Header Ads

Header ADS

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতের পার্থক্য দেখাও। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠামো বর্ণনা কর এবং এই আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আলোচনা কর। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বলতে কী বুঝ? আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ন্যায্য বিচার এর বিধানগুলো কী কী? আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠামো ও এখতিয়ার বর্ণনা কর।।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতের পার্থক্য দেখাও। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠামো বর্ণনা কর এবং এই আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আলোচনা কর। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বলতে কী বুঝ? আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ন্যায্য বিচার এর বিধানগুলো কী কী? আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠামো এখতিয়ার বর্ণনা কর।।

 

. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আন্তর্জাতিক আদালতের মধ্যে পার্থক্য

বিষয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)

আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ)

প্রতিষ্ঠা

২০০২ সালে রোম চুক্তি অনুযায়ী

১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সংস্থা অনুযায়ী

ধরণ

স্থায়ী বিচারিক সংস্থা

রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সংস্থা মধ্যে বিবাদ নিষ্পত্তি

মূল উদ্দেশ্য

ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ (যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা) বিচার

রাষ্ট্রের মধ্যে আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি, উপদেশমূলক মতামত প্রদান

বিচারাধীন

ব্যক্তির উপর

রাষ্ট্রের উপর

শাস্তি

কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড (জেলভাগ্য)

শাস্তির প্রথাগত ব্যবস্থা নেই, শুধু আইনি সিদ্ধান্ত প্রদান

 


 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠামো বর্ণনা কর

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) কাঠামো

ICC-এর কাঠামো মূলত চারটি প্রধান অঙ্গ দিয়ে গঠিত:

. বিচার বিভাগ (Judicial Divisions)

ICC-এর মূল কাজ হল বিচার করা, এবং এটি তিনটি স্তরে বিভক্ত:

  1. প্রাক-বিচার চেম্বার (Pre-Trial Chamber): অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।গ্রেপ্তার জামিনের আদেশ জারি করে। মামলার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে।
  2. প্রধান বিচার চেম্বার (Trial Chamber):পূর্ণাঙ্গ বিচার পরিচালনা করে।সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করে। রায় ঘোষণা করে।
  3. আপিল চেম্বার (Appeals Chamber) প্রাথমিক বা প্রধান রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনে। রায় সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

 

. প্রসিকিউশন অফিস (Office of the Prosecutor)

  • ICC-এর মামলা তদন্তের দায়িত্বভার।
  • কার্যক্রম:
    1. স্বতঃপ্ররোচিত বা রাষ্ট্রপক্ষ/সিকিউরিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে মামলা শুরু করা।
    2. অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করা।
    3. অভিযোগপত্র দাখিল করা।

 

. রেজিস্ট্রি (Registry)

  • প্রশাসনিক লজিস্টিক কাজের দায়িত্বে।
  • দায়িত্বসমূহ:
    1. আদালতের নথি রেকর্ড সংরক্ষণ।
    2. বন্দী সাক্ষী ব্যবস্থাপনা।
    3. বিচার কার্যক্রমে প্রশাসনিক সহায়তা।

 

. রাষ্ট্রপক্ষ অর্থায়ন (Assembly of States Parties & Trust Fund)

  • রাষ্ট্রপক্ষ: ICC-এর সদস্য রাষ্ট্রদের সমন্বয়।
  • বাজেট, নীতি নির্ধারণ এবং শাস্তি বাস্তবায়নে সাহায্য করে।
  • ট্রাস্ট ফান্ড: শাস্তি ক্ষতিপূরণ কার্যকর করার জন্য।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বলতে কী বুঝ?

 

. আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন (International Criminal Law)

সংজ্ঞা:
আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন হলো সেই আইন যা ব্যক্তি বা গ্রুপকে দায়ী করে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য, যা মানবতা, শান্তি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

মূল বৈশিষ্ট্য:

১. ব্যক্তি কেন্দ্রীক (রাষ্ট্র নয়)

২.গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৩. শাস্তির মধ্যে কারাদণ্ড, জরিমানা বা অন্যান্য বিচারিক ব্যবস্থা থাকতে পারে।

প্রধান অপরাধের ধরন:

  1. গণহত্যা (Genocide)নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বা জাতিগত গোষ্ঠীর ধ্বংস বা হত্যার উদ্দেশ্য।
  2. মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crimes Against Humanity)হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি গণপরিমাণে।
  3. যুদ্ধাপরাধ (War Crimes)যুদ্ধের সময় নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যা, ধ্বংস, বন্দী নির্যাতন।
  4. আগ্রাসন/অ্যাগ্রেশন (Crime of Aggression)অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেআইনি যুদ্ধ শুরু করা।

