কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন এর কোম্পানি অংশের টিকা সমূহ । এল এল বি ফাইনাল পরীক্ষা-২০২৩। পার্ট-২
কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন এর
কোম্পানি অংশের টিকা সমূহ । এল এল বি ফাইনাল
পরীক্ষা-২০২৩। পার্ট-২
১১.শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ
সংজ্ঞা
শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ হলো কোম্পানি কর্তৃক শেয়ারহোল্ডারের অংশীদারিত্ব বাতিল করা, সাধারণত তখন যখন শেয়ারহোল্ডার তার শেয়ারের কল মানি (Call Money) বা অন্যান্য
অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়।
আইন:Companies Act, 2013 – ধারা 53, 67 অনুযায়ী
শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা যায়।Companies Act, 1994 – ধারা 59 অনুযায়ী
শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ বৈধ।
বৈশিষ্ট্য
1. শেয়ারহোল্ডারের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রয়োগ
2. কোম্পানি শেয়ার পুনঃরায় বিক্রি বা কোম্পানিতে রাখার
অধিকার রাখে
3. শেয়ারের মালিকানা কোম্পানিতে ফিরে আসে
4. সাধারণত মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলে উল্লেখিত
শর্ত অনুযায়ী প্রয়োগ
গুরুত্ব:কোম্পানির
মূলধন রক্ষা করে।শেয়ারহোল্ডারদের দায় নিশ্চিত করে।আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
১২.স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ণ
সংজ্ঞা
স্বেচ্ছাকৃত
অবসায়ণ
হলো কোম্পানি নিজস্ব ইচ্ছায় তার কার্যক্রম বন্ধ করে, সম্পত্তি বিক্রি ও দেনা পরিশোধের
পর অবশিষ্ট অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের বিতরণ করে কোম্পানি বন্ধ করা।
আইন: Companies Act, 2013 – ধারা 304–322 অনুযায়ী
স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ণ।Companies Act, 1994 – ধারা 229–238 অনুযায়ী
বৈধ।
প্রকারভেদ
1. শেয়ারহোল্ডার উদ্যোগে :কোম্পানি solvent (ঋণমুক্ত) হলে
2. কর্তৃপক্ষ উদ্যোগে:কোম্পানি solvent নয়, শেয়ারহোল্ডাররা creditors’
consent নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেন
কার্যবলি
১.বোর্ড সভায় অবসায়ণের প্রস্তাব অনুমোদন
২.শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সভায়
অনুমোদন
৩.লিকুইডেটর নিয়োগ
৪.কোম্পানির সম্পত্তি
বিক্রি ও দেনা পরিশোধ
৫.অবশিষ্ট অর্থ
শেয়ারহোল্ডারদের বিতরণ
গুরুত্ব:
কোম্পানির কার্যক্রম
নিয়মিতভাবে শেষ করা নিশ্চিত করে।শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের স্বার্থ
সংরক্ষণ করে।আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি
হ্রাস করে।
১৩.বিশেষ সিদ্ধান্ত (Special
Resolution)
সংজ্ঞা
বিশেষ সিদ্ধান্ত হলো কোম্পানির সাধারণ সভায় এমন একটি সিদ্ধান্ত যা গৃহীত হয়
শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি ভোট (সাধারণত ৭৫%) অনুমোদন প্রাপ্ত হলে এবং যা কোম্পানির মেমোরেন্ডাম
বা আইন দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয়।
আইন:
Companies Act, 2013 – ধারা 114–118 অনুযায়ী।Companies Act, 1994 – ধারা 101–105
অনুযায়ী বৈধ।
উদাহরণ
১.কোম্পানির মেমোরেন্ডাম বা আর্টিকেল পরিবর্তন
২.কোম্পানির নাম পরিবর্তন
৩.মূলধন বৃদ্ধি বা হ্রাস
৪.লিকুইডেশন বা অবসায়ণ সম্পর্কিত
সিদ্ধান্ত
বৈশিষ্ট্য
1. সাধারণ সিদ্ধান্তের তুলনায় উচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন
2. কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োগ
