৮ । উন্নয়ন এর সংজ্ঞা দিন। কার এরূপ উন্নয়ন সাধনের অধিকার রয়েছে? জমিদার ও অকৃষি প্রজার মধ্যে অধিকার সম্পর্কিত বিরোধের নিষ্পত্তি কিভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারে? উন্নয়ন কার্য করার ব্যাপারে এ সকল ব্যক্তির মধ্যে অগ্রাধিকার আছে কী?
৮
। উন্নয়ন এর সংজ্ঞা দিন।
কার এরূপ উন্নয়ন সাধনের অধিকার রয়েছে? জমিদার ও অকৃষি প্রজার
মধ্যে অধিকার সম্পর্কিত বিরোধের নিষ্পত্তি কিভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারে? উন্নয়ন কার্য করার ব্যাপারে এ সকল ব্যক্তির
মধ্যে অগ্রাধিকার আছে কী?
উন্নয়নের
সংজ্ঞা:
ভূমি বা সম্পত্তির স্বাভাবিক
অবস্থা পরিবর্তন করে তার মূল্য, ব্যবহারযোগ্যতা বা উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি
করার উদ্দেশ্যে যে কোনো স্থায়ী
বা উপকারী কাজ সম্পাদন করাকে উন্নয়ন বলা হয়।
অর্থাৎ, জমির গুণগত মান বৃদ্ধি বা অধিক কার্যকর
ব্যবহারের জন্য যে পরিবর্তন আনা
হয়, সেটিই উন্নয়ন।
উদাহরণ: ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তা বা ড্রেন তৈরি,
পুকুর খনন, জমি উঁচু করা ইত্যাদি।
উন্নয়ন সাধনের অধিকার কার রয়েছে?
উন্নয়ন সাধনের অধিকার প্রধানত নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের রয়েছে—
১) জমিদার (ভূমির মালিক)
জমির মালিক হিসেবে জমিদার তার নিজস্ব জমিতে উন্নয়ন কার্য করতে পারেন। তবে যদি জমিটি বৈধভাবে কোনো অকৃষি প্রজার দখলে থাকে, তাহলে প্রজার দখল ও চুক্তিগত অধিকার
ক্ষুণ্ণ করে উন্নয়ন করা যাবে না।
২) অকৃষি প্রজা
অকৃষি প্রজা তার দখলকৃত জমিতে উন্নয়ন করার অধিকার রাখেন, যদি—
·
তা
বন্দোবস্ত বা চুক্তির শর্তের
পরিপন্থী না হয়,
·
জমির
মূল কাঠামো বা মালিকের স্বার্থের
গুরুতর ক্ষতি না করে,
·
এবং
আইনবিরোধী না হয়।
এই অধিকারসমূহ প্রধানত The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে।
অতএব, জমির স্বত্ব, দখল এবং আইনগত বিধান অনুযায়ী জমিদার ও অকৃষি প্রজা—উভয়েরই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে উন্নয়ন সাধনের অধিকার রয়েছে।
জমিদার
ও অকৃষি প্রজার মধ্যে অধিকার সম্পর্কিত বিরোধের নিষ্পত্তি কিভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারে?
জমিদার ও অকৃষি প্রজার মধ্যে অধিকার সম্পর্কিত বিরোধের নিষ্পত্তি যেভাবে সম্পন্ন হয়—
জমিদার ও অকৃষি প্রজার
মধ্যে উন্নয়ন, দখল, ভাড়া, উচ্ছেদ বা অন্যান্য অধিকার
সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায়
নিষ্পত্তি করা হয়। প্রধানত নিম্নলিখিত উপায়ে বিরোধের সমাধান হয়—
১) দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে
বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষ দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে। আদালত—
·
উভয়
পক্ষের স্বত্ব ও দখল পরীক্ষা
করেন,
·
চুক্তির
শর্ত যাচাই করেন,
·
প্রযোজ্য
আইন অনুযায়ী রায় প্রদান করেন।
২) প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুসারে
এ ধরনের বিরোধ সাধারণত The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়। আদালত উক্ত আইনের বিধান অনুসারে প্রজার অধিকার, উচ্ছেদের বৈধতা, উন্নয়নের অনুমতি ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।
৩) আদালতের প্রতিকার (Remedy)
আদালত প্রয়োজনে—
·
নিষেধাজ্ঞা
(injunction) জারি করতে পারেন,
·
অবৈধ
স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিতে পারেন,
·
ক্ষতিপূরণ
আদায়ের আদেশ দিতে পারেন,
·
অথবা
প্রজার দখল রক্ষা করতে পারেন।
অতএব, জমিদার ও অকৃষি প্রজার
মধ্যে অধিকার সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আইনানুগভাবে আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
উন্নয়ন
কার্য করার ব্যাপারে এ সকল ব্যক্তির
মধ্যে অগ্রাধিকার আছে কী?
হ্যাঁ, অগ্রাধিকার আছে; তবে তা নির্ভর করে
জমির স্বত্ব (ownership),
দখল
(possession) এবং
চুক্তির শর্তের উপর।
অগ্রাধিকার নির্ধারণের নীতি
1. অকৃষি প্রজা (দখলাধিকারী)
যদি
জমি বৈধভাবে অকৃষি প্রজার দখলে থাকে, তবে সাধারণত উন্নয়ন কার্য করার ক্ষেত্রে প্রজারই অগ্রাধিকার থাকে।তবে উন্নয়নটি চুক্তির শর্তবিরোধী বা আইনবিরোধী হলে
তা করা যাবে না।
2. জমিদার (মালিক)
জমির
মালিক হিসেবে জমিদারের মৌলিক স্বত্ব থাকে।কিন্তু জমি যদি প্রজার বৈধ দখলে থাকে, তাহলে প্রজার দখল ও ব্যবহার ব্যাহত
করে জমিদার উন্নয়ন করতে পারেন না।প্রজা চুক্তিভঙ্গ করলে বা অবৈধ উন্নয়ন
করলে জমিদার আপত্তি জানাতে পারেন।
আইনি ভিত্তি
এ বিষয়গুলো প্রধানত The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 অনুযায়ী নির্ধারিত।
সারসংক্ষেপ
অতএব, উন্নয়ন কার্য করার ক্ষেত্রে দখলাধিকারী প্রজার বাস্তবিক অগ্রাধিকার থাকে, তবে তা আইন ও
চুক্তির শর্তের অধীন। মালিকানাগত কারণে জমিদারেরও নিয়ন্ত্রণমূলক অধিকার বজায় থাকে।
No comments