উদ্দেশ্য: আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা করা।অপরাধীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে অপরাধ প্রতিরোধ করা।

 

২আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court, ICC)

সংজ্ঞা:
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হলো একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন অনুযায়ী ব্যক্তিদের বিচার করে, বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের জন্য।

মূল বৈশিষ্ট্য:

স্থায়ী আদালত, ২০০২ সালে রোম চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। ব্যক্তির উপর এখতিয়ার (যথা: অপরাধের তদন্ত বিচার) রাষ্ট্র নয়, ব্যক্তিকে দায়ী করে

বিচার প্রক্রিয়া: তদন্তঅভিযোগপ্রধান বিচারআপিলসাজা কার্যকরী

কাজের ক্ষেত্র: গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত বিচার। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া। ন্যায্য বিচার মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ন্যায্য বিচার এর বিধানগুলো কী কী?

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ন্যায্য বিচার সংক্রান্ত বিধান

. পর্যাপ্ত নোটিশ (Adequate Notice of Charges)

অভিযুক্তকে পর্যাপ্ত তথ্য প্রদান করা হয় যে তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

    1. অভিযোগের ধরন (যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, আগ্রাসন)
    2. ঘটনার সময় স্থান।
    3. অভিযুক্তের সম্ভাব্য আইনি পরিণতি।

লক্ষ্য: অভিযুক্তকে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

 

. নিজেকে রক্ষা করার অধিকার (Right to Defense)

অভিযুক্ত নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।অন্তর্ভুক্ত:প্রমাণ উপস্থাপন সাক্ষী হাজির করা।নিজের পক্ষে যুক্তি প্রমাণ করা।অব্যাহতি বা দোষমুক্তি দাবি করা।এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন (UDHR, ICCPR) এবং ICC-এর ধারা 67 অনুযায়ী সুরক্ষিত।

 

. স্বাধীন নিরপেক্ষ বিচারক (Independent and Impartial Tribunal)

বিচারকরা রাজনৈতিক, সামাজিক বা আর্থিক চাপ থেকে মুক্ত।রায় প্রদানের সময় তারা কেবল আইন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।ICC-এর জন্য তিনটি বিচার বিভাগের ব্যবস্থা রয়েছে:

    • Pre-Trial Chamber (প্রাক-বিচার)
    • Trial Chamber (প্রধান বিচার)
    • Appeals Chamber (আপিল)

 

. সাক্ষ্য প্রমাণ যাচাইয়ের অধিকার (Right to Examine Evidence and Witnesses):অভিযুক্ত তার আইনজীবী প্রসিকিউটরের সব প্রমাণ এবং সাক্ষীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে।বিপক্ষের সাক্ষীর ক্রস-এগজামিনেশন করা সম্ভব।ICC-এর ধারা 69 অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়ায় প্রমাণ গ্রহণ পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

 

. সরাসরি পাবলিক ট্রায়াল (Expeditious and Public Trial)

বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।জনগণ বা গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিচারের স্বচ্ছতা।প্রয়োজন অনুযায়ী, সাধারণ জনগণ থেকে কিছু অংশে গোপন রাখা যায় (যেমন সংবেদনশীল সাক্ষী সংরক্ষণ)

 

. আপিলের অধিকার (Right to Appeal)

অভিযুক্ত প্রাথমিক বা প্রধান রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।

আপিলের ক্ষেত্রে: আইনগত ভুল সংশোধন করা হয়। শাস্তি হ্রাস বা বাতিল করা যেতে পারে ।এটি নিশ্চিত করে যে একবারের রায় চূড়ান্ত নয়।

 

. সমান অধিকার (Equality Before the Law):সকল অভিযুক্ত জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, রাজনৈতিক অবস্থান বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করে।বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো বৈষম্য বা পক্ষপাত থাকবে না।

 

. সাক্ষী অভিযুক্তের নিরাপত্তা (Protection of Witnesses and Defendants)

ICC নিরাপত্তা নিশ্চিত করে:সাক্ষীর পরিচয় গোপন রাখা। নির্যাতন, হুমকি বা ভয়াবহতা থেকে রক্ষা। বন্দী অভিযুক্তের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা।

 

