(ক) বৈরী সাক্ষী বলতে কী বুঝ? (খ) কোনো পক্ষ কি তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে? এক্ষেত্রে কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়? বৈরী সাক্ষীর সাক্ষ্যের মূল্যায়ন কর। (গ) দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় সাধারণত একই সাক্ষ্য হয়- এই নীতির কোন ব্যতিক্রম আছে কী?
৯। (ক) বৈরী সাক্ষী বলতে কী বুঝ?
(খ) কোনো পক্ষ কি তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে? এক্ষেত্রে কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়? বৈরী সাক্ষীর সাক্ষ্যের মূল্যায়ন কর।
(গ) দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় সাধারণত একই সাক্ষ্য হয়- এই নীতির কোন ব্যতিক্রম আছে কী?
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) – সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা
সংজ্ঞা:
বৈরী সাক্ষী বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি আদালতে শপথ
নিয়ে
সাক্ষ্য
দেওয়ার
জন্য
উপস্থিত,
কিন্তু মামলা বা অভিযোগকারীর পক্ষে
সাক্ষ্য
দিতে
অনিচ্ছুক
বা
প্রতিকূল
বক্তব্য
প্রদান
করে।অর্থাৎ, বৈরী সাক্ষী পক্ষের
স্বার্থে
সাহায্য
না
করে,
বরং তার বক্তব্য অপক্ষের
স্বার্থে
সহায়ক
বা মামলার
পক্ষে
ক্ষতিকর
হয়। আইন অনুযায়ী, আদালত এই সাক্ষীকে “Hostile Witness”
হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে, যাতে তাকে cross-examination
করা যায়।
বিস্তারিত
বৈশিষ্ট্য
1. স্বেচ্ছায়
বিরোধিতা
করে:আদালতে আসার পরও সাক্ষী মামলার পক্ষে সত্য বলতে না চায়।
2. পক্ষের
প্রমাণকে
দুর্বল
করে:তার বক্তব্য বা অস্বীকৃতি মামলা
প্রমাণে বাধা সৃষ্টি করে।
3. আইন
দ্বারা
স্বীকৃত:আদালত বৈরী সাক্ষীকে চিহ্নিত করে এবং তাকে পক্ষের cross-examination
করার সুযোগ দেয়।
4. প্রয়োগের
কারণ:যদি সাক্ষী শপথ নিয়ে আসেও তথ্য গোপন বা বিকৃত করে।স্বার্থ,
ভীতি বা পূর্বগৃহীত রায়ের
কারণে মামলার পক্ষে না বলে।
কোনো পক্ষ কি তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে?
কোনো পক্ষ কি তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে?
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনো
পক্ষ
তার
নিজের
সাক্ষীকে
সরাসরি
জেরা
(cross-examine) করতে
পারে
না।কারণ নিজের পক্ষের সাক্ষী প্রাকৃতিকভাবে
সমর্থক,
তাই তাকে নিজের পক্ষ প্রশ্ন
করে
প্রভাবিত
করার
সুযোগ
নেই।নিজের পক্ষের সাক্ষীকে প্রশ্ন করা হয় প্রধান
জেরা
(Examination-in-Chief)-এর
মাধ্যমে।
এক্ষেত্রে কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়
১..প্রধান জেরা (Examination-in-Chief)
নিজের পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে প্রশ্ন করে মামলা সমর্থন করার জন্য।এখানে শুধুমাত্র ঘটনা
বর্ণনা
বা
তথ্য
উপস্থাপন
করা হয়।
উদাহরণ:
অভিযুক্ত চুরি করেছে কি না দেখেছেন
কি‑না, প্রত্যক্ষদর্শীকে প্রশ্ন করা।
২. বিপরীত পক্ষের জেরা (Cross-Examination)
বিপরীত পক্ষ আদালতের অনুমতিতে সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তথ্য
