যগুলো কি? ২০০৮ সালের ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের পদ্ধতি আলোচনা কর। কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা যায় না? 'যদি স্বতন্ত্র
ধর্মীয় না হয়ে থাকে,
তাহলে কোন ট্রেডমার্কের নিবন্ধন করা যায় না' ব্যাখ্যা কর।
একটি ভাল ট্রেডমার্কের বৈশিষ্ট্যগুলো কি?
ভূমিকা
বাজারে প্রতিযোগিতা দিনে দিনে বাড়ছে। কোনো ব্যবসা বা পণ্য গ্রাহকের
মনে অমর ছাপ ফেলার জন্য স্বতন্ত্র চিহ্ন বা ট্রেডমার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভাল ট্রেডমার্ক কেবল ব্যবসার চিহ্ন নয়, এটি ব্র্যান্ডের পরিচয়, সুনাম ও আইনি সুরক্ষার
প্রতীক। ভালো ট্রেডমার্ক থাকলে পণ্য বা সেবা সহজেই
চিহ্নিত হয়, অনন্যতা বজায় থাকে এবং অন্যের অননুমোদিত ব্যবহার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
ভালো ট্রেডমার্কের বৈশিষ্ট্য
1. স্বতন্ত্রতা
(Distinctiveness)
o
ট্রেডমার্কটি
অনন্য হওয়া উচিত, যেন গ্রাহক সহজেই তা অন্য পণ্য
থেকে আলাদা করতে পারে।
o
উদাহরণ:
Nike swoosh, McDonald’s গোল্ডেন
আর্চ
2. সহজভাবে মনে রাখা যায় (Memorability)
o
নাম
বা লোগো সহজে মনে রাখা যায় এবং উচ্চারণ করা সহজ।
o
উদাহরণ:
Coca-Cola, Apple
3. আইনগত সুরক্ষা যোগ্য (Legally
Protectable)
o
অন্য
কোনো ট্রেডমার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না করে আইনগতভাবে
নিবন্ধনযোগ্য হতে হবে।
4. বৈশ্বিক/বাজারে প্রযোজ্য
(Adaptability/Marketability)
o
ট্রেডমার্কটি
বিভিন্ন বাজার, ভাষা বা দেশে ব্যবহারযোগ্য
হতে হবে।
o
উদাহরণ:
“Google” শব্দটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত
5. দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার যোগ্য
(Durability/Timelessness)
o
ট্রেডমার্কটি
সময়ের সঙ্গে অপ্রচলিত না হয়ে দীর্ঘ
সময় ধরে ব্যবহারযোগ্য হওয়া উচিত।
6. ভিজ্যুয়াল ও শব্দগত প্রভাব (Visual &
Phonetic Appeal)
o
লোগো
বা নাম সুন্দর এবং আকর্ষণীয় হওয়া উচিত, যাতে গ্রাহকের মনে অল্প সময়ে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
7. পণ্য বা সেবার সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা (Relevance)
o
পণ্য
বা সেবার প্রকৃতি ও ব্র্যান্ডের চিত্রের
সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
২০০৮ সালের ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের পদ্ধতি আলোচনা কর
ভূমিকা
ট্রেডমার্ক হলো কোনো পণ্য বা সেবার স্বতন্ত্র
চিহ্ন, যা ব্যবসা ও
পণ্য সনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ সালের ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করার মাধ্যমে মালিককে আইনি সুরক্ষা, একচেটিয়া অধিকার এবং বাজারে স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত হয়।
ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের ধাপসমূহ
১. প্রাথমিক প্রস্তুতি
·
চিহ্ন
নির্বাচন:
স্বতন্ত্র ও অনন্য ট্রেডমার্ক
নির্বাচন করা।
·
পণ্য
বা সেবা শ্রেণি নির্ধারণ: NICE
Classification অনুযায়ী
কোন পণ্য বা সেবায় ব্যবহার
হবে তা নির্ধারণ করা।
·
পূর্ববর্তী
ট্রেডমার্ক
যাচাই:
অন্য কোনো ট্রেডমার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে কিনা তা পরীক্ষা করা।
২. দরখাস্ত জমা (Filing of
Application)
·
আবেদনপত্রে
অন্তর্ভুক্ত করতে হয়:
1. আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা
2. ট্রেডমার্ক চিহ্ন বা লোগো
3. ব্যবহার করা পণ্য বা সেবার বিবরণ
4. ব্যবহার শুরু করার তারিখ (যদি ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হয়)
·
নির্ধারিত
ফি
জমা দিতে হয়।
৩. প্রাথমিক পরীক্ষা (Examination)
·
ট্রেডমার্ক
অফিস আবেদনপত্র যাচাই করে:
o
চিহ্ন
স্বতন্ত্র ও আইনি যোগ্য
কিনা
o
অন্য
কোনো ট্রেডমার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে কি না
৪. প্রকাশ (Publication)
·
পরীক্ষার
পর ট্রেডমার্ক সরকারি জার্নালে প্রকাশিত হয়, যাতে কোনো তৃতীয় পক্ষ আপত্তি জানাতে পারে।
৫. আপত্তি নিষ্পত্তি (Opposition
Settlement)
·
যদি
কেউ আপত্তি জানায়, তা ট্রেডমার্ক অফিস বা আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
৬. মঞ্জুরি ও নিবন্ধন (Registration)
·
কোনো
আপত্তি না থাকলে, ট্রেডমার্ক
নিবন্ধিত হয়।
·
মালিককে
নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
·
মেয়াদ:
নিবন্ধন সাধারণত ১০ বছরের জন্য
বৈধ।
৭. নবায়ন (Renewal)
·
১০
বছরের মেয়াদ শেষে মালিক নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
·
নবায়ন
ফি জমা দেওয়ার পর ট্রেডমার্ক পরবর্তী ১০ বছরের জন্য বৈধ থাকে।
কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা যায় না?