3. রেজিস্ট্রার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
কাছে নথিভুক্ত করতে হতে পারে
গুরুত্ব:
কোম্পানির বড়
ধরনের নীতিমালা ও কাঠামো পরিবর্তনে
শেয়ারহোল্ডারের অনুমোদন নিশ্চিত করে।আইনি স্বীকৃতি প্রদান করে।কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায়
রাখে।
১৪.নিবন্ধন পত্র
সংজ্ঞা
নিবন্ধন পত্র (Memorandum of
Association, MOA) হলো
কোম্পানির মূল সংবিধান, যা কোম্পানির উদ্দেশ্য,
ক্ষমতা, শেয়ারহোল্ডারের সীমা এবং অন্যান্য মূল তথ্য নির্ধারণ করে। এটি কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোম্পানি গঠনের সময় রেজিস্ট্রারে জমা দিতে হয়।
আইন:
Companies Act, 2013 – ধারা 2(56), 4 অনুযায়ী।Companies Act, 1994 – ধারা 5 অনুযায়ী।
উপাদান
১.নাম ক্লজ (Name Clause)
– কোম্পানির নাম
২.Registered
Office Clause – অফিসের
ঠিকানা
৩.Object
Clause – কোম্পানির
উদ্দেশ্য
৩.Liability
Clause – শেয়ারহোল্ডারের
দায় সীমা
৪.Capital
Clause – অনুমোদিত
মূলধন ও শেয়ারের সংখ্যা
৫.Association
Clause – প্রথম
শেয়ারহোল্ডারের স্বাক্ষর ও সম্মতি
বৈশিষ্ট্য
১.কোম্পানির সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নির্ধারণ করে
২.শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের জন্য
নিরাপত্তা প্রদান করে
৩.আইনগতভাবে কোম্পানির প্রতিষ্ঠার ভিত্তি
গুরুত্ব:
কোম্পানির বৈধতা
ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করে।কোম্পানির ক্ষমতা ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ
করে।শেয়ারহোল্ডার ও বাইরের পক্ষের
জন্য নির্দেশক হিসাবে কাজ করে।
১৫.পরিচালনা পর্ষদ
সংজ্ঞা
পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors)
হলো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের নির্বাচিত একটি গোষ্ঠী, যারা কোম্পানির নীতি, পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দায়িত্বশীল। তারা কোম্পানির কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে।
আইন
: Companies Act, 2013 – ধারা 2(10), 152 অনুযায়ী।Companies Act, 1994 – ধারা 103 অনুযায়ী
বৈধ।
ক্ষমতা ও দায়িত্ব
১.কোম্পানির নীতি ও কৌশল নির্ধারণ
২.ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি (Managing
Director) নিয়োগ ও তদারকি
৩. আর্থিক বিবরণী অনুমোদন
৪.লভ্যাংশ ঘোষণা
৫.আইন ও নিয়মকানুন অনুসরণ
নিশ্চিত করা
বৈশিষ্ট্য
১.শেয়ারহোল্ডারের
প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে
২.আইনি ও আর্থিক দায়িত্ব
বহন করে
৩.সংখ্যাগত সীমা নির্ধারিত, সাধারণত ন্যূনতম ৩–৭ জন
গুরুত্ব: কোম্পানির
কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান।শেয়ারহোল্ডার
ও কোম্পানির মধ্যে সেতুবন্ধন।কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত।
কোম্পানির অবসায়ন
সংজ্ঞা
১৬.কোম্পানির
অবসায়ন
হলো কোম্পানির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে বন্ধ করার প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করা হয়, দেনা পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
আইন:Companies Act, 2013 – ধারা 270–365
অনুযায়ী।Companies Act, 1994 – ধারা 229–243
অনুযায়ী বৈধ।
প্রকারভেদ
1. স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ন
o
শেয়ারহোল্ডারদের
উদ্যোগে প্রক্রিয়া শুরু
o
আরও
দুই ধরণ: Members’ Voluntary
(solvent) এবং
Creditors’ Voluntary (insolvent)
2. বাধ্যতামূলক অবসায়ন
o
আদালতের
আদেশে কোম্পানি বন্ধ
o
সাধারণত
কোম্পানি solvent নয়, বা আইন লঙ্ঘন