যাচাই
বা
প্রমাণ
দুর্বল
করার
জন্য।নিজের পক্ষের সাক্ষীকে cross-examine করতে সাধারণত অনুমতি নেই।
৩. ব্যতিক্রম – বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness)
যদি নিজের পক্ষের সাক্ষী বৈরী
হয়ে
যায়
বা পক্ষের
স্বার্থে
সাহায্য
না
করে,
আদালত তাকে বৈরী ঘোষণা করতে পারে। তখন পক্ষকে
অনুমতি
দেওয়া
হয়
যে
তারা
সাক্ষীকে
cross-examine করতে
পারে।
পদ্ধতি:
1. আদালতে পক্ষ আবেদন করে, “এই সাক্ষী আমাদের
পক্ষে সহযোগী নয়, বৈরী।”
2. আদালত স্বীকৃতি দিলে পক্ষ সাক্ষীকে cross-examine
করতে পারে।
3. cross-examination
শেষে, প্রয়োজনে re-examination
করে ব্যাখ্যা আনা যায়।
৪.পদ্ধতি (Step-by-Step)
ধাপ
১:
প্রধান
জেরা
(Examination-in-Chief)
নিজের পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে প্রশ্ন করে।
উদ্দেশ্য: তথ্য উপস্থাপন করা এবং মামলার পক্ষ সমর্থন করা।
ধাপ
২:
বিপরীত
পক্ষের
জেরা
(Cross-Examination)
বিপরীত পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে সাক্ষীকে প্রশ্ন করে।উদ্দেশ্য: তথ্য যাচাই, বিপরীত বক্তব্য তৈরি করা।
ধাপ
৩:
পুনরায়
জেরা
(Re-Examination)
মূল পক্ষকে সুযোগ দেওয়া হয় cross-examination-এর পরে স্পষ্টতা
বা ব্যাখ্যা আনতে।
ধাপ
৪:
বৈরী
সাক্ষীর
ক্ষেত্রে:
আদালতের
অনুমতি পেলে নিজের পক্ষ cross-examine করতে পারে।otherwise,
সাধারণ নিয়মে নিজের সাক্ষীকে নিজের পক্ষ জেরা করতে পারবেন না।
বৈরী সাক্ষীর সাক্ষ্যের মূল্যায়ন কর।
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) – সাক্ষ্যের মূল্যায়ন
বৈরী
সাক্ষী
বলতে সেই সাক্ষীকে বোঝায়, যিনি আদালতে স্বপক্ষে ডাকা হলেও পক্ষের
পক্ষে
সাহায্য
না
করে
বিরোধী
বা
প্রতিকূল
বক্তব্য
দেন।সাক্ষ্যের মূল্যায়ন হলো সেই প্রক্রিয়া যেখানে আদালত বিচার করে ,সাক্ষীর বক্তব্য নির্ভরযোগ্য
কিনা,
প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য কিনা, মামলার সিদ্ধান্তে কি ভূমিকা রাখতে
পারে।
বৈরী সাক্ষীর মূল্যায়নের মূল নীতি
1. সাক্ষীর
প্রতিকূলতা
স্বীকার
করা:আদালত স্বীকার করে যে সাক্ষী পক্ষের
পক্ষে
সহযোগী
নয়।স্বাভাবিকভাবে তার বক্তব্য পক্ষের
প্রমাণ
দুর্বল
করতে
পারে।
2. cross-examination
এর
প্রভাব:বৈরী সাক্ষীর ক্ষেত্রে পক্ষ আদালতের অনুমতিতে cross-examine
করতে পারে।cross-examination দ্বারা তার পূর্ববর্তী
বিবৃতি
বা
তথ্যের
অসঙ্গতি
বের
করা
যায়।
3. মূল
বক্তব্যের
যাচাই:আদালত প্রত্যক্ষ
প্রমাণ,
দলিল
বা
অন্যান্য
সাক্ষ্যের
সঙ্গে
মিলিয়ে
বৈরী সাক্ষীর বক্তব্য যাচাই করে।যদি বৈরী সাক্ষী কোনও বিষয় নিশ্চিতভাবে বা প্রমাণভিত্তিকভাবে বলে, তা
গ্রহণযোগ্য।
4. সতর্কতার
নীতি
(Principle of Caution):আদালত
বৈরী সাক্ষীর বক্তব্য প্রভাবিত
বা
পক্ষপাতপূর্ণ
হতে
পারে
এ দিকটি বিবেচনা করে।অতএব, কেবল একমাত্র বৈরী সাক্ষীর বক্তব্যের ওপর রায় নির্ভর করানো যায় না।
প্রয়োগের ধাপসমূহ
|
ধাপ |
কার্যক্রম |
|
ধাপ ১ |
সাক্ষীকে
বৈরী ঘোষণা করে cross-examination অনুমতি দেওয়া। |
|
ধাপ ২ |
cross-examination-এর