ভূমিকা
ট্রেডমার্ক হলো কোনো পণ্য বা সেবার স্বতন্ত্র
চিহ্ন। তবে সব চিহ্নই ট্রেডমার্ক
হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য নয়। ২০০৮ সালের ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী কিছু চিহ্ন আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়, কারণ এগুলো গ্রাহককে বিভ্রান্ত করতে পারে, সামাজিক নীতি লঙ্ঘন করতে পারে বা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
ট্রেডমার্ক নিবন্ধনযোগ্য নয় এমন পরিস্থিতি
১. সাধারণ বা বর্ণনামূলক চিহ্ন
(Generic or Descriptive Marks)
·
পণ্যের
সাধারণ নাম বা বৈশিষ্ট্য যা
স্বতন্ত্র নয়।
·
উদাহরণ:
“Fresh Milk” – দুধের
জন্য
২. বিভ্রান্তিকর চিহ্ন (Deceptive Marks)
·
যা
গ্রাহককে পণ্যের উৎস, প্রাকৃতিকতা বা গুণমান নিয়ে বিভ্রান্ত করতে পারে।
·
উদাহরণ:
জলচিত্রে “Pure
Water” কিন্তু পানি মিশ্রিত হলে
৩. অশ্লীল বা অসভ্য চিহ্ন
(Immoral or Scandalous Marks)
·
সামাজিক
নীতি বা ধার্মিক অনুভূতিকে
অবমাননা করে।
৪. ইতিমধ্যেই নিবন্ধিত চিহ্নের অনুলিপি (Similar to
Existing Marks)
·
যে
চিহ্ন পুরোনো নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সঙ্গে খুব বেশি মিল রয়েছে, যা গ্রাহককে বিভ্রান্ত
করতে পারে।
৫. জাতীয় প্রতীক বা সরকারী চিহ্ন
(Official Symbols)
·
জাতীয়
পতাকা, রাষ্ট্রচিহ্ন, সরকারি প্রতীক বা কোনো আন্তর্জাতিক
সংস্থার চিহ্ন।
৬. ব্যক্তির নাম বা খ্যাতনামা চিহ্ন
(Famous Names)
·
যদি
অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তির নাম, ছবি বা খ্যাতনামা চিহ্ন
ব্যবহার করা হয়।
৭. সাধারণ ডিজাইন বা আকৃতি (Common Shapes/Patterns)
·
যা
স্বতন্ত্র নয় বা অন্যান্য পণ্যের
জন্য প্রচলিত।
'যদি স্বতন্ত্র ধর্মীয় না হয়ে থাকে, তাহলে কোন ট্রেডমার্কের নিবন্ধন করা যায় না' ব্যাখ্যা কর।
ভূমিকা
বর্তমান বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ্য বা সেবা যাতে
সহজে চিহ্নিত করা যায় এবং ব্যবসার স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে, এজন্য ট্রেডমার্ক আইন প্রবর্তিত হয়েছে। ট্রেডমার্কের প্রধান উদ্দেশ্য হলো পণ্যের উৎস (source) সনাক্ত করা।
যাইহোক, সব চিহ্নই নিবন্ধনযোগ্য
নয়। আইনের শর্ত অনুযায়ী একটি ট্রেডমার্ককে স্বতন্ত্র (distinctive) হতে হবে। স্বতন্ত্র না হলে গ্রাহক
পণ্য বা সেবার উৎস
শনাক্ত করতে পারবে না, এবং চিহ্নটি আইনি সুরক্ষা পাবে না।
স্বতন্ত্রতা
(Distinctiveness) কী?
·
স্বতন্ত্রতা
হলো ট্রেডমার্কের সেই বৈশিষ্ট্য যা অন্য চিহ্ন
থেকে আলাদা করে এবং পণ্য বা সেবার উৎসকে
নির্ধারণে সক্ষম করে।
·
অর্থাৎ
গ্রাহক চিহ্ন দেখেই পণ্যের উৎস বুঝতে পারে।
স্বতন্ত্র
ট্রেডমার্কের
ধরন:
1. অসাধারণ বা কল্পিত শব্দ (Fanciful/Arbitrary
marks): যেমন,
“Kodak”, “Nike”
2. মূল চিহ্নের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন সংযোগ (Suggestive marks):
যেমন, “Netflix”
স্বতন্ত্র না হলে কী
হয়?
যদি ট্রেডমার্ক স্বতন্ত্র না হয়, অর্থাৎ সাধারণ, বর্ণনামূলক বা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, তবে:
1. গ্রাহক বিভ্রান্ত হয়: তারা পণ্যের উৎস চিহ্নিত করতে পারবে না।
2. আইনি সুরক্ষা নেই: ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী এমন চিহ্ন নিবন্ধনযোগ্য নয়।
3. বাজারে স্বাতন্ত্র্য হারায়: প্রতিযোগী সহজেই একই চিহ্ন ব্যবহার করতে পারে।
আইনগত ব্যাখ্যা
২০০৮ সালের ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী:
·
নিবন্ধনযোগ্য
চিহ্ন স্বতন্ত্র, অনন্য এবং বিভ্রান্তিকর নয় হতে হবে।
·
স্বতন্ত্র
না হলে:
1. আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়
2. আইনগত অধিকার বা সুরক্ষা পাওয়া
যায় না
3. ব্যবসায়িক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা কঠিন হয়
উপসংহার:
ট্রেডমার্ক আইন অনুসারে, স্বতন্ত্রতা হলো নিবন্ধনের প্রধান শর্ত। স্বতন্ত্র না হলে ট্রেডমার্ক আইনগত সুরক্ষা পায় না।
No comments