করেছে
কার্যবলি
১.লিকুইডেটর নিয়োগ
২.কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি
৩.দেনা ও ঋণ পরিশোধ
৪.অবশিষ্ট অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের বিতরণ
৫.কোম্পানিকে রেজিস্ট্রার কর্তৃক বন্ধ ঘোষণার জন্য নথিভুক্ত করা
গুরুত্ব:কোম্পানির
কার্যক্রম আইনগতভাবে শেষ করে।শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের স্বার্থ
সংরক্ষণ করে। আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি
হ্রাস করে।
১৭.অতিরিক্ত সাধারণ সিদ্ধান্ত
অতিরিক্ত সাধারণ সিদ্ধান্ত (EGM) হলো শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সভার বাইরে আহ্বান করা বিশেষ সভা, যেখানে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়
আলোচনা ও অনুমোদন করা
হয়।
আইন:Companies Act, 2013 – ধারা 100–110
অনুযায়ী।Companies Act, 1994 – ধারা 109–115
অনুযায়ী বৈধ।
উদাহরণ
১.অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি
২.কোম্পানির মেমোরেন্ডাম বা আর্টিকেল পরিবর্তন
৩.লিকুইডেশন বা অবসায়ণ সম্পর্কিত
জরুরি সিদ্ধান্ত
৪.পরিচালক বা নিরীক্ষকের পদ
বাতিল বা নিয়োগ
বৈশিষ্ট্য
১.জরুরি বা বিশেষ উদ্দেশ্যে
আহ্বান করা হয়
২.সাধারণ সভার তুলনায় স্বল্প সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে
৩.বোর্ড বা শেয়ারহোল্ডারদের প্রয়োজনীয় অনুমোদন
প্রয়োজন
গুরুত্ব:
কোম্পানির জরুরি
ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণে সহায়ক।শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার নিশ্চিত করে।কোম্পানির স্বচ্ছতা ও আইনি নিরাপত্তা
বজায় রাখে।
১৮.বার্ষিক উদ্বৃত্ত পত্র
বার্ষিক উদ্বৃত্তপত্র (Annual
Report) হলো
কোম্পানি কর্তৃক বছরে একবার প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন, যা কোম্পানির আর্থিক
অবস্থা, পরিচালনা কার্যক্রম, লভ্যাংশ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ারহোল্ডারদেরকে জানায়।
আইন:Companies Act, 2013 – ধারা 129–134
অনুযায়ী।Companies Act, 1994 – ধারা 166–168
অনুযায়ী বাধ্যতামূলক।
উপাদান
১.পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন
২.নিরীক্ষকের প্রতিবেদন
৩.আর্থিক বিবরণী (Balance Sheet,
Profit & Loss Account)
৪.লভ্যাংশ ও মূলধনের তথ্য
৫.কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য
বৈশিষ্ট্য
১.বার্ষিক ভিত্তিতে প্রকাশিত
২.শেয়ারহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বচ্ছ
তথ্য প্রদান
৩.কোম্পানির কার্যক্রমের সঠিক চিত্র উপস্থাপন
গুরুত্ব:
শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্ত
গ্রহণে সহায়ক।কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত।আইনানুগ
বাধ্যবাধকতা পূরণ করে।
১৯.শেয়ার প্রবর্তন
সংজ্ঞা
শেয়ার প্রবর্তন (Issue of Shares)
হলো কোম্পানি কর্তৃক নতুন শেয়ার ইস্যু করা, যার মাধ্যমে কোম্পানি মূলধন বৃদ্ধি করে এবং বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব প্রদান করে।
আইন: Companies Act, 2013 – ধারা 23–62
অনুযায়ী। Companies Act, 1994 – ধারা 41–54
অনুযায়ী বৈধ।
প্রকারভেদ
১.প্রাথমিক
ইস্যু
(Initial Public Offer – IPO) – কোম্পানির
প্রথমবার শেয়ার ইস্যু
২.পরবর্তী
ইস্যু
(Further Issue) – পূর্ববর্তী
শেয়ারের পর নতুন শেয়ার
ইস্যু
৩.অধিকার শেয়ার ইস্যু (Rights Issue)
– বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রাধিকার
৪.বিনিময়
শেয়ার
(Bonus Issue) – লভ্যাংশের
পরিবর্তে শেয়ার বিতরণ
No comments