মাধ্যমে অসঙ্গতি, গোপন তথ্য বা ভুল প্রমাণ উদঘাটন। |
|
ধাপ ৩ |
অন্য
সাক্ষী, দলিল বা প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে তার বক্তব্য যাচাই। |
|
ধাপ ৪ |
সতর্কতার
সঙ্গে তার বক্তব্যকে রায়ে অন্তর্ভুক্ত করা। |
উদাহরণ
চুরির মামলায় অভিযুক্তের পক্ষের সাক্ষী আদালতে বলে:
“আমি কিছু দেখিনি।”আদালত তাকে বৈরী
সাক্ষী
ঘোষণা করে।cross-examination-এ তার পূর্ববর্তী
বিবৃতিকে সামনে আনা হয়: “আপনি পূর্বে বলেছিলেন চুরি দেখেছেন।”আদালত এই অসঙ্গতি বিচার
করে: কোন অংশ গ্রহণযোগ্য, কোন অংশ প্রভাবহীন।একমাত্র এই বৈরী সাক্ষীর
বক্তব্যের ওপর রায় নির্ভর করা যায় না; অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মূল নির্দেশনা
1. একজন
বৈরী
সাক্ষীর
বক্তব্যের
ওপর
সরাসরি
রায়
না
দেওয়া।Cross-examination
এবং
অন্যান্য
প্রমাণের
সঙ্গে
মিলিয়ে
বিবেচনা
করা।সতর্কতার
সঙ্গে
গ্রহণযোগ্য
অংশকে
প্রমাণ
হিসেবে
ব্যবহার
করা।
প্রত্যক্ষ
ও
পরোক্ষ
প্রমাণ
দ্বারা
corroboration খোঁজা।
(গ)
দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায়
সাধারণত একই সাক্ষ্য হয়- এই নীতির কোন
ব্যতিক্রম আছে কী?
সাধারণভাবে, দেওয়ানি
(Civil) এবং
ফৌজদারি
(Criminal) মামলায়
একই
সাক্ষী
ব্যবহার
করা
যেতে
পারে,
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোনো
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা জ্ঞানসম্পন্ন, সে
উভয় মামলায় সাক্ষী হতে পারে।
উদাহরণ: চুরির ঘটনা – দোষীকে শাস্তি দেওয়ার ফৌজদারি মামলা এবং ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাওয়ার দেওয়ানি মামলা – উভয়েই একই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দিতে পারে।
তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে:
১.স্বার্থপোষণ
বা
পক্ষপাতিত্বের
কারণে
যদি সাক্ষী একপক্ষের
প্রতি
অত্যন্ত
পক্ষপাতদুষ্ট
বা
স্বার্থপোষক,
আদালত তাকে বিশেষ
সতর্কতার
সঙ্গে
গ্রহণ
করতে
পারে।কিছু ক্ষেত্রে, পক্ষপাতপূর্ণ সাক্ষীর বক্তব্য ফৌজদারি মামলায় গ্রহণযোগ্য হলেও দেওয়ানি মামলায় সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে।
২.
বৈরী
সাক্ষী
/ Hostile Witness
যদি একই ব্যক্তি এক
মামলায়
বৈরী
সাক্ষী
হয়, সে অন্য
মামলায়
স্বাভাবিকভাবে
পক্ষের
সমর্থক
না-ও
হতে
পারে।আদালত পৃথকভাবে যাচাই করে সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করে।
৩.
বিশেষ
প্রমাণ
বা
আইনি
বিধান
(Exclusion by Law)
ফৌজদারি
মামলা:
কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ যেমন সাংবাদিক
নথি,
সরকারি
গোপন
দলিল
বা
বিশেষ
আইন
দ্বারা
সংরক্ষিত
তথ্য
শুধুমাত্র ফৌজদারি ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।দেওয়ানি
মামলা:
সেই সাক্ষ্য বা দলিল গ্রহণযোগ্য
নাও হতে পারে।
৪.পূর্ববর্তী
রায়
বা
সাব-judice
মামলার
প্রভাব
কোনো ঘটনা এক
মামলায়
বিচারাধীন
বা
রায়প্রাপ্ত
হলে, তার সাক্ষ্য অন্য মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে
গ্রহণযোগ্য
নয়।আদালত নিজস্ব যাচাই করে নেয়।
No comments