Header Ads

Header ADS

(ক) আইনে স্বীকৃত বিভিন্ন প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কী কী? (খ) কোম্পানি কীভাবে ঐচ্ছিকভাবে বিলুপ্ত করা যায়? কোম্পানি বিলুপ্ত হলে উহার সম্পত্তি কীভাবে জামানতসহ এবং জামানতবিহীন পাওনাদার এবং শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে বিভক্ত হবে?

 

১। (ক) আইনে স্বীকৃত বিভিন্ন প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কী কী?

(খ)  কোম্পানি কীভাবে ঐচ্ছিকভাবে বিলুপ্ত করা যায়? কোম্পানি বিলুপ্ত হলে উহার সম্পত্তি কীভাবে জামানতসহ এবং জামানতবিহীন পাওনাদার এবং শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে বিভক্ত হবে?

 

(ক) আইনে স্বীকৃত বিভিন্ন প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কী কী?

আইনে স্বীকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলতে এমন সব ব্যবসায়িক সংগঠনকে বোঝায়, যেগুলো দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী গঠিত ও পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে প্রধানত নিচের প্রকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃত।

 

১. একক মালিকানা ব্যবসা

সংজ্ঞা:
যে ব্যবসা একজন ব্যক্তির মালিকানায় ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

বৈশিষ্ট্য:

১.একজনই মালিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী

২.লাভ ও ক্ষতির সম্পূর্ণ দায় মালিকের

৩.গঠন সহজ, আইনি জটিলতা কম

৪.মালিকের মৃত্যু বা অক্ষমতায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা

উদাহরণ: দোকান, সেলুন, ছোট ওয়ার্কশপ

২. অংশীদারি ব্যবসা (Partnership)

সংজ্ঞা:
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির মাধ্যমে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাকে অংশীদারি ব্যবসা বলে।
(বাংলাদেশে অংশীদারি আইন, ১৯৩২ অনুযায়ী)

বৈশিষ্ট্য:

১.অংশীদার সংখ্যা সাধারণত ২–২০ জন

২.লাভ-ক্ষতি চুক্তি অনুযায়ী বণ্টন

৩.মূলধন তুলনামূলক বেশি

৪.অংশীদারদের সীমাহীন দায়

উদাহরণ: আইন ফার্ম, হিসাবরক্ষণ ফার্ম

 

 

৩. যৌথ মূলধনী কোম্পানি (Joint Stock Company)

সংজ্ঞা:
আইন অনুযায়ী গঠিত এমন প্রতিষ্ঠান যেখানে মূলধন শেয়ারে বিভক্ত থাকে এবং শেয়ারহোল্ডাররা মালিক।

প্রকারভেদ:

ক) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি

শেয়ারহোল্ডার ২–৫০ জন। শেয়ার হস্তান্তর সীমিত।জনসাধারণের নিকট শেয়ার বিক্রি করা যায় না

খ) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি: ন্যূনতম ৭ জন সদস্য। জনসাধারণের নিকট শেয়ার বিক্রি করা যায়বৃহৎ মূলধন সংগ্রহ সম্ভব

বৈশিষ্ট্য:

১.স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা

২.সীমিত দায়

৩.স্থায়িত্ব বেশি

৪. সমবায় সমিতি (Co-operative Society)

সংজ্ঞা:
পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

বৈশিষ্ট্য:

১.সদস্যদের কল্যাণই মূল লক্ষ্য

২.গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা

৩.লাভের চেয়ে সেবা গুরুত্বপূর্ণ

৪.সমবায় আইন অনুযায়ী পরিচালিত

উদাহরণ: কৃষি সমবায়, ক্রেডিট সমবায়

 

৫. রাষ্ট্রায়ত্ত বা সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

সংজ্ঞা:
সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

বৈশিষ্ট্য:

১.মূলধন সরকারের

২.জনকল্যাণ উদ্দেশ্য প্রধান

৩.লাভের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন

উদাহরণ:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

 

৬. যৌথ উদ্যোগ

সংজ্ঞা:
দেশি ও বিদেশি বা একাধিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ মূলধনে গঠিত ব্যবসা।

বৈশিষ্ট্য:

১.ঝুঁকি ও লাভ যৌথভাবে বণ্টন

২.প্রযুক্তি ও পুঁজি আদান-প্রদান সহজ

৩.নির্দিষ্ট সময় বা প্রকল্পভিত্তিক হতে পারে

 

উপসংহার

আইনে স্বীকৃত এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির নিজস্ব সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও আইনগত কাঠামো রয়েছে। ব্যবসার ধরন, মূলধন, ঝুঁকি ও উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়।

 

(খ)  কোম্পানি কীভাবে ঐচ্ছিকভাবে বিলুপ্ত করা যায়? কোম্পানি বিলুপ্ত হলে উহার সম্পত্তি কীভাবে জামানতসহ এবং জামানতবিহীন পাওনাদার এবং শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে বিভক্ত হবে?

 

কোম্পানি কীভাবে ঐচ্ছিকভাবে বিলুপ্ত করা যায়?