. মানবিক ব্যবস্থাপনা (Humane Treatment):গ্রেপ্তার বা কারাদণ্ডের সময় অভিযুক্তের মানবিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।নির্যাতন, অমানবিক বা অসম্মানজনক শারীরিক আচরণ নিষিদ্ধ ICC-এর ধারা 85-89 অনুযায়ী বন্দী সাজাপ্রাপ্তদের হিউম্যানিটি নিশ্চিত করা হয়।

 

১০. প্রসিকিউটরের নিরপেক্ষতা (Impartial Prosecution): প্রসিকিউটরও রাজনৈতিক বা জাতিগত পক্ষপাত থেকে মুক্ত

লক্ষ্য: শুধুমাত্র প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ আনা।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠামো বর্নণা কর।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) কাঠামো

ICC-এর কাঠামো মূলত চারটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে বিভক্ত, যেগুলো একসাথে আদালতের বিচার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 

১বিচার বিভাগ (Judicial Divisions)

ICC-এর মূল কাজ হল বিচার পরিচালনা বিচার বিভাগ তিনটি স্তরে বিভক্ত:

  1. প্রাক-বিচার চেম্বার (Pre-Trial Chamber)
    • অভিযোগপত্র গ্রহণ যাচাই করে।
    • গ্রেপ্তার বা সাময়িক আটকাদেশ জারি করে।
    • মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং তদন্তের অনুমোদন দেয়।
  2. প্রধান বিচার চেম্বার (Trial Chamber)
    • পূর্ণাঙ্গ বিচার পরিচালনা করে।
    • সাক্ষ্য গ্রহণ, প্রমাণ পরীক্ষা, উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে রায় দেয়।
    • অভিযুক্ত দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।
  3. আপিল চেম্বার (Appeals Chamber)
    • প্রাথমিক বা প্রধান রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনে।
    • রায় সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

 

প্রসিকিউটরের অফিস (Office of the Prosecutor)

  • ICC-এর মামলা তদন্ত এবং মামলা চালানোর দায়িত্ব
  • কাজের ধরণ:
    1. স্বতঃপ্ররোচিত বা রাষ্ট্রপক্ষ/জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে মামলা শুরু করা।
    2. অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ।
    3. অভিযোগপত্র দাখিল।
  • প্রসিকিউটরও স্বতন্ত্র এবং বিচারে প্রভাবিত হতে পারে না।

 

রেজিস্ট্রি (Registry)

  • প্রশাসনিক লজিস্টিক দায়িত্বে থাকে।
  • কাজের ধরণ:
    1. আদালতের নথি রেকর্ড সংরক্ষণ।
    2. সাক্ষী এবং বন্দীর ব্যবস্থাপনা।
    3. বিচার কার্যক্রমের সহায়তা, যেমন বিচারক প্রসিকিউটরের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

 

৪রাষ্ট্রপক্ষ অর্থায়ন (Assembly of States Parties & Trust Fund)

  • ICC-এর সদস্য রাষ্ট্রদের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান
  • কাজের ধরণ:
    1. বাজেট অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
    2. নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ।
    3. শাস্তি বাস্তবায়নে ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে সহায়তা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার বর্ণনা কর।।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার

 

 

অঞ্চলভিত্তিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction)

ICC মাত্র সেই এলাকার ক্ষেত্রে বিচার করতে পারে, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।অর্থাৎ, যে রাষ্ট্র ICC-এর সদস্য বা যার আঞ্চলিক সীমায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।উদাহরণ: যদি কোনো যুদ্ধাপরাধ একটি ICC সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত হয়, ICC সেই অপরাধের বিচার করতে পারে।

 

২.ব্যক্তিগত এখতিয়ার (Personal Jurisdiction)

ICC রাষ্ট্র নয়, ব্যক্তিকে দায়ী করে।কোনো রাষ্ট্রকে শাস্তি দেয় না, বরং ব্যক্তি বা ব্যক্তি গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।অভিযুক্ত হতে পারে: রাষ্ট্রপ্রধান, সামরিক কর্মকর্তা, সরকারের কর্মকর্তা বা যেকোনো ব্যক্তি, যিনি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী।

 

সময়ভিত্তিক এখতিয়ার (Temporal Jurisdiction)

ICC শুধুমাত্র জুলাই ২০০২-এর পর সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে পারে, কারণ এটি রোম চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ।অর্থাৎ, তার আগে সংঘটিত অপরাধের জন্য ICC দায়ী নয়।


অপরাধভিত্তিক এখতিয়ার (Subject-Matter Jurisdiction)

