দ্রুত পশ্চাদ্ধাবন কী? ১৯৮২ সনের সমুদ্র আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর।
দ্রুত পশ্চাদ্ধাবন কী? ১৯৮২ সনের সমুদ্র আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর।
দ্রুত পশ্চাদ্ধাবন বলতে
বোঝায়
কোনো প্রক্রিয়া, অগ্রগতি বা উন্নয়ন যা পূর্বে অর্জিত অবস্থান থেকে হঠাৎ বা দ্রুত বিপরীত দিকে চলে যায়, অর্থাৎ দ্রুত পিছিয়ে যায় বা ক্ষয় ঘটে। এটি
সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়
অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি, নগরায়ন, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে।
১৯৮২
সনের
সমুদ্র
আইনের
প্রধান
বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা
কর।
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য
১.সমুদ্র সীমা ও অঞ্চল নির্ধারণ
UNCLOS-1982 আন্তর্জাতিকভাবে সমুদ্র
ব্যবহার ও
সীমা
নির্ধারণের জন্য
কাঠামো
প্রদান
করে।
প্রধান
অঞ্চলগুলো:
- টেরিটোরিয়াল
সী (Territorial Sea)
উপকূল
থেকে
১২
নটিক্যাল মাইল
(প্রায়
২২.২ কিমি) পর্যন্ত। উপকূলীয় রাষ্ট্রের পূর্ণ
সার্বভৌমত্ব থাকে।
অন্য
রাষ্ট্রের জাহাজ
নির্দিষ্ট শর্তে
প্রবেশ
করতে
পারে।
- সুনির্দিষ্ট
জলসীমা (Contiguous Zone):২৪ নটিক্যাল
মাইল পর্যন্ত। আইন প্রয়োগ, সীমানা নিরাপত্তা ও
সীমান্ত পরিদর্শনের জন্য ব্যবহৃত।
- সর্বাধিক
Economic জোন (Exclusive Economic Zone – EEZ): ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। উপকূলীয় রাষ্ট্র সম্পদের আহরণ, মৎস্য ও
খনিজ সম্পদ ব্যবহারের অধিকার রাখে। অন্যান্য রাষ্ট্র নৌপরিবহন ও
বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে পারে।
- কন্টিনেন্টাল
শেলফ (Continental Shelf):
সমুদ্রের তলদেশে ২০০ নটিক্যাল মাইল বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। তেল, গ্যাস ও
খনিজ আহরণের অধিকার উপকূলীয় রাষ্ট্রের।
২.
সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনা
প্রাকৃতিক সম্পদ
আহরণ,
মৎস্যসম্পদ ও
খনিজ
সম্পদ
নিয়ন্ত্রণ। EEZ-এ
উপকূলীয় রাষ্ট্রের বিশেষ
অধিকার
রয়েছে।পরিবেশ সংরক্ষণ এবং
স্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে
ব্যবস্থাপনা।
উদাহরণ: কোনো উপকূলীয় দেশ
EEZ-এ
মাছ
ধরা
নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে।
তেল
ও
গ্যাস
অনুসন্ধান ও
উত্তোলন শুধু
উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার।
৩. সমুদ্র সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তি
শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা:
- আলোচনা
ও সমঝোতা (Negotiation / Consultation)
- মধ্যস্থতা
(Mediation / Conciliation)
- আর্কিট্রেশন
(Arbitration)
- আন্তর্জাতিক
আদালত (Judicial Settlement)
- ইন্টারন্যাশনাল
কোর্ট অব জাস্টিস (ICJ)
- ট্রাইবুনাল
ফর দ্য ল’ অব দা সি (ITLOS)
মূল
নীতি:
বিবাদ
সমাধান
হতে
হবে
শান্তিপূর্ণ, নিয়মভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী।
৪. পরিবেশ সংরক্ষণ
সমুদ্র
দূষণ
প্রতিরোধ। উপকূলীয় ও
সমুদ্র
পারিপার্শ্বিক পরিবেশ
রক্ষা।
সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও
প্রাকৃতিক সম্পদ
সংরক্ষণ।
উদাহরণ:
শিল্প
কারখানার বর্জ্য
সরাসরি
সমুদ্রে নিষিদ্ধ। সংরক্ষিত সমুদ্র
এলাকা
তৈরি
করা।
৫.নৌপরিবহন ও নিরাপত্তাআন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত। জাহাজ, বাণিজ্য ও
নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ। pirating বা অবৈধ
কার্যক্রম রোধ।
উদাহরণ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজ
সমুদ্রপথে মুক্তভাবে চলতে
পারে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কন্ট্রোল ও
নৌ
নিরাপত্তা।
৬.বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
সমুদ্র
গবেষণা
ও
তথ্য
বিনিময়।বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, সমুদ্র
তলের
গবেষণা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নতুন
প্রযুক্তি ও
জ্ঞান
উন্নয়ন।
উদাহরণ:সমুদ্র
তলের
নতুন
খনিজ
সম্পদ
গবেষণা
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী দল
দ্বারা।
৭ প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামো
সমুদ্র
ব্যবহার ও
সম্পদের জন্য
আইনগত কাঠামো প্রদান।উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার
ও
আন্তর্জাতিক মান
রক্ষা
নিশ্চিত।সাম্প্রতিক বিবাদে প্রয়োগযোগ্য আইনগত প্রক্রিয়া সংজ্ঞায়িত।
No comments