ঐচ্ছিক বিলুপ্তি (Voluntary Winding Up) বলতে বোঝায়, যখন কোম্পানি আদালতের আদেশ ছাড়াই কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিজ সিদ্ধান্তে ব্যবসা বন্ধ করে বিলুপ্ত হয়।

ঐচ্ছিক বিলুপ্তির ধাপসমূহ

  1. সাধারণ সভায় প্রস্তাব গ্রহণ
    শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সভায় বিশেষ প্রস্তাব (Special Resolution) বা মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সাধারণ প্রস্তাব গ্রহণ করতে হয়।
  2. ঐচ্ছিক বিলুপ্তির ধরন নির্ধারণ
    • কোম্পানি দেনা পরিশোধে সক্ষম হলেসদস্যদের দ্বারা ঐচ্ছিক বিলুপ্তি
    • কোম্পানি দেনা পরিশোধে অক্ষম হলেপাওনাদারদের দ্বারা ঐচ্ছিক বিলুপ্তি
  3. লিকুইডেটর নিয়োগ
    সাধারণ সভায় একজন বা একাধিক লিকুইডেটর নিয়োগ করা হয় এবং পরিচালকদের ক্ষমতা অবসান হয়।
  4. সম্পত্তি বিক্রয় দেনা পরিশোধ
    লিকুইডেটর কোম্পানির সম্পদ বিক্রয় করে আইন অনুযায়ী দেনা পরিশোধ করেন।
  5. চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুত সভা আহ্বান
    লিকুইডেটর চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুত করে শেয়ারহোল্ডারদের চূড়ান্ত সভায় উপস্থাপন করেন।
  6. রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল বিলুপ্ত ঘোষণা
    চূড়ান্ত হিসাব রিপোর্ট রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিকট দাখিল করলে নির্দিষ্ট সময় পর কোম্পানি বিলুপ্ত ঘোষণা হয়।

 

পরিশেষে, এইভাবে কোম্পানি আইন অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্তে লিকুইডেটরের মাধ্যমে একটি কোম্পানি ঐচ্ছিকভাবে বিলুপ্ত করা যায়।

কোম্পানি বিলুপ্ত হলে উহার সম্পত্তি কীভাবে জামানতসহ জামানতবিহীন পাওনাদার এবং শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিভক্ত হয়?

কোম্পানি বিলুপ্ত হলে লিকুইডেটর কোম্পানির সকল সম্পত্তি বিক্রয় করে যে অর্থ সংগ্রহ করেন, তা কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে বণ্টন করা হয়।

 

সম্পত্তি বণ্টনের আইনগত ক্রম

১। বিলুপ্তি সংক্রান্ত খরচ (Winding Up Expenses):সবার আগে পরিশোধ করা হয়লিকুইডেটরের পারিশ্রমিক, প্রশাসনিক আইনগত খরচ ,সম্পত্তি বিক্রয় সংক্রান্ত ব্যয় ।এগুলো সকল পাওনাদারের দাবির উপর অগ্রাধিকার পায়।

 

২। জামানতসহ পাওনাদার (Secured Creditors)

যেসব পাওনাদার কোম্পানির নির্দিষ্ট সম্পত্তির উপর বন্ধক/চার্জ রেখে ঋণ দিয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট জামানতযুক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা আদায় করে

বিশেষ নিয়ম: জামানত বিক্রির অর্থ পাওনার চেয়ে কম হলেঅবশিষ্ট অংশ জামানতবিহীন পাওনাদার হিসেবে গণ্য। জামানত বিক্রির অর্থ বেশি হলেউদ্বৃত্ত অর্থ সাধারণ তহবিলে যোগ হয়

 

৩। অগ্রাধিকারভুক্ত পাওনাদার (Preferential Creditors)

আইন অনুযায়ী বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাওনাদারশ্রমিক কর্মচারীদের বেতন মজুরি।

সরকারী কর, শুল্ক ফি এবং  প্রভিডেন্ট ফান্ড গ্র্যাচুইটি।

 

৪। জামানতবিহীন পাওনাদার (Unsecured Creditors)

যাদের কোনো জামানত নেই। এরা সমান হারে (Pro-rata basis) অর্থ পায় ।পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে সম্পূর্ণ পাওনা পাওয়া যায় না।


৫। শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন

সব দেনা পরিশোধের পর যদি কোনো সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে, তা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়

() অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডার (Preference Shareholders)

·         প্রথমে মূলধন ফেরত

·         বকেয়া লভ্যাংশ (যদি চুক্তিতে থাকে)

() সাধারণ শেয়ারহোল্ডার (Equity Shareholders) সর্বশেষে অর্থ পায়।অবশিষ্ট অর্থ শেয়ারের অনুপাতে বণ্টিত হয়।অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার কিছুই পায় না।

 

 

উপসংহার: কোম্পানি বিলুপ্তির সময় সম্পত্তি বণ্টনে পাওনাদারদের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং শেয়ারহোল্ডাররা সর্বশেষে অবশিষ্ট অংশ পায়। এভাবেই আইন অনুযায়ী কোম্পানির সম্পত্তি ন্যায্যভাবে বণ্টিত হয়।

No comments

Powered by Blogger.