  • ICC শুধুমাত্র নিম্নলিখিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য এখতিয়ার রাখে:
    1. গণহত্যা (Genocide)
    2. মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crimes Against Humanity)
    3. যুদ্ধাপরাধ (War Crimes)
    4. আগ্রাসন/অ্যাগ্রেশন (Crime of Aggression)

 

স্বতঃপ্ররোচিত বা অনুমোদিত বিচার (Complementarity)ICC হল “complementary” আদালত, অর্থাৎ:যদি কোনো রাষ্ট্র স্বতন্ত্রভাবে অপরাধীর বিচার করতে সক্ষম না হয় বা রাজনীতিকভাবে বিচার না করে, তখন ICC হস্তক্ষেপ করে।স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা যদি কার্যকর হয়, ICC এর এখতিয়ার প্রযোজ্য হয় না।

যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবন্দীদের তত্ত্বাবধান সম্পর্কে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে কী বিধান রয়েছে তা আলোচনা কর।

যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা

প্রধান কনভেনশন:

৪র্থ জেনেভা কনভেনশন (Fourth Geneva Convention, 1949) – “সশস্ত্র সংঘাতে -লড়াকু বা বেসামরিক ব্যক্তিদের সুরক্ষা

মূল বিধানসমূহ:

  1. বেসামরিকদের সুরক্ষা (Protection of Civilians)বেসামরিকরা যুদ্ধের লক্ষ্য হতে পারবে না।তারা হত্যা, নির্যাতন, বা অমানবিক আচরণের শিকার হতে পারবে না।যেকোনো হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়িত্বশীলদের বিচারযোগ্যতা নিশ্চিত।
  2. মানবিক আচরণ (Humane Treatment)বেসামরিকদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অমানবিক শারীরিক আচরণ, যৌন নির্যাতন নিষিদ্ধ।খাদ্য, পানি, চিকিৎসা আশ্রয়ের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত।
  3. আক্রমণ ধ্বংস সীমিতকরণ (Limitation on Attacks)সরাসরি বেসামরিক বসতি, হাসপাতাল, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করা যাবে না।সশস্ত্র বাহিনী কেবল সামরিক লক্ষ্য হিট করতে পারবে।
  4. জোরপূর্বক স্থানান্তর দমন (Prohibition of Forced Displacementবেসামরিকদের বাড়ি থেকে জোর করে স্থানান্তর বা নির্যাতন করা যাবে না, শুধুমাত্র সুরক্ষা বা নিরাপত্তা প্রয়োজন হলে Ausnahme

 

যুদ্ধবন্দীদের (Prisoners of War, POWs) সুরক্ষা

প্রধান কনভেনশন:

  • ১ম জেনেভা কনভেনশন (1949) – যুদ্ধবন্দীদের জন্য বিশেষ বিধান, মূলত ৩য় জেনেভা কনভেনশন (Third Geneva Convention, 1949)

মূল বিধানসমূহ:

  1. মানবিক আচরণ (Humane Treatment)

যুদ্ধবন্দীদের হত্যা, নির্যাতন, অপমান, হুমকি করা নিষিদ্ধ।প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।

  1. খাদ্য চিকিৎসা (Provision of Food, Water, Medical Care)

পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি, চিকিৎসা এবং আবাসন প্রদান বাধ্যতামূলক।গুরুতর অসুস্থ বা আহত বন্দীদের চিকিৎসা করা হবে।

  1. আইনগত অধিকার (Judicial Rights)

যুদ্ধবন্দীকে ন্যায়সঙ্গত বিচার অভিযোগের প্রতিকার দেওয়া হবে।তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আইন অনুযায়ী এবং প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।

  1. কাজের সীমাবদ্ধতা (Labor Limitations)

যুদ্ধবন্দীদের অত্যন্ত কঠোর বা বিপজ্জনক শ্রমে ব্যবহার করা যাবে না।সামরিক বা সরকারি কাজে কাজ দেওয়া যেতে পারে, তবে শারীরিক মানবিক সুরক্ষা বজায় রাখতে হবে।

  1. যোগাযোগ খবরাখবর (Correspondence and Communication)বন্দীকে পরিবার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার অধিকার থাকবে।উদাহরণ: ICRC (International Committee of the Red Cross)-এর মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ।

 

 

মূল লক্ষ্য

মানবিকতা নিশ্চিত করাযুদ্ধের সময়ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা।বেসামরিক যুদ্ধবন্দীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচারযোগ্যতা নির্ধারণ করা।


 

No comments

Powered by